পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সদ্য আইসোলেটেট প্রনয়ীর লিপি

ছবি
আনশেভড গাল, চিবুক ছাড়া কাঁটাখোঁচার জন্ম এখন আর বিশেষ কোথাও নেই। নেই  পথ বুকে আগলাবার তোমার কোমল কোমলতর কত কিছু! বেকার ঝিমোতে থাকা কাঁধটা কারও তরে রিনরিনিয়ে কেঁদে যায় শুধু... পরম অযোগ্যতায় বর্ধিষ্ণু দূরত্ব ছাড়া আর আমার বেশী কি পাওয়ার থাকে? পাওয়ার থাকতে পারে! যে ভাঙে, সেই গড়ে ;কাছে আসতে পারে ... এ তত্ত্বদর্শন বস্তুর ক্ষেত্রে খাটে অবশ্য, মনের ক্ষেত্রে নয়! জুড়বার মতো প্রিয় বিষয়ের অভাব তোমার নেই এ সদাসত্য । তোমার সবকিছুর মতো আমিও আমার কাছে এখন আরও স্পষ্ট ; অবহেলা করতেই পারো ... তা ওপরে আর রক্তাক্ত করেনা! গাত্রহরিদ্রার আয়েশ জাগে না... আবিশ্বের শঙ্কারা আজ জোটবদ্ধ ; তবে ভালোবাসায় নয়। এ সত্য! 'মরিতে চাহেনা তারা এ সুন্দর ভুবনে... ' তাই ঝরতে তাদের হবেই! জানলা আমার খোলাই আছে, আঁধারের সাথে কত যে কথা আছে বাকী! আর আসার তো কেউ নেই বলে দরোজায় সজোর খিল আঁটা ... কলম আজ ক্রাচে পরিণত, যে ওষ্ঠেরা ছিল তোমার সঞ্জীবনী সুধা একদিন...! তাদেরই খুঁড়োবার ভার নিয়েছে সে কাঁধে। ভালো থাকার কলিরা, গানেরা স্বভাবতঃ আর আমার কথা আঁকেনা ! আকাশে উড্ডীন নীল খামের পত্রগীতিদের ...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৪

ছবি
বসন্তের সারা গা ভয়ের রক্তে ভেসে যাচ্ছে। অশনি সংকেত নীরবে শুষে নিচ্ছে পন্ড হয়ে যাওয়া ফাগ পরবের রঙ গুলোকে। ভয়ের বিপ্রতীপে আজ আর ভক্তি নেই। তিকোণ প্রেমের এক বাহু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। অবহেলার টিলা গুলোর মাথায় দু'এক মুঠো যত্ন-কুসুমের জন্ম হচ্ছে! এখনো কিছু চাঁদাখোর মজাকিয়া ইতিউতি পথের কাঁটা হয়ে বাঁচছে। আগাছারা গাছ নয় ; ওরা অনন্তও নয়। তাই তোমার অপেক্ষমান চোখ গুলোর সাথে দেখা হওয়া সময়ের সাজ-বিলম্ব মাত্র। তুমি ভাবছো, আমি ভাবছি, সবাই ভাবছে 'এত সময় নেওয়ার কি আছে! '       কিন্তু, যখন দেখা হবে বুঝবে কী সে সাজ, সৌন্দর্য, সৌরভ, সমৃদ্ধি ... !       ' উমত সবরো পাগল শবরো মা কর গুহাড়া গুলি।       তোহৌরী নিঅ ঘরিণী ণামে সহজ সুন্দারী।। '                                     (২৮ সংখ্যক চর্যাগীতি)        পূর্ব ক্রমণের নাম ছিল ' বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা' ; যেহেতু ঘৃণার বিপরীত টানের কথারা এ পর্বেও চিরঞ্জীব। ক'দিনে সময়ের তরঙ্গ কম্পন যথেষ্ট বেগালাম। তাছা...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৩

ছবি
বিরহ বলো কিম্বা মাথুর ; আসলে ওরা ভালোবাসাতেই বাঁচে। একজন শেষ করে গেলেও আসলে শেষ হয় কি! একা অন্যজন অনেক অনেক বেশি কাঁদা, হাসা, আশা, ভালো চাওয়ার সুযোগ পায়। আর যদি দুই তীরই বেমালুম সব ভুলে যেতে পারে; বন্ধু, ওটা অন্য কিছু ছিলো; প্রেম নয়। এ পর্বে কালোর গায়ে লেগে থাকা আলোক বিন্দুদের গ্রহমুক্তির একপ্রস্থ চেষ্টা করা গেল! ৪১ আমি শ্রেষ্ঠ নই। তবু যে আমার হাতে  হাত রেখেছো! এ ঋণ অশোধ্য। ৪২ তোমার সাথে থাকলে, আমি পঙ্খী না পতনশীল ... ঠিক বুঝে উঠতে পারি না! আমার পায়েরা তখন আর মাটি ছোঁয় না ; এতটুকু বুঝতে পারি শুধু ... ৪৩ শুদ্ধতর প্রার্থনা ব্যর্থ হলে, ভাগ্যহীন তুমি নও; সে! ৪৪ কখনও কখনও সব দুশ্চিন্তা গুলোকে প্রবল দুশ্চিন্তায় ফেলে ... চোখ বন্ধ করে হৃদয়ের পথে চলাই ভালো! ৪৫ আমৃত্যুর কথা জানি না। কখনো আমি ভালোবাসার অযোগ্য হয়ে পড়লে ... আমায় বলেই যাবে! কথা দাও। ৪৬ আমি ঈর্ষক আমি উন্মন আমি উন্মাদ আমি চিন্তাগ্রস্ত আমি জিজ্ঞাসু আমি প্রবল ভাবে শিশু হয়ে পড়ি কখনো কখনো ... তোমার জন্য! কি করি বলো তো! তোমার জানাশোনা কোনো হস্টেল জানা আছে? ঠিক চোখাচোখি তোমার বাড়...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ২

ছবি
মিলন আর বিচ্ছেদ দুই অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। একই শাড়ির দুই পাড়। এক মাটিতে উদ্ভিন্ন, একই স্রোতের স্নাতক। এ পর্বের কলি গুলোর বেশীর ভাগেরই অক্ষিকোণ ব্যথার বাদলে রঞ্জিত।আর কথাগুলো নিতান্তই ধূলি ধূসরিত এসময়ের। তুমি চাইলে ধূলো ঝেড়ে, তোমার কোলের,  কাছের করে নিতে পারো! তবে, এদের যোগ্যতাই বা আর কত! ৩১ জানি আমি বিরাট কিছু নই! আমাকে ফিরে যেতে দাও... বোঝো কি, আধ খানা ভালোবাসা কতটা জ্বালায়! ৩২ -'বাইক না গাড়ী? ' - 'চলো না, হাঁটি! ' মাখন-রঙা শমিত স্মিতি আলিঙ্গনে ঘিরে ফেললো চারপাশ! ৩৩ বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করলো, 'ভাই, জীবন কেমন চলছে? ' উত্তর এলো- 'ও তো খুব ভালো আছে! ' ৩৪ খুউব শক্ত করে ডানা গুলো মুচড়ে, চোখ, নাক, মুখ চেপে ধরো ... ও যে মারা পড়বে! কিম্বা, অবহেলার অভ্যেসে আলতো ধরে রাখো, ও তো পড়ে যাবে, উড়ে যাবেই! যদি যত্নে জড়িয়ে রাখো সম্মানে, শুশ্রূষায় বাঁধো ... পাখি হোক বা সম্পর্ক কখনো ছেড়ে যাবে নাকো। ৩৫ কিভাবে একা বাঁচতে হয় শুধু এটা শেখাতেই কিছু মানুষ জীবনে আসে।  ৩৬  এখন কিম্বা যখন হোক বুঝতেই হবে 'তুমি আসলে কেউ নও, কিস্যু নও!...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা

ছবি
এ লিপিকা-গুচ্ছ আজ ও অতীতের প্রেমিক-প্রেমিকাদের হয়ে লিখিত।সম সময়ের উতল  হাওয়ায় উল্টে পাল্টে যাওয়া সম্পর্কের রশি।থরো থরো কথালাপ। অসংহত, অসংযত এলোমেলো কলাপাতার কিনারার মত গতি এদের। বসন্তের গায়ে  বহুবর্ণ বসন এখন। সব ভাব ভাবনা শেষতঃ থিতোয় মধুরে, শমে। এ পর্ব অকপট আখরে লিখিত। ভালোবাসাহীনতার কলমে ভালোবাসার কথা। ১ এতটা ব্যস্ত রও যাতে দুঃখ স্মরণের সময়ও না থাকে! ২ সুমন সুমনারা অঙ্কে বড্ড কাঁচা হয়। ৩ জীবন আলোক প্লাবিত হোক এ আশায় তোমায় আশা করি না। আমি চাই তুমি অন্ধকারে আমার একান্ত পাশে থাকো। ৪ আমি কেন ফিরে এলাম? তুমি যে থাকতে বলো নি; একবারও! ৫ ভালো মানুষ সর্বদা স্মৃতিতে থাকেন দুর্দান্ত মানুষ সদা স্বপ্নে থাকেন আর দ্বায়িত্বপ্রবণ মানুষ? সর্বদা হৃদয়ে বাঁচেন। ৬ কোনো হৃদয়কে বুঝতে হলে - সে যে ঝড়ের ভেতর দিয়ে আসছে আগে তা অনুভব করা উচিত । ৭ যখন তুমি কারো হয়ে নির্নিমেষ প্রার্থনা করো ; আসলে তুমি তোমার খাঁটিতম ভালোবাসাটাই বাসছো! তখন। ৮ গতকালের ঝঞ্ঝা যদি আজকের সম্পর্কে দাগ না আনে... খুব দামী নিগড় এটা। ৯ ছেলেমানুষের মতো ডানা-ঝাপটানি, তোমাকে এ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৬

ছবি
অযুত আশা দুরাশাকে ঠেলে , ইচ্ছে করে যখন বেঁচে থাকবো ভাবি ; ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে ঠা ঠা মরুভূমি হয়ে উঠতে থাকি আর জীবনের রশি ও রাশটাকে অসহায় ভাবে আলগা করতে ক্রমশ দূরে সরে  যেতে থাকি। তখন তোকেই চাই। শুধু তোকে। তুইই একমাত্র পথ, উপায় ও সহায়!                        জল। তোর আনন্দে ঝরার দিনে...  তোতে ভেজার বেজায় আনন্দে মাতি; তুই যখন সহায়, সম্বিৎ, সীমা ছাড়িয়ে বন্য বন্যায় দুষ্টের সংহার-কল্পে দুর্দম গতিতে সর্বৈব ছাপিয়ে...  শাসন করতে করতে এগোতে থাকিস; কখন স্রোতের খড়কুটো কখনওবা সঙ্গী শৈবাল হয়ে অনন্তের ধ্যানে মাতি। কখনো কখনো তো বিষম অপহ্ণুতি! তোর পাশে নিজেকে নদ বলে ভাবতে শুরু করি! প্রখর প্রণয়ী যেন! অল্প পরেই তোর প্রবল এগিয়ে যাওয়ার পর...  মৃত্তিকার পদ লেহন!  পরজন্মের আশায় তথঃ বিয়োজন শরণম...!     পরম মমতায় সভ্যতার লালনেই তোর  পরিচয় ; বন্যা তোর শাসন আয়ুধ,  তোর সর্বসত্তা নয়। তোর কারণেই ধরিত্রী শস্যশ্যামলা, প্রাণময়। প্রতিটি জীবন, প্রতিটি আকাঙ্খা তোর নির্ভরেই লালিত। আমিও সবার মতো তোকে অর্থাৎ জীবনকে...