পোস্টগুলি

2022 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আই-লাইনার্স ৪

ছবি
 ৩১  আমি তোমার শল্করাশিমধ্যে এক নিমজ্জমান ,  শীতের খুঁটে লেগে থাকা করুণ কোনো গান।  ৩২  চলা সহজ, থামা কঠিন। থামতে চলি?  বলা সহজ, ভোলা কঠিন। ভুলকে ভোলাই! ৩৩ কেঁদে লাভ নেই, দুঃখে লাভ নেই ... লাভ তো শুধু অপ্রাপনীয়াকে ভালোবেসে ! ৩৪  তোমার বার্তা-দীপ আর আমার পানে চায় না, 'কোনো বার্তা নেই' এটাই তো বড়ো বার্তা। ৩৫  ভেজা চোখ নিয়ে ঘুমোনোর মরিয়া চেষ্টা... এ লড়াই একপাক্ষিক, একান্ত অনুপম সংগ্রাম। ৩৬ একটা নদী দৌড়ঝাঁপে অল্প একঘেয়ে হয়েছিল।  আমার বাঁকে তার মুহূর্তের থমককে প্রেম ভেবেছিলাম! ৩৭ নব সবুজ হাত আর গহিন মনের অনন্ত বিথারে ,   আমার হীনছায়াদের মরে যেতে দাও, প্রভু!   ৩৮ পঙ্খী, অনন্ত আকাশ তো তোমার নামেই ছিল;  নীড়েবন্দী নয়, তোমার সঞ্চরনই চাইতাম। তবু... ৩৯ তোমার ফেলে যাওয়া আমায় অন্ধ করেনি ;  বুঝিয়েছো তোমার উচ্চাসনের ব্যবধান ...  ৪০ ফিরিয়ে আনবো কিসের জোরে, অধিকারে? হে চলিষ্ণা, তোমার চলচিহ্ন তো আমার হৃদয়ের রসকলি। 

আই-লাইনার্স ৩

ছবি
 ২১ তুমি ভালোবাসতে জানো । আর আমি জানি মনে রাখতে। একটা ভালো দুর্ঘটনা ঘটতেই পারতো । বলো ?  ২২ আমি বলি যাপন , তুমি বলো ব্যাধি - তুমি চেষ্টা গুলোকে কাটো, আমি বাঁধি আঁটি । ২৩ কনকচূড়োর ওপার হতে প্রতিধ্বনি ফেরে -  কে চেয়েছে তোকে ? তোর সবেতেই বেশী বেশী! ২৪ মনকে আর আটকাই না, বোঝাই না -  যা ইচ্ছা কর। নিজে মর, আর আমাকেও মার! ২৫ সিক্ত আঁখিকোণ যখন তখন ... আবার কখন ঐকিক হাসি। একাই ভালোবাসি ! ২৬  অবহেলাকে প্রেম ভাবি, বিরক্তিকে যত্ন।  তুমি ব্রাত্যের বেদবাক্য ;আর আমি তো একটা রত্ন!  ২৭  প্রত্যাখানের শোকের নামে একটা জোঁক পুষেছি,  আমায় রক্তাক্ত করে মারে, তবু যায় না সরে!  ২৮ তোমার হাসিতে জিতে যাওয়া সাম্রাজ্যকে গুলো আমায় ব্যঙ্গবিদ্ধ করে। তোমারি আদেশে ? ভালো! ২৯ ভালোবাসা অলিখিত অদৃশ্য শ্রুতিকাব্য,   কিছুই মানো নি ; তাই নাস্তিক হতে পেরেছো। ৩০ তোমার প্রিয়ের ভিড়ে একমাত্র আঁধার আমি;  অগননের আলোর আভায় করেছো অস্তগামী।

আই-লাইনার্স ২

ছবি
 ১১  এ সব আন্তরিক অভ্যাস না ভদ্রতা ? এ রমনীয় শিল্পখর্চা বন্ধ করাই ভালো। ১২ হ্যাঁ , আমি ভালোবাসি। মনবিরূদ্ধ ভদ্রতাটা কি ছিল খুবই জরুরী ? ১৩ নাগালে রেখেছো। মনেতে রাখোনি । এ কী রকম প্রতিশোধ শুনি ! ১৪ আমার দর্শন, স্পর্শ, নৈকট্য সবই ঘৃণ্য। এ স্বর ? দেবতাহীন দৈববাণীর কি দরকার?  ১৫  তোমায় অতল ভালোবাসি বলে - অস্বীকারকে স্বীকার বলে চালিয়েই যাবে ? ১৬ শীতমৃত্যু কি অনন্ত ? রক্তাক্ত-যন্ত্রনা কেন থামে না ? হে প্রেম , আমার আপ্রাণ আর্তনাদকেও মৃত্যু দাও ! ১৭ না বক্ষলগ্ন অশ্রুযাপন ,না নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসের তান; দূরত্বশিল্পকে আর কী কী নামে ডাকবে ? জান!  ১৮  উন্মন অনন্ত নিষ্ঠুর আদুরে বিকেল গুলো ...  তোমার ইন্ধনে আমায় নিয়ে ছেলেখেলা করে!  ১৯ 'বুড়োবয়েসী ছেলেমানুষ' বলেই চলে গেলে ? রোগের উপসর্গ ধরিয়ে মরিয়ে ফেলেই গেলে !  ২০ তোমায় ভুলে যাবো কিম্বা তুমি আমায় মনে নেবে -  কেউই কাউকে কোনো কথা বা পাত্তা কিছুই দিইনি ! 

আই-লাইনার্স

ছবি
১ বিমুখের সাথে অশ্রুপরিণয় - অসম্ভব রকমের অসম্ভব।  ২  মৃয়মানকে জীবাশ্ম বোঝানো ?   জীবন , কতোই রঙ্গ জানো!  ৩ প্রণয় কাব‍্যনাট‍্য বটে ; বিচ্ছেদে সার্থক।  ৪ অবহেলার এক রঙ, এক অর্থ -  এক ব‍্যঞ্জনা ... যাও নীরবে সরে যাও।  ৫ অন্ধ ঋষভের মতো হৃদয় খুঁড়ে  অশ্রু উদগীরণ; অহেতুক অভ‍্যাসমাত্র।   ৬ ভরসাযোগ্য নই বলে আত্মহনন করবো? অন্তিমশ্বাস অবধি টিকে তোমাকেই দেখবো। ৭ নিজের দোষে হারানোর হাহাকার -  নিছক দুঃখবিলাস ছাড়া আর কি হতে পারে! ৮ সরিয়ে যাওয়া সহজ, সরে যাওয়া নয়; পিছল পিছড়ের কথা আর ভাবা কেন! ৯ প্রেম তো  এক অনন্য ঐশ্বরিক ঢেউ, সবাই ফিরতে পারেনা। বালির হয়ে রয়ে যায়! ১০  হিরণ্য অন্তের দিন হেমন্ত, ঝরণ্যযোগ্য আর নতুন করপর্নের সহাবস্থান। 

শরণৈ

ছবি
|| আলোকপুরুষ  একটা ঘুরঘুট্টি ঘর, তার একটি মাত্র দরজা !  দরজা দিয়ে জন্মকালে ভেতরে প্রবেশ করলো একটা পোকা-মাকড়, বা একটা পশু, কিম্বা একটা হোমো সাপিয়েন্স । জীবনের চক্রানুসারে  অস্তিত্বের জন‍্য সংগ্রাম,  উদরপূর্তি, জৈব ফুর্তি   আরো কিছু খুচরো খাচরা কর্ম  ... আঁধারে আঁধারে যাপন সেরে ; সেই ঘুরঘুট্টি ঘর থেকে শব নিষ্ক্রমণ ... আলোকহীন অন্ধবন্ধ জীবন। যে জীবন - কেঁচো, শ‍্যাওলা , হাতি, তিমি  কিম্বা শিক্ষাহীন মানুষের।  তুমি না থাকলে  চোখ-মনের জানলাহীন;  পূর্ণ আলোকহীন হয়ে রয়ে যেতো কতো কোটি  বাঙালি-বাঙালিনী !  তুমি এক অন‍্য সাগর ; নদী নালা উজিয়ে দুয়ারে দুয়ারে আলোর কুঁড়ি ছড়িয়েছো।  একরোখা মেরুদন্ডী , আর্তের উচিৎ উপকারী , বল্লালী বালাইর একান্ত উপশম ,  বর্ণান্ধের বর্ণপরিচয়।  তুমি।

রুমির বাগিচা হতে ২

ছবি
তোমার হৃদয় হতে চূয়ত এক বিন্দু নিধি অঞ্জলি-বদ্ধ করপূটে ধরে নিতে দাও। হবে না অথির ,অস্বস্তি-বতী তুমি। এতে কারো চঞ্চুতে শিস্ , কন্ঠে সুধার জন্ম হবে! তোমার কি খুব খারাপ লাগবে? বলো?

কিশোরীকন‍্যের জন‍্যে ...

ছবি
 কোল কন‍্যের ভীষণ অপছন্দ। 'থাকবে নাকো বদ্ধ ঘরে'!  ঝড় জল কিম্বা ঝাপটা , মাথা ভিজিয়ে  বাহিরে  দু'হাত তুলি খেয়াল খুশির কলি গাইবেই গাইবে ... !  সে।  খুকি ঘোমটায়  আধো উন্মুক্ত মুখাবয়ব ... কী অপরূপ অপূর্ব মুখ!  পলক অপলকের কথাকলি, বিবশ আহ্লাদধারা ;  তার স্মিতাভা যেন  প্রাকসন্ধ‍্যার  নতুন সন্ধ্যামনি !  অযুত ছেলেমানুষী টুংটাঙের গায়ে  অশেষ‍্য আলপনার আলাপন ... পটভূমিকায় প্রখর প্রেমবৈচিত্ত‍্য! বেহায়া বৃষ্টির সাথে, বেপথু নৈশদৃষ্টির সাথে - অদৃষ্টির সাথে লড়ে ... যে কয় বিন্দু অমৃত সময় ছিনিয়ে আনা গেল - অমূল‍্যনিধি মম।  অসুর কিম্বা প্রেমিক যে যা বলে বলুক।  আলতো আলিঙ্গনের ননীকোমল স্পর্শানুরাগ ... সমগ্র সত্বা সম্বিতকে  কোন স্বর্গীয় স্রোতে  যেভাবে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ...  'আলো মুঞি জানো না।'  হে অনন্ত , তুমি সব সংজ্ঞা, ব‍্যাখ‍্যা ,বর্ননার অতীত। তুমি অন‍ন‍্য ; তুমি একমাত্র।  আমি কথনশক্তিহীন তুচ্ছ প্রণয়ী;  অপার অভিভূতি ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা নেই আমার।  হে দেবী, যখন তুমি মৃৎলগ্না ... আমার তরে কিশোরীকন‍্যে রূপ...

রুমি বাগিচায় পুনর্বার

ছবি
 আবার রুমির রচনার সাজি হতে এক গুচ্ছ  প্রেম-গন্ধী গোলাপকে অনুবাদের চেষ্টা করলাম। রুমির কবিতায় ঈশ্বর বা প্রার্থিতের কাছে পৌ‍ঁছবার এক ও অনন‍্যমাত্র পথ হলো - প্রেম।  বিশ্ববন্দিত পার্সি কবি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি (জন্ম ৩০ সেপ্টেম্বর ১২০৭, মৃত্যু ৩০ ডিসেম্বর ১২৭৩)। রুমি নামেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত। আইনবিদ‍্যা, ধর্মতত্ত্ব , সমাজবিদ‍্যা, শিক্ষা প্রভৃতি বিচিত্র বিষয়ে তাঁর অসীম অবদান থাকলেও, বিশ্ববাসী কবি হিসেবেই তাঁকে মনের মনিকোঠায় স্থান দিয়েছেন। রুমির কবিতার পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা অতীন্দ্রিয়বাদ , সুফীয়ানার শুভ্রতা ,অধ‍্যাত্ম দৃষ্টি এক অননুভূতপূর্ব প্রেমের নিগড়ে ঈশ্বর ও মনুষ‍্যকে অপরূপ বন্ধনে বাঁধে। অবলীলাক্রমে তিনি ঘুচিয়ে দিতে পারেন ঈশ্বর ও প্রেমিকের সব বিধুর দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব।  এ অনুচিকীর্ষায়  কোলম‍্যান বার্কস ও জন মোনের অনূদিত 'দ‍্য এসেনসিয়াল রুমি' , দীপক চোপড়া সম্পাদিত 'দ‍্য লাভ পোয়েমস্ অফ রুমি', কবীর হেলমেনস্কি সম্পাদিত 'দ‍্য রুমি কালেকশন'  প্রভৃতি গ্রন্থাদির ঋণ অপরিসীম। ১৬  'আমি তোমায় ভালোবাসি' -এই কথা বলতে একটুও ভয় পাইনে।  তুমি বলবে -  'তুমি আ...

হে সর্বসত্তা , তোমাকে

ছবি
 হে জীবন,  হে পৃথিবী -  তুমি যে আমাকে ভালোবাসতে চাওনা ; এতে আমারই অবদান সর্বাধিক।  আমার অক্ষমতা , সীমাবদ্ধতা, অপারগতা , ছেলেমানুষি, অবিবেচক নাবালকপনা ... তোমার এ ঘৃণা , অবজ্ঞা , তুচ্ছতা  আমারই কৃতকর্মের ফলশ্রুতি।  হে সর্বনিয়ন্তিনী।  জানি আমার শুভকামনা বড্ড অদরকারী ; বেমানান !  বিব্রতিকর ঘ‍্যানাঘানানি ...  তবু, আরও দুর্বার গতিতে, মোহনীয় অভিব‍্যক্তিতে , যতো অপ্রাপ‍্য অর্জনে ... সব অসম্ভবের বাঁধন ভাঙতে ভাঙতে চলো ,এগিয়ে চলো ...।  শৃঙ্গতরুণী।  হে কলস্রোতা -  কাছে আসবে,  দেখা হবে, কথা হবে ... কিন্তু, সেই তুমি - বিদ‍্যুল্লতার একান্ত আভরণ ... সেই মুখ ফিরানো তোমাকে ; একান্ত সাধনে সেধে যেতে  হবে শুধু ; আমৃত্যু ... হে আরাধ‍্যা, অনন্ত অন্তর্গত অশ্রুতে সদা সিক্ত রেখেছো আমায় ; আর কী চাই আমার!  হে রত্নতরঙ্গমালা -  তোমার ভুলে যাওয়া, ছেড়ে যাওয়া, ফেলে যাওয়া ...  আমার চাওয়া-না চাওয়ার বস্তু ছিল না। কখনো। তুমি এতে ভালো আছো , নির্ভার গতিদীপ্তিময় আছো ... আর কী আছে চাওয়ার আমার।  হে সিন্ধু, তোমার যতটা সময়, দয়া, দাক্ষিণ‍্য ...

সবার মাঝের সামাজিক ; তোমাকে

ছবি
ইচ্ছাডানার ভরে  যেখানে ইচ্ছা ঘোরো , বেড়াও; সাধ‍্যমত। সত‍্যি ভালোবাসায় সিক্ত রও। সতত। ভালোলাগায় , ভালো কর্মে, ভালো যাপনে বাঁচো। যথাসম্ভব। শুধু  দশকানের দেখনদারি ,  দশদিক খোলা আদিম হাটে   নিজেকে উন্মুক্ত কোরোনা।  ঐ দু'বিন্দু জোনাক-জ‍্যোতির   বুদ্বুদ কী দ‍্যায় ?   অতি নশ্বর আলো মাত্র।  নেট ফুরোনো নেটাগরিক; সৌভাতৃত্ববোধের  ভাইরালি রন্ধন ... জ্বর বা ভাইরাস কেউই  খুব একটা দীর্ঘায়ু নয়। জনতা , জনসমাগম আদতে সব ভালোকে অতি দ্রুত উপদ্রবে বদলে দ‍্যায় ... তোমার ভালো সর্বৈবকে ধ্বংস করে।  তাই না ব‍্যাখ‍্যা, না জবাবদিহি, না বিজ্ঞাপন।  হাঁটো , দৌড়োও , পড়ো - ওঠো , ওড়ো ...  তোমাতে লুকানো  খুর, ডানাকে কাজে লাগাও, বরং ।  

আবিষ্কার-গাথা

ছবি
  যত্নপুরীর এক অনাবিষ্কৃত  অঙ্গরাজ্যের সাথে   হঠাৎ দেখা হলো।  এক বিবশ বিনম্র গোধূলী বিকেলে !  কী অসম্ভব আদুরে, তন্বী, দীপ্র এক রাজ‍্য ! পেলব সমুদ্র, চিরসবুজ বনানীর তীক্ষ বাঁক,  মসৃন ননীর বিস্তীর্ন সমভূমি , অযুত মোহনী  মায়াঘন পাহাড় টিলা ছুঁয়ে ;  জগৎসেরা অযুত ভাস্কর্য আলতো এড়িয়ে ... সুবাধ‍্য অভিযাত্রী যখন সুললিত পুষ্প কাননে পৌঁছোবার ঈর্ষাছড়ানো দীর্ঘ , সন্ধ্যাভাষার পথ পেরিয়ে এগোতেই থাকে ... তখনই হঠাৎ দেখা ; অল্প বাধা আর অঢেল আদুরে  এক দীপ্ত দেশের সাথে ... যার সসম্মানের পর অনুমতি  বর্ষিত হয়  স্বর্গের আরও অসীম উন্মন আনন্দের  সাথে পরিচিত হওয়ার ... তোমার তীব্র তরুণী চিবুক !  এত দিন কেন দেখা হয়নি... কতো শত আক্ষেপ ,অতৃপ্তি ভুলে  অঝোর অনিমিখ চেয়ে থাকা।  শুধু চেয়ে থাকা ...  অপূর্ব এক অভিভূতির  প্রসন্ন প্রসব প্রত‍্যুষ !

এক পশলা সংলাপ

ছবি
  এক পশলা সংলাপ সারিয়ে দিতে পারে  গভীর গহনে ছড়ানো যতো                                ক্ষত। কিংবা হতে পারে - ঝড়, ঝঞ্ঝা ,বিভেদের জন্ম ।  কলহের ওপর দিয়ে কথনকে  হেঁটে যেতে  দাও।  স্তিমিত গলায়ই না হয় বলো -  অমত, অপছন্দ, অনিচ্ছা, ঘৃণা, বিচ্ছেদের কথা।   ঈষদুচ্চ স্বনের চিৎকারও  একজনকে বোঝানোর জন‍্য অনেক অনেক বেশী।

অশুশ্রুষ‍্য

ছবি
 একদিন ঠিক হয়ে যাবো -   সুস্থ ; কিংবা   কফিনে পেরেক-বদ্ধ। স্বাভাবিক। তুমি আসবে ,যাবে  ঘৃণাবে, অবহেলাবে, তুচ্ছোবে ...  নিয়মিত।  তবু মরে যাবো না।  মননের তন্ত্রে তন্ত্রে , কামনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ... দীর্ঘশ্বাসে আকীর্ণ এক বন্দী হয়ে পড়ে রইবো ! একা! যাতনার রক্তপ্রবাহে সদাজীবিত।  রবোনা সুস্থতা বা সমাধির তরে অপেক্ষমান। শুশ্রূষা ? শুশ্রুষা পাওয়ার অধিকার অর্জন করতে হয় !  আরোগ‍্য আর অন্তকালের মাঝে  বেদনায় সিক্ত এক  অনন্ত তান সদা বাজে  ...   নটরাজ্ঞী , তোমার সৃজন-লয়ের পদতানে  শয়নে স্বপনে জাগরণে  অদৃশ‍্য অঙ্গুলী হেলনে জাগি। বাঁচি । বেঁচে আছি ...  সুধন‍্যাকে ধন‍্যবাদ না জানানোই শ্রেয়;  জানানোর যোগ্য হতে হয় !

কণা-কাহিনী

ছবি
বালির ওপর বিছানা সাজিয়ে বসে আছি ; সজ্জা সাংসারিক! না স্নেহ , না সুরক্ষা ,সৃজনে  সাধনে  সেভাবে সক্ষম হলাম ;  না হতে পারলাম প্রেমিক; না পিতা!  ঝড়ের তোড়ের , তাপনের, ঝরনের আবহবিকারের মুখে নিজেকে সঁপে দিয়ে বেমালুম ,বেআব্রু বসে আছি।  বিবশ বালির সাম্রাজ্যের এক অবাধ‍্য কীট। নড়ন চড়নহীন ...  নশ্বর বুদ্বুদ ।  পাথর শিলা পলল জীবাষ্মের বহুভগ্ন কণা ... সমুদ্রতীর ,মরুগাত্রের ক্রীতদাসানুদাস । না প্রেমিক , না পিতা  এক না-মানুষ ।

তুমি নেই বলে ...

ছবি
১ ব‍্যথাহীন মানুষ, জীবিত নয় ; শব ।  ঘৃণা , ভালোবাসা বেদনার দুই অমোঘ রঙ। আমি ঘৃণায় জীবিত।  তুমি ভিনদেশী ঝর্ণা!  আমি এখনোও ঝরে উঠতে পারি নি।  আমি এখনোও মরে উঠতে পারি নি। ২  আমার সব যত্ন, যত গোপন সাধন,  তোমার অবহেলার কাছে  বেমালুম হেরে গ‍্যালো। তুমি বিমুখ নদী,  আমি শিলায়মান অশ্রু। একই সম্পর্কের দুই তীর - চলায় থামায় , বলা না বলায় ভিজে ... যুগপৎ !  ৩ তুমি আর ভুল করো নি। আমায় ভালোবাসো নি ; এ আমার নতুন ভালোলাগা ! ৪ তোমার ঠোঁটে, চোখে   জড়ে থাকা অবজ্ঞার স্মিতাভা ; তোমাকে আরও সুন্দর করেছে।  আমার অপরাধ আরও বাড়িয়ে, তুমি সুন্দর  তাই দেখে চলি  ...!  ৫  আমি যে কেউ নই । মানি। তোমার কাছে আমার বিকল্প,  প্রতিষেধকে তাই আর ঈর্ষা করি না।  ৬ আমি নির্জন,  আমি অন্ধ,  কবন্ধ ... আমাকে পাথর করে কোনও এক কসাই - আমার ওপরে ,ভেতরে  কতো ছিন্নভিন্ন রক্তপাত ঘটিয়ে চলে ... কেন ? কার তরে  কসাই কোনও কথা বলে না !  ৭ আমার এক পরিচিত  পুরুষ আয়না   আমায় বললো - 'হতাশা থেকে বেরিয়ে এসো'! সেদিন থেকেই আমার ভ...

জোনাক্ নামা

ছবি
চারপাশে চারপাশে ঘুরঘুট্টি আঁধার, একটা জোনাকিকে জ্বালালাম । এক দানা সবুজ সবুঝ আলো ... সব কথা না বলতে চাওয়ার  ডটলাইনের জন্মের ওপর জন্মান্তরের হুমড়ি খাওয়া। আলো।  জ্বলা - নেভা , চলা -থামা, বলা-বোবা ... ডটে ডটৈ ডটকম । ভেতরের কান্না গুলো ওরা সব বোবা হুলো ; বেদনার একলা দেওয়াল । সব অবহেলা, তাচ্ছিল্য, ঘৃণায় ভর দিয়ে আরও কাঠগোঁয়ার হচ্ছে।  অন্ধ, একগুয়ে, একরোখা, ইঁটহীন   ঢিঁট দেওয়াল। আঙিনার কানাই বলাই, আর তাদের পরিবার ... ওর গায়ে ঘুঁটে দিয়ে যায়। নিত‍্য। ধুঁয়ো চাই । ভাঙা কুলো চাই ... আমি আছি। আর আছে আমার অন্দর-বাহিরের  জোনাই।  আমি ঘুমোই ও জাগে।  ও ঘুমোলে আমি।  আঁতেল অন্তর্যামী ! #poem2022  #কবিতা১৪২৮