বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৪

বসন্তের সারা গা ভয়ের রক্তে ভেসে যাচ্ছে। অশনি সংকেত নীরবে শুষে নিচ্ছে পন্ড হয়ে যাওয়া ফাগ পরবের রঙ গুলোকে। ভয়ের বিপ্রতীপে আজ আর ভক্তি নেই। তিকোণ প্রেমের এক বাহু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। অবহেলার টিলা গুলোর মাথায় দু'এক মুঠো যত্ন-কুসুমের জন্ম হচ্ছে! এখনো কিছু চাঁদাখোর মজাকিয়া ইতিউতি পথের কাঁটা হয়ে বাঁচছে। আগাছারা গাছ নয় ; ওরা অনন্তও নয়। তাই তোমার অপেক্ষমান চোখ গুলোর সাথে দেখা হওয়া সময়ের সাজ-বিলম্ব মাত্র। তুমি ভাবছো, আমি ভাবছি, সবাই ভাবছে 'এত সময় নেওয়ার কি আছে! '
      কিন্তু, যখন দেখা হবে বুঝবে কী সে সাজ, সৌন্দর্য, সৌরভ, সমৃদ্ধি ... !
      ' উমত সবরো পাগল শবরো মা কর গুহাড়া গুলি।
      তোহৌরী নিঅ ঘরিণী ণামে সহজ সুন্দারী।। '
                                    (২৮ সংখ্যক চর্যাগীতি)
       পূর্ব ক্রমণের নাম ছিল ' বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা' ; যেহেতু ঘৃণার বিপরীত টানের কথারা এ পর্বেও চিরঞ্জীব। ক'দিনে সময়ের তরঙ্গ কম্পন যথেষ্ট বেগালাম। তাছাড়া, প্রেমে কবেই বা স্থিরাবস্থা ছিল! তাই এ পর্বটাকেও সমনামে ডাকলাম! কয়েকটা অনুবাদ আর বাকীটা স্বীয় প্রলাপনে সাজিয়ে দিলাম সাজি।
     
৫১
কার নিঃশ্বাসে বেঁচে আছি!

সব ভুলিয়ে,
গুলিয়ে দাও ...

এমনি চুম্বিত করো আমায়!

 ৫২
 তোমায় খুঁজে পেতে,
 বা ভালোবাসতে
 আমার একটুও বাধ জাগেনি!

আমরা তো একই অংশ;
হে অনন্য অর্ধ আমার,
এতদিন কোথায় লুকিয়ে ছিলে!

 ৫৩
 তোমার দু'চোখে
 চোখ ছোঁয়ালেই

কেমন ভালোলাগার
অতলান্তে ডুবে যেতেই থাকি...
                             -(কাফ্কা)
  ৫৪
আমি সর্বোত্তম নই,

তবু আমার প্রার্থনা গ্রহণ করার জন্যে
অজস্র ধন্যবাদ

হে প্রেমণ, হে প্রভু!

  ৫৫
  অপেক্ষা বা বিস্মরণ
  অতীব বেদনাবহ ঠিকই ;

কিন্তু,
আমি এখন কী করবো,
কিভাবে বাঁচবো ...

এ নিরুপায় বেদনাকীর্ণ আঁধারের
চেয়ে খারাপ আর কিছু হয় কি!
                    -(পাউলো কোয়েলহো)
                    -
   ৫৬
  আমি জানি তুমি হয়তো
  আমায় ছেড়ে যাবেই ...
 
 তবু
আজ অবধি সাথে থাকার তরে
ধন্যবাদ ।
 
   ৫৭
 সবচেয়ে মিহি মন্দমধুর লয়ের গান?
   চুম্বন।

 আর সবচেয়ে দ্রুতধাবী তান?
হৃদস্পন্দন!

তুমি যখন দূরত্বকে
জোরে জাপটে ধরে খুন করো।

 ৫৮
 আমি ছিলাম তোমার বিপ্রলম্ভ সুর

তুমি তো কানটা সরিয়েই নিলে!

                          -(আর. কৌর)
     ৫৯
    আমার সবটুকু নিয়ে,
   
    তার বদলে,
    তোমায় আমাকে দেবে?
   
     ৬০
     আমিও ভাইরাসে ভয় পাই ;

     আমার সাথে গৃহবন্দী
     একটা জীবন কাটাবে ?
     বলো?
   
     ৬১
    মনে মনে রও
    সাহসী, বন্য...
 
   বাইরেরটা হোক না অন্য।
 
   ৬২
   ও যতই নিক
   নিতে থাক, নিতেই থাক...
 
   তুমি তবু যেন উচ্ছ্বলতায়
   উছলে পড়তেই থাকো!

  এমনি পূর্ণ হও; রও।
                      -(এ.  ভ্যালি)
 ৬৩
 জানি
 তোমার জীবনে প্রথমজন হতে
 বড্ড দেরী করে ফেলেছি!



আমি এখনও
তোমার শেষতম হওয়ার
প্রখর চেষ্টায় আছি!
   বিশ্বাস করো ।
 
৬৪
প্রবলভাবে চেষ্টা করি
অনুভূতি গুলোকে প্রাণপণে লুকোতে...

আমরা ভুলে যাই,
চোখ গুলোর মত বাঙ্ময়
আর কিছু কি আছে!

৬৫
অশ্রু নদীর ঝর্ণা
প্রবল বেগে বইছে?
নির্ঝর, দুর্দম, অনিবার?

আলিঙ্গনে বাঁধো,
 মহানদী ....
 তোমার বুকেই শান্ত হবে!

 ৬৬
 ও তোমায় প্রবল ভাবে
 পাগল করে তুলছে ...

তোমার ঠোঁট নেই?

ঠোঁটের ভাষায় ঠোঁটকে
সবই বোঝানো সম্ভব।

 ৬৭
 যার কাছে
 হৃদয়টা হাট করে মেলে দিয়েছো!

তার সাথে বাক্ বন্ধ করে কি লাভ!
                             -(চার্লস ডিকেন্স)
৬৮

মস্তিষ্ক যখন বলে,
'ও যা পারে করুক,
তাতে কার কী! '

 হৃদয় বলে -
 'গর্দভ, তোমারই তো সব.. '

জ্বলো, পোড়ো.. মরো

৬৯
প্রতিজ্ঞার থেকে
প্রচেষ্টাই শ্রেয়!

 ৭০
 সর্ব সমক্ষে নয়,
 নির্জনতমে অকপটে
 তোমার হাতে
 হাত রাখতে চাই  ...

তোমার একান্ত আলোর ভিড়ে
হারাতে কতো ভালো লাগে!

৭১
কখনো কখনো

না জানতে দিয়ে
ভালোবেসে যাওয়াই শ্রেয় ...

পূর্ণতঃ নিজের
নিঃস্ব নির্জন যাপন!
শুধু ...

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০