পোস্টগুলি

মে, ২০১৯ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অহংপক্ষ

ছবি
সব অভিযোগ, অকর্মণ্যতা, দ্বায়ীত্বজ্ঞানহীনতা স্বীকার করে নিতে আপত্তি ক'দিন আগেও ছিল না ; আজও নেই। একজন কঠোর পাপিষ্ঠকে অবহেলার অভিযোগে বেকসুর খালাস করলে কীভাবে! এত লঘুদন্ড! ভালো বুঝেছো,  দয়ার দরকার খুব বেশী ;  আমারই। অনুকম্পাভুক।

আঁধার আমার, আঁধার

ছবি
বজ্র-ঝলকও পারেনা, একরাত আঁধারের পুরোটায় আলো লেপে দিতে! ব্যর্থবজ্র। ঘনশ্যাম এক ঘনিষ্ঠ আড়াল তোমাকে আমার করে রাখে ; ঝড়, বৃষ্টি তো অতিথি মাত্র। সবারই জন্য আঁধার আসে প্রতিদিন.. কারও দেখা হয়; কারো হয় না। অপেক্ষা শুষ্কচক্ষে ফের ভোরের জন্ম লেখে। দিন তো দৈনিকই আসে... ভালোবেসে আশার কোল ঘেঁষে। তুমি আসতে না পারলেও, বা না চাইলেও ... তোমার ভাগের আঁধারের আঁচল... একা একা ওড়া অভিসারী ওড়না সম। সর্বব্যাপী, সর্বপ্লাবী। তোমার শূন্যতা অন্ধ আঁধারে পূর্ণ। তোমার মত করে ডাকতে রাখতে, বাঁধতে পারিনি বলে - একা। আঁধারে বাঁচি। এ আঁধার অশেষ ।  একা করবে না আর আমায়।

অধারাসম্ভব

ছবি
হারাইনি বলে হাহাকারও নেই। এত অন্তর্বেদন আমারই তরে, এত অমূল্য আমি... এ বিশ্বাসের ঘর হতে চ্যুত হয়েছি। নিজেরই বৈগুণ্যে অক্ষম, অপারগতায়! কী করে বলি... আঁখি মোদো, আমি তাতে ঘুম ছোঁয়াবো ... অশ্রুর গঙ্গোত্রী লোপাট করে দেবো; আর একটু দূরত্ব খুন করে আমার বাহুবন্ধনে তোমায় রইতে দেবো! অক্ষমের পক্ষে অসম্ভব। এ কাঁদন তো স্বাভাবিক। বরফগলা জলে পুষ্ট নদী। অঝোরে ঝরবে, বইবে... রক্তে, অশ্রুতে। শাশ্বত ধারা...

অনাধ্যাত্মিক

ছবি
সব লেখা গুলো আজ জীবন হয়ে গেছে। খাপছাড়া, অপূর্ণায়ত... অভিশপ্ত! দৈত্যাকার এক অপূরণীয় খাদ। খাদ্যহীন হাহাকারের হাঁ-ময়। সদ্যপ্রয়াত শীতে পরস্পরের কায়া হতে উষ্ণতা জাগাতে না পেরে নিগড় শিথিল হয়ে গেল... তোমার আমার কাছে থাকার সুতো। কাছে কাছেই আছে  দ্বিখন্ডমান শ্বাপদটা...  এখনও জ্যান্ত ছটফটানিময়। আমারই কারণে খোলসের মৃততার পরিচয় পেয়েছে সম্পর্কটি। হাহাকার অবয়বহীন, অনন্ত... বইতে,বাইতে থাকা আমরণ! স্মৃতি বাঁচন শুরু। ভগবানের কাছে প্রার্থনাই সাজে, কাছে পাওয়া নয়।  আসাটা স্বপ্নের ছিল বলেই  টুটে গেল, ঘুচে গেল সব...! ভগবান, তোমার সখা হতে পারিনি বলেই হয়তো পেয়েও হারালাম... জিজ্ঞাসার অধিকার অর্জন করলে হয়তো বলতাম, 'কেন এসেছিলে? ' সবাই ডাকলেই কী তোমায় এভাবে পায় ; স্বপ্নাতীত! তুচ্ছ তৃণকে কেই বা গণ্য করে! পুরো ব্রম্হান্ডই তো তোমার।  সচ্চিদানন্দময়ী।

নৈমিত্তিকী

ছবি
বোবা ঝড়, সাশ্রু নদী আর একাকীত্ব ছাড়া কোনও কোল নেই। এখন আমার। যথার্থ প্রাপ্তিই পাচ্ছি... পেয়েই চলেছি। স্বাভাবিক ফলশ্রুতি। অবহেলা, অবমাননা, অপমানের প্রসঙ্গ বড় অপ্রাসঙ্গিক। এখানে। ভালোবাসা বুঝেছিলে এও তো কল্পনাতীত প্রাপ্তি। বিনিময়ে ভালোবাসা চাইনি কখনও। তবু, যা কিছু ধন্য করেছে আমায়, দান পেয়েছি...  লোলুপ হয়েছি... তার প্রতিদান চোকাতেই হবে, আমৃত্যু। স্বাভাবিক। ধরা যখন পড়েছি... শান্তি এড়াবার প্রশ্নই নেই। কোনও। শুনেছি, পাথরে প্রহার বেঁধে না। যতটা এখনও বাকী ... সেসবও পাথর করে দাও। দোহাই। 

চুয়াল্লিশের চালশে

ছবি
'ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিক্স' এর ক্রেতা মূল্য সূচক অনুযায়ী, ২০১৮ সালের  ডলারের মূল্য ১৯৭৫ সালের গড় দামের চেয়ে ৩৬৬.৭৪% বেশি।এই সময়কালের মধ্যে ডলারের গড় মূল্য প্রতি বছরে ৩.৭৫%  করে হ্রাস পেয়েছে  ।      ১৯৭৫ সালের মুদ্রাস্ফীতি হার ছিল ৯.১৩%। ২০১৮ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ২.৪৪%। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মধ্যে গড় মূল্যস্ফীতির হারের ২০১৯ সালেই মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি। বলা বাহুল্য ,সদ্যসমাপ্ত ভোটেও মুদ্রাস্ফীতি,  বেকারত্ব, পরিবেশ দূষণ তথা যথার্থ শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে কোনও দিশা বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়ার প্রয়োজন হয়নি! দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি, ধর্মীয় সুড়সুড়ি, কুকথার বন্যা আর বিনা পরিশ্রমে সাবসিডি গেলানো...  প্রকারান্তরে ঐ বরাদ্দটা যে কোনও নেতা  বা দলের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে নয়, নিজের কর থেকেই আগত - এই সত্যটাকে উপলব্ধি করা থেকে বঞ্চিত করার নীতি যথারীতি ছড়ানো হয়েছে ।অ্যাকাউন্টে নগদ প্রাপ্তির টোপেও ভোট নেওয়া হয়েছে। এই চাঁদিফাটা গরমে অর্থনীতি কপচানোটা পুরোটাই কাকতালীয়। সঙ্গের ছবিটা অর্থনীতির স্মৃতি-কন্ডুয়নে বাধ্য করলো। 'আমরা আগে কী সুন্দর...

বোধি-বিন্দু ৭

ছবি
৪১ মুখ নয় হৃদয়ের পানে তাকাও; পুরো জীবনটাই স্পষ্টতর হবে। দৃশ্যমান। ৪২ একটা মোম-বর্তিকা হতে সহস্র বর্তিকা জ্বাললেও ; তার আয়ুক্ষয় হয় না। দানে কখনও আনন্দ কমে না। ৪৩ আবরণ, আভরণ আর যা কিছুতে জড়িয়ে আছো... এসব ছাড়া তোমার হারাবার কিছু নেই আর। ৪৪ দুষ্কর্ম বিষবৎ পরিত্যাজ্য। ৪৫ সত্যের পথে দু'টো ভ্রান্তিই ঘটে। পুরোটা পথ না চলার। বা আদৌ যাত্রারম্ভ না করার। ৪৬ জিহ্বা ছুরির চেয়েও ধারালো। বিনা রক্তপাতে হত্যার ক্ষমতা রাখে! ৪৭ তিনটে জিনিস দীর্ঘদিন গুপ্ত থাকতে পারে না... সূর্য, চন্দ্র ও সত্য। ৪৮ তুমি অন্যের তরে  আলো জ্বাললে; সে আলো তোমার পথকেও আলোকিত করে। ৪৯  অসংযত চিন্তা,  চরমতম শত্রুর চেয়েও বেশী ক্ষতি করে। ৫০ বোধি বুদ্ধিতে যাপিত ব্যক্তির মৃত্যুভয় নেই। 

বোধি-বিন্দু ৬

ছবি
৩৪ বোধের, জ্ঞানের সর্বব্যাপপ্তির তরে আগে সব কিছু ভুলে বিস্মৃতিকে ক্ষমা করো। ৩৫ প্রতি প্রভাতেই আমাদের নবজন্ম হয়; আজকের কৃতকর্মই মূল বিবেচ্য। ৩৬ শান্তিকামী মন হতেই শান্তি আসে; ওকে এর বাইরে খুঁজো না। ৩৭ আনন্দে পৌঁছনোর কোনও পথ নেই ; আনন্দই পথ। ৩৮ আমরা আসলে নিজেদের চিন্তাভাবনারই ফসল; আমরা যা ভাবি তাই হই।  ভাবনার দ্বারা ভুবন গড়তে পারি। ৩৯ যা করে ফেলেছো, ওদিকে ফিরে দেখার টান কখনও রেখো না।আর। এখনো যা করা বাকী কেবল তার দিকেই দৃষ্টি রাখো নিবদ্ধ। ৪০ সুস্বাস্থ্য গড়া একান্ত কর্তব্য। সুস্থ সবল স্বচ্ছ বোধি মন নইলে গড়বে কার উপরে!

ম্রিয়মান লতার হয়ে

ছবি
চোখ হতে বয়ে আসা সব ক্ষরিত প্রস্রবণ, মুহুমুর্হু ওষ্ঠ কম্পনের প্রশমন আমার কাছে ছিলই। আমি তো তোমাকে জড়িয়েই বাঁচি; কাঁপন, ক্রন্দন কমা অবধি আলিঙ্গন... বিশ্বাস করো, আমি পারতামই। চাইনি লোকচক্ষে তোমাকে আমাকে গাছকে লতাকে আর আমাদের অরোধ্য ফল্গুধারাকে  প্রহসনে পরিণতি দিতে। এ দেহ ক্ষীনায়ু জানি.. সব ক্ষত, ক্ষরণ ও দাহের দাগ তো তোমায় সইতে, বইতে হবে। তরুশ্রী। শুষ্ক জর্জর শল্ক বিশীর্ন শবেই রই; তোমার সর্বস্বের ঘ্রাণ থাক আমাতে। আমৃত্যু জড়িয়ে থাকতে দাও এ মৃয়মান লতার সর্বাঙ্গে... ! দোহাই দূরে হলেও তোমারই রইতে দাও। জানি তোমার আমি হবার ক্ষমতা আমার নেই। আস্কারায় আশ্রিত ক্ষণজন্মা আগাছা-মাত্র। বাহুবন্ধন ছাড়িয়ে দেওয়ার মত নিষ্ঠুরা নও তুমি। সব অপারগতা আমার। তুচ্ছতার। মানো, আরও সবুজ সবুঝ হও...

হে, শ্যামল-সুন্দরধারা

ছবি
তোমার অশ্রু কেন আমায় কাঁদায় নি? কেন তোমায় ছাড়া বেঁচে আছি? কেমন বেঁচে আছি! কিভাবে! সঅব উত্তর তোমার ভালো ভাবে জানা। অশ্রুর কোনও বদল , অভিনন্দন হয় না। নিষ্ঠুর , স্বার্থপর, স্খলিত, ক্রূর... এসব বিশেষণ আমার ক্ষেত্রে খুব কম বলা তা আমি জানি। তোমার রক্তক্ষরণ তবু কেন থামেনা... কেন শুকোয় না অশ্রুনদী! শুধতে থাকো ভুলের ঋণ ঝর্নায় ঝরে ঝরে ... এ পাপীর প্রবোধ বড় বন্ধ্যা জানি। নদী, কাঁদো , পুনর্শুদ্ধা হতে থাকো চলো এগিয়ে ধারালো সব বাধার পাহাড়-প্রমাণ স্থবির পাথরময় পাড় ঘেঁষে... আর কত আত্মদগ্ধী অসাধ্যসাধন কত দুষ্ট দূষণকে নির্মলগতি দেবে! শ্যাওলা আর কতদিন নদীক্রোড়ে বাঁচে তার স্রোতে স্রোতে নাচে হাসে খ্যালে বাঁচে। শ্যামাভ শৈবাল ক্ষীণায়ু জীবন-প্রত্যাশী, নদী জীবনধারার ধারক ও বাহক। এ সত্য সব অযোগ্যের জানা উচিত। তাই জানি। "ওগো নদী, চলার বেগে পাগল-পারা, পথে পথে বাহির হয়ে আপন-হারা--..."