পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দু'খন্ড অঙ্গার

ছবি
১ ।। বিড়ম্বক বানপ্রস্থিক ।। অভিমান, ছেলেমানুষী অসহ্য অসংযম, অন্ধত্ব নির্লজ্জ এঁটুলিপনা অভূত পরিমাণে এবং উত্তরোত্তর বাড়তে থাকলে... বুঝবে, তুমি আর প্রেমিক নেই! ভীমরতিতে প্রবেশ করেছো... যৌবনে নয়  আছো বার্ধক্যে । প্রেমের যোগ্যতা হারিয়েছো! মৃত্যু সামনে, তবু মানবে না। হয়েছো 'ডগ ইন ম্যনজার' এর অসার সারমেয় ... নিজের খাবার যোগ্য দাঁত খুইয়ে; জিভ আরও লোলুপ লোলচর্ম হয়েছে ...! তোমার। আর অন্যের উপভোগের পথে ঘ্যানঘ্যানে বাধা হচ্ছো। বাঁচছো দ্বিতীয় শৈশবের দয়ায় অতিরিক্ত অবুদ্ধ জীবন। মোহাকীর্ণ! প্রণয়ের নাম খারাপ করবে তবু ওর পথ হতে সরবে না! ভালোই তো ! প্রেমের জগতে তো শুধু তোমাকেই চাই ... দুনিয়া গুঁড়োতে নিউক্লিয়ার অস্ত্রের কোনও আর দরকার নেই! ২ ।। জ্ঞান পাপী ।। পরিপক্ক লোকেরা প্রেমিক হয়, অসংযমী, ছেলেমানুষেরা নয়। ব্যথা দেখিয়ে, ইনিয়ে বিনিয়ে কী পাও? বিব্রতী, বিরক্তি চেপে  সহ্য করে যাওয়াকে প্রেম মানছো? ওটা একটা অভূতপূর্ব অনুকম্পা বিশেষ। তোমার ব্যস্ততা নেই বলে , বিমুখ, ব্যস্তর কেন বাধা হওয়া! ঘৃণিত জেনেও। ছিতকারের অপব্যয় নিষ্প্রয়োজন।

মকর : নাম বৈচিত্র্য

ছবি
উত্তরায়ণ হল দক্ষিণ অয়নান্ত (২১/২২ ডিসেম্বর) থেকে উত্তর অয়নান্ত (২০/২১ জুন) পর্যন্ত সময়কাল। এসময় সূর্য আপাতদৃষ্টিতে উত্তরেদিকে গমন করে। উত্তরায়ণ শুরুর সময়কালকে লোকসংস্কৃতিতে মকরসংক্রান্তি বলে মান্য করা হয়।  (যা বর্তমানে ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়) থেকে আষাঢ় (সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জী অনুসারে) সংক্রান্তি (যা বর্তমানে ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়) পর্যন্ত সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।একইভাবে ২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে দক্ষিণায়ন বলা হয়ে থাকে। ভৌগলিক বিচারে ২২শে ডিসেম্বর থেকে ১৪ই জানুয়ারীর স্থানিক বিভেদ প্রচুর। উত্তরায়ণ শুরুর প্রথম সংক্রান্তি হিসাবে বিচার  করলে দ্বন্দ্ব নিরসন ও আনন্দ উদযাপণ সহজ হয়।        ভারতীয় উপমহাদেশে  সূর্যকেন্দ্রিক ও কৃষিভিত্তিক মাঘ সংক্রান্তির এই লোক উৎসবের বিপুল বর্ণবৈচিত্র্যময়তা আছে।       ১ । সুগ্গি হাব্বা বা সুজ্জি হব্বা, মকর সংক্রমণ, মকরসংক্রান্তি , পেড্ডা পান্ডুঅ : - অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ,মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ২। মকরসংক্রান্তি, মকর মেলা , মকর চৌল:- ওডিশা ৩। মকরসংক্রান্তি , মাঘী সংক্রান্ত , হল...

হিমান্তের সীমন্ত কলিতে ভরে যাক

ছবি
রাগ, অভিযোগ আর আহত অভিমান... ডালে ডালে গেয়ে গেছে আদরের গান! তুষারে তুষিত তান। অশ্রুকথারা হিমায়িত ;অমৃত। হে প্রেম, হে নৈশব্দ্য ... আমার হৃদয়ে কখন ঝরছো ?  তাহলে বলো? আমার পূর্ণ পাথর হবার আগে,  পারলে বলো ;  বলো ,আমার বুকে ঝরো  ... বও ; বাঁচো, নাচো নদী! শিলীভবনকে আলিঙ্গনে হত্যা করো। "এ নব যৌবন                    বিরহে গোঙায়ব           কি করব সো পিয়া-লেহে ||                     ... .... .... .... ... সিন্ধু নিকটে যদি                    কণ্ঠ শুকায়ব                  কো দূর করব পিয়াসা ||" #ছবি : from a  travellogue

গুলজারের গুলদাস্তাঁ

ছবি
গুলজার  ( জন্ম :  ১৮ আগস্ট ,  ১৯৩৪ ) । পূর্ণনাম সম্পূরণ  সিং কালরা।  হিন্দী ও উর্দু ভাষার প্রখ্যাত কবি, গীতিকার সুরকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। এ পর্বে  তাঁর কিছু হিন্দী কবিতার অনন্য পংক্তির অনুবাদের চেষ্টা নিলাম। শায়েরীর গড়নকে গদ্য কবিতার ছাঁচে ঢালতে গিয়ে ঈষৎ গলাতে হয়েছে। তবে তা মূল বক্তব্যকে কোনও ভাবে লঙ্ঘিত বা অবমানিত করে সাধিত হয় নি। ১ পুরোনো গল্প গুলোকে সেঁকে নিতে পেয়ালা হাতে বসেছিলাম ... চা গেল জুড়িয়ে, আর চোখের কোণ ভিজে গ্যালো! ২ কথা গুলো তো কোনো মতেই খাতার পাতায়, মুখে বসতেই চাইছে না! পঙ্খী প্রজাপতিদের মতো। যত্তোসব দুরন্তপনা! ৩ কখনো কখনো স্বপ্নেরাই আমায় চেঁচিয়ে, ঠেলে তুলে জাগায়। ৪ বলার লোকেদের আর কি যায় আসে! সওয়ার লোকেরই যতো জ্বালা। লোকেরা তো শুধু আঙুল তুলতেই জানে, ব্যথার বিধান কেই বা বোঝে! ৫ ওই জিনিসটা , আরে, যাকে 'মন' বলে ডাকে লোকে। আমি যে তাকে কোথায় রেখেছি, মনে আসছে না মোটে! ৬ আমি বলেছিলাম - ঠিকই আছি... ও বললো - ভালো! আমি তাহলে চললাম... সেদিনই বুঝলাম দূরত্ব কী বিষম বস্তু! ৭ বন্ধু, রিফু করে...

ছেলেমানুষের ফানুস কিম্বা অহং পর্ব

ছবি
আমাতে তাকাও, আমাকে দ্যাখো, আমাতে চোখ রাখো...  আমার জন্য ওষ্ঠ খোলো,  আমায় শুধু বলো ; আমায় লেখো, আমায় পড়ো ; আমায় আলতো করে ছোঁও। আমায় নিবিড় করে  , আমাকে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে ধরো ! তেমন মন হলে মগ্ন শিউলির মতো ঝরণাতলার নির্জনে কেবলই আমার কোলেই ঝরো। আমায় আরও আকুল করে, আমায় আরও কাঙাল করে আমায় আরও মাতাল করে আমায় আরও বাউল করে ... পুরোপুরি তোমার করো ধরো ছাড়ো মারো আরও, আরও ... পারলে একটা কণা হলেও শুধু আমার হয়ো। আমার এ অবাধ অবোধ অবাধ্য নির্বোধ ছেলেমানুষীর মৃত্যুর পূর্বাবধি! বললে বলো হিংসুটে ; আমি ঐ সুখেতেই রবো। 

এক অম্লান ধূপ জীবনের ঘ্রাণ

ছবি
তুমি অন্তরীপ ছেড়ে গ্যাছো ... যেভাবে স্বাভাবিক পরিক্রমণে সূর্য সুদূরে ফেলে সরে যায় ! তবু আমার কান্নার ফল্গু নিঃসঙ্গে নীরবে,  নির্জনে, নিমগ্ন বইছে... কিভাবে সইছি জানো, তোমারই দানে.. তুমিই শিখিয়েছো তোমার অতিক্রমে, তোমার উত্তরে কেমন বাঁচতে হয়! তাই মরা আর হয় নি, মরতে দাওনি বলে! নিজেকে নিংড়ে নিংড়ে যত বিন্দুতে বওয়া যায়, রওয়া যায়.. নীরবে রয়ে আছি তাই ... 

থমক লাগা নদী সমীপেষু

ছবি
দূরত্ব চাইছো নিজের মতো বইতে চাইছো , আরও বিস্তারিত হতে চাইছো! এবং আমাকে এ সবের বাধা বলে বিশ্বাস করছো! অসহ্য বলে মানছো। তবে কেন আলগোছে লেগে থাকা! ভদ্রতা ? নিয়ম রক্ষা? এ্যাতো ভাবলে প্রগতির গতি যে থমকে যাবে, বন্ধু! চলার পথের নুড়িকে কখনও স্নেহের, দয়ার আতিশয্যে কোলের যত্ন দেওয়া যায়ই... এ রত্নযাপন স্বল্পায়ু হওয়াই স্বাভাবিক! তোমার পরশে পাথর জীবন হতে মুক্ত হয়েছি ... নিজেকে জীবিত বুঝছি ! এ খুব কম পাওয়া কী? অভাবিতপূর্ব! চলো, চলো সামনে তাকিয়ে ... যেমন, যেথা ইচ্ছে এগিয়ে বও। নদীকে, স্রোতশীলাকে থামলে চলবে? এ নুড়িকে কোলচ্যূত করে ফেলে বয়ে চলো ... স্বাভাবিক ছন্দ- অলঙ্কারে! "ওগো নদী, আপন বেগে পাগল-পারা..."

পাহাড়ের চিত্রল প্রহরেরা

ছবি
 বাঙালি। বিশেষ করে কুয়ো জলে কুঁজো বাঙালীদের  পা-পিঠ সোজা করতে দীপুদাই  অন্ধের একমাত্র লাঠি। দীঘা, পুরীর সাথে বার কয়েকের পরিচয় থাকলেও দার্জিলিং এর সাথে প্রথম দেখা হল। পুরো পাহাড়ী জেলাটার সাথে পঞ্চদিনের পরিক্রমা সারার চেষ্টা করেছিলাম। পাহাড়ী রাজধানীতে শুধু নিশি আশ্রয়ের জন্য সারাদিনের শেষে ফিরে আসা। বিভাগের সহকর্মীবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে লটবহর হিসেবে যাওয়া। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার জীবনে ব্যস্ততার ব্যাগবন্দীর জীবনের সেলাইর ফাঁক দিয়ে কিছু চিত্রতাড়িত ঝলক বয়ে নিয়ে এলাম। সময় ও স্মৃতির দ্বৈরথের রথ কোন পথে কতদূর গড়াবে সে শুধু ভবিষ্যতই জানে।বহুবিচিত্র কাপড়ের টুকরোয় গড়া ফকিরের আলখাল্লার মতো কিছু নাছোড় ছবির নক্সীকাঁথা বোনার চেষ্টা নিলাম। যেখানে দেখাটা মুখ্য, ছবি গুলো অন্ধ অবলম্বন আর লেখাটা নিমিত্ত মাত্র। দিনগুলোকে পর্বে পর্বান্তরে কেটে কেটে এগোবো ; ঠিক যেমন করে মাঠের মুনিষেরা শস্য-কর্তনের পরে আর না পিছু তাকিয়ে ফেলে রেখে রেখে যায়। একটা দুটো পাঠকের মন যদি চায় মনে বেঁধে রাখতেই পারেন। মনের মানসী বিনুনী!                       ...