আত্ম ও আত্মার আলাপন ৬

অযুত আশা দুরাশাকে ঠেলে , ইচ্ছে করে যখন বেঁচে থাকবো ভাবি ; ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে ঠা ঠা মরুভূমি হয়ে উঠতে থাকি আর জীবনের রশি ও রাশটাকে অসহায় ভাবে আলগা করতে ক্রমশ দূরে সরে  যেতে থাকি। তখন তোকেই চাই। শুধু তোকে। তুইই একমাত্র পথ, উপায় ও সহায়!
                       জল। তোর আনন্দে ঝরার দিনে...  তোতে ভেজার বেজায় আনন্দে মাতি; তুই যখন সহায়, সম্বিৎ, সীমা ছাড়িয়ে বন্য বন্যায় দুষ্টের সংহার-কল্পে দুর্দম গতিতে সর্বৈব ছাপিয়ে...  শাসন করতে করতে এগোতে থাকিস; কখন স্রোতের খড়কুটো কখনওবা সঙ্গী শৈবাল হয়ে অনন্তের ধ্যানে মাতি। কখনো কখনো তো বিষম অপহ্ণুতি! তোর পাশে নিজেকে নদ বলে ভাবতে শুরু করি! প্রখর প্রণয়ী যেন! অল্প পরেই তোর প্রবল এগিয়ে যাওয়ার পর...  মৃত্তিকার পদ লেহন!  পরজন্মের আশায় তথঃ বিয়োজন শরণম...!

    পরম মমতায় সভ্যতার লালনেই তোর  পরিচয় ; বন্যা তোর শাসন আয়ুধ,  তোর সর্বসত্তা নয়। তোর কারণেই ধরিত্রী শস্যশ্যামলা, প্রাণময়। প্রতিটি জীবন, প্রতিটি আকাঙ্খা তোর নির্ভরেই লালিত। আমিও সবার মতো তোকে অর্থাৎ জীবনকে ভালোবাসি। আমার আয়ুর চেয়ে অনেক বেশী দিন তোতে সিক্ত-লিপ্ত হয়ে বেঁচে থাকতে চাইছি। চাইবো। এ আশা মোহের,  অবিদ্যার। তাই সময়ই সরিয়ে দিচ্ছে আমাকে ; তুই নয়। তুই এক মহান, অশেষ, বৃহৎ, সদা চলিষ্ণু সত্তা ।
   তুই অর্ণবী। অনন্ত সমুদ্দুর। তুই অসীম। তুই  সর্বথা। সর্বব্যাপিনী। আবিশ্বের প্রায় পূর্ণত: তুই।তার শুষ্ক, নিষ্প্রাণ এক ক্ষুদ্রতম অংশমাত্র পড়ে আছে তোরই মুখ চেয়ে। জাগবে বলে; বাঁচবে বলে। সকল প্রার্থনার একান্ত অন্ত, সার্থকতা, পরম গন্তব্য। তুই।
     আবার তোরই করুণায় কোনও এক খড়কুটো, শ্যাওলা, গুল্ম, কিম্বা যে কোনও ভাবে প্রাণীর প্রাণ পাবো। তোরই রসে রসদে বাড়বো। ফের বড়াইর জীবন। প্রণয়-বাহাদুরি ফলানো। ফের তোর স্রোতে অন্য জন্মের ঘাট-প্রত্যাশী রবো।
     আমার প্রতি জন্ম আসলে তোতে এক একবার শুদ্ধ স্নাত হবার একক মাত্র। পাহাড়,পর্বত, চড়াই, উতরাই, আগুন, উষ্ণতা ইত্যাদি অযুত আপদের মতো...  নতুন বাঁক নিয়ে নিতিনূতন গতিতে এগিয়ে যাবিই। আর এ বাঁক ও আমি ধীরে ভোরের গন্ধে মিলিয়মানতার খেলায় মাতবো!
       সময়চক্রকে সত্যি করে...  ফের ফিরে আসবি হয় বৃষ্টি, হয় নদী ,হয়তো বা অন্তঃসলিলা স্রোতে হয়ে; ফের উদ্ধারের সুযোগের রেণু ছড়াবি...
       হয়তো আগামী জন্মেও দেখবি,  নিজেকে খুবখড় একটা বদলে উঠতে পারিনি! বারে বারে তোর স্পর্শ, স্পন্দিত ব্যাপ্ত চরাচর ... আকীর্ণ, উদ্বাহু আশ্লেষ!
       হয়তো এভাবেই কোনও এক জন্মে , কোনও এক দিন দেখবি ... তোর মনের মতো হয়েছি। হতে পেরেছি!
       সেদিন শুধু আমার নয় ;পৃথিবীর আর সব জীবনের চক্র থেমে যাবেই। জগত মিথ্যা , ব্রম্ম মিথ্যা প্রমাণিত হবেই।
        তখন তুই আমি এক ; শূণ্য ও অনন্য! অভেদ। অভিন্ন। অভঙ্গ। পরম। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০