পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সব দোষ কালের, বৈশাখী আঁচলের নয়

ছবি
বড় অস্থির, অসহনীয় এ সময়।চোরের মতো চুপি চুপি খিড়কে পথে নতুন বৈশাখ এসেছে। বর্ষ বলয়ে আর একটি নতুন পাকের শুরু। চলবার চাকা বিমূঢ় হয়ে স্তব্ধ । পথ পড়ে আছে। একা। কান্না, হাসি, প্রাপ্তি ,বিচ্ছেদের পথ। নির্জন নিভৃত অপেক্ষায় সে ক্লান্ত। ঘন ঘন ঘড়ি দেখা প্রেমিক যেন! পথে‌র তো কোথাও যাবার পথ নেই। শত নির্মম নিঃসঙ্গতা সত্ত্বেও প্রেমের তরে পড়ে তাকে পড়ে থাকতেই হবে। এ পর্বের ক্ষুদ্র কবিতা গুলি পথ ও প্রেমের প্রলাপনে মুখর ।বিরহ নয়, বিহানহীন বিহনের ব্যথিত লিপিরা। ১ যদি কখনও এক চিলতে ঘুম দয়া করে, তার ফিনফিনে আঁচল উড়ে গেলেই... শ‌েষের শুরুতে, বা শুরুর শেষেতে... তোমার খবরের তরেই ছটফটাই আবার ; বারবার... ২ আসলে কেউই পারে না সত্যকে বদলে দিতে ; সত্যই বদলেছে তোমাকে আমাকে - তুমি ভুলকে পেরেছো ভুলতে, আমি এখনো সত্য আঁকড়ে...! এই সত্য মাত্র। ৩ আচ্ছা, তুমি রাত্রিতে না রাতের ওপর দিয়ে হাঁটতে ভালোবাসো? আমি তোমার রাত হতে চেয়েছিলাম! ৪ কখনো কখনো বড় বিভ্রান্তিতে পড়ি... তোমার কাছে তো সবই ছিল, আছেও। তবু, কেন এলে? আবার ফিরেও গেলে! মেলাতে পারি না মেলাতে পারি না; জানো! ৫ তোমাকে অনলাই...

নিশার স্বপন মম

ছবি
তুমি তো আস্ত একটা দিন। রাতের বুকে ঘুমোতে আসো, কখনও একটু আগে, কখনওবা খুব দেরীতে! কর্মচঞ্চলা এক দিঘল নদী তুমি, মধ্যরাতেও তোমার নিরততার দ্রৌপদী আঁচল ক্ষীণায়মান ডানায় উড়তেই থাকে ... ভোরের ভয়ে ভীতু রাতটার কাঁধে চিবুক রেখে যখন তুমি বিভোর নেত্রে নিঝুম পৃথিবীটাকে দ্যাখো - সারাদিনের স্বেদ, ক্ষত, ক্ষয় গুলোকে প্রশমণের খেলায় মাতিয়ে দাও। দলা পাকানো বোবা কান্না গুলোকে বাহুলগ্ন আঁধারের গলায় মুছে মুছে মারতে থাকো... প্রতি পলের আদরের উদ্ভিদ গুলোকে তার গায়ে মাথায় বপিত করো ... কোথা থেকে এক অপরূপ কীলক এসে গেঁথে যেতে থাকে গহিন গভীরতর তোমাতে! তোমার পতনের পথ আটকে আনন্দেরা উৎসবে মাতে! অপূর্ব এক স্মিতাভ বিভা ঋণী হয়ে রয় ... তোমার ওষ্ঠে, অধরে, মুদিত নয়নে , কর্ণলতিতে, সুঘ্রাত ললাটে, অলকদামে... নিবিড় বাহুলতা, ললিত গ্রীবা প্রমুখেরা অধীর রাতটাকে তুষ্টতার গান শেখায়... বিবশ রাত তোমার কোলেই নিদ্রাবিভোর হয়, ভুলে যায় ভোরের, তোমার দৈনিক বিহনের ভয়! সবার প্রশান্তি নিশ্চিত করে শুধু জেগে রও তুমি। প্রবল একান্ত একাকী ... তোমারই হ্লাদিনী‌সত্ত্বা রাতটাও নিঃসঙ্গতা লেপে যায় সর্বাঙ্...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৫

ছবি
বিরহে ব্যাধিতে এবারের বসন্ত মুড়িয়ে এলো প্রায়। সব বোষ্ণব কবিতা আজ দেরাজের স্বতোসিদ্ধ আঁধারে স্নানরতা। মাঝে মধ্যে উঁকি দিচ্ছে... অপেক্ষার কান ঘেঁষে  কেউ উপশমী গান গেয়ে গেল কি! আজই কি উঠে যাচ্ছে তার এবং তার দয়িতের মাঝের পরদাটা? ফের সাজঘরায় নমোঃ!      নীরন্ধ্র ব্যস্ততায় তোমার নিজের সাথেই নিজের দেখা হচ্ছে না আজকাল। তারমাঝে উটকোদের হানা বড়ো বিব্রতির বিষয় বটে। এ কিস্তির কবিতা গুচ্ছে সম সময়ের অথিরতা অগোছালো ভাবেই এসে পড়েছে। হৃদয়-গাত্রে লেগে থাকা দুর্মর প্রেমচিহ্ন গুলোকে স্মৃতির তুলিতে তোলার চেষ্টা হয়েছে।সেই সঙ্গে দু'একটা খন্ড পংক্তিকে অনুবাদের আদর দেওয়া গেল! ৭২ বড় সম্পর্কের জন্ম অপ্রত্যাশিত ভাবেই হয় ; দমফাটা নিদাঘের বুকের ওপর হঠাৎ উড়ে এসে পড়া এক পশলা বারিধারার নীলরঙা খাম যেন ... ৭৩ সংবেদী সম্পর্কেরা অনেকটা ডানা ভাঙা পরীর মতো... ভালোবাসা ছাড়া উড়তেই পারে না। ৭৪ গতরাতে চাঁদের সাথে ভোর অবধি কতো কথা হলো... ও আমাকে সূর্যের গল্প শোনালো, আমি শোনালাম তোমার কথা তারপর চাঁদটা যে কোথায় তলিয়ে গেল!               ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন - ৭

ছবি
তুই সর্বংসহা।জানিস সৃজন ধর্ম; সংহার নয়।    তুই প্রকৃত। #প্রকৃতি। শত অপব্যবহারের শিকার হয়েও নীরবতায় নিবিষ্ট। স্বতোপূর্ণা। অবুঝেরা কত শত ক্ষতে ভরিয়ে দিলেও ; অযোগ্যেরা অযত্নে মেতে উঠলেও থামানোর কোনও আয়াসই নিস না। কারণ তুইই একমাত্র জানিস শেষ পরিণতিটা। খেলা দেখিস, কখনও প্রাঙ্গণ হয়ে প্রশ্রয় দিস। মহান স্রষ্টার কোনও সৃষ্টিকে কষ্টে যুতে দিস না। কষ্ট শুসে নেওয়া তোর স্বভাব।    নীলকণ্ঠ মহাদেব এক নিছক ব্যক্তিমাত্র; তুই তো আবিশ্বময়ী বিস্তার! বিবর্ধমান ক্লেশ-ক্লেদ-কষ্টের গরলকে তুই অমৃতে বদলে দিতে জানিস।সময় তোর দাসানুদাস ; সে যায়, আসে...   তাকে ভ্রুভঙ্গে নাচাস। হ্যাঁ তাকেও তুই বাঁচাস। তারও যে একটা জীবন আছে একমাত্র তুইই তাকে বোঝাস।    স্বার্থপরতার অন্ধত্বে এক একটা সভ্যতা  অসভ্যতার চূড়ান্তিতে ধ্বংসে ধূলিস্যাৎ হয়; তোরই চোখের সামনে। উল্লাসে না ফেটে পড়ে আবার নতুন করে মুঠো মূঠো সবুজকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনে নবীন আশার আলোয় আনন্দধাম গড়িস। গানে, গল্পে আনন্দে সব দুঃখেরা আয়ু হারাতে থাকে। সকাল ,সন্ধ্যায় আমার মতো তুচ্ছাতিতুচ্ছ জীবেদের সহাস্য পাঠপর্ব কাটাস। অযোগ্যক...