পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হিম- হৃদয় সম্বাদ

ছবি
'এসো। ফিরে এসো... আরবার!' এ আর্তি, এ তুষার-কুয়াশা মিথ্যে। কায়া ছাড়া আর সব রেখে গেছো সব ভার, সব স্পন্দন, সব কান্না-হাসি! সব ভালো ভাষাভাষী, ভাসাভাসি! কৃপণ, নিঠুর শরশব্দালীতে বেঁধা যায় না, যায় কী তোমায়! প্রত্যাগত বেদনার তো একটাই ঠিকানা... আমারই হৃদয়। নিজস্ব। একা আর তোমার ভালবাসাহীন বাসায় ঘরকন্না মন্দ কী! চলে যাওয়া আদপে যাওয়া কী! বলে বা না বলে যাওয়া তো আরও তুচ্ছ ব্যাপার। ভুলে যাওয়া বা না যাওয়া ... বাঁচা বা না বাঁচাও তাই। শীতকাতুরে প্রভাতী, নিজের নাম কী রেখেছো জানি না। সবটা ফেলে কেমন আছো। তুমি? নাকি এসব  কর্তিত , খণ্ডিতেরই ক্রন্দনমাত্র! অবহেলিত প্রশ্নেরা জুড়ে জুড়ে আজ উত্তরগর্ভী।  উত্তরের আশা আরও উত্তরে উত্তরে গিয়েছে সরে ... মরণশীল মৃত্যুর শিলিভবনে হিম-দান শুধু ; জমাটমান  মৃত্যু জবাব খোঁজে না।

একস্বর , অশেষের অধিক

ছবি
ঐকান্তিক সমতলে তোমাকে মানায় না তুমি ঐ উঁচু,দূর থেকেই ভালো লাগে বেশ। ঐ দূর বহুদূর থেকে একচিলতে তাকানো  তারপর ...  মনোনিবেশ,মাথা নত করে। জনারণ‍্যে থেকেও পাশে থাকা,ভালো রাখা, মুগ্ধ হই, লুপ্ত হই, ধ্বস্ত অথবা বিধ্বস্ত, হই মনে মনে। বিস্মিত হয়ে ভাবি, এভাবেও ছুঁয়ে থাকা যায়!জড়িয়েও কি? সমগ্র সত্তায় নয় অংশে অংশে  প্রেম জমে- কখনও আঁচলের প্রান্তে কখনও নাকের ডগায়, কখনও শুধুই বা কানের দুলে। সর্বাংশে পেতে চেয়েছো কি সর্বগ্রাসী? কি জানি-তুমি অল্পতেই বড়ো খুশি। ঘরের মানুষকে আদর করার সময় মনের মানুষ ছুঁয়ে যায় কিনা একথা অর্থহীন। জানি যে বড় অসময়, এ চাওয়াও অচাওয়া তবু,বাসাবাসি,পাশাপাশি ছাড়িয়ে হেঁটে যাওয়া যায় বহুদুর বহুপথ। হোক তা দুদিক তবু গন্তব্য গন্তব্যই। পাওয়া ছেড়ে অপাওয়াই প্রাপ্তি হয় যদি, তবে থাক তা,হোক দুদিনের। জীবন তো বাসি নয়,হোক সুবাসিত জানো  তো গন্ধেরও গন্ধ থাকে! তোমার সূর্য উঁকি দেয় চিকনি শাকের আড়ালে। আমার সূর্য উঁকি দেয় কুয়াশার দঙ্গলে। তোমার সূর্য কর্মব্যস্ত আমার কর্মহীন। তবুও  জানি কোথাও তারা হয়ে গ্যাছে লীন। দিগন্তে চাঁদ ডাকে-সূর্য তুমি উদিত থে...

চর বিচরণ পালা

ছবি
নয়াচর আবার নদীগর্ভে মিলিয়ে যাবেই নদী হতে,  বাঁক হতে জন্ম তার। বাঁক আর কতদিন বাঁচবে! সময় সব কিছু ফের সোজা করে দেয়। মৃত্যুতে জন্ম পূর্নায়ত হবেই। ভালোবাসা জাগে তো ফের ফেলে যাবে বলেই! সূর্য ওঠা বা না ওঠা ফারাকহীন! বিহনই সত্য বিহান নয়।

বনের গহন হতে সমৃদ্ধ মননে পুষ্পিত একটি বিচিত্র কুসুমঃ বনফুল

(বনফুলের জীবন ও সাহিত্য) অধ্যাপক টিংকু কুমার ঘোড়াই সহকারী অধ্যাপক প্রধান, বাংলা বিভাগ গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজ চন্দ্রকোনা রোড , পশ্চিম মেদিনীপুর ............................................................................................................................................................................................................  বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়  (জন্ম: ১৯ জুলাই, ১৮৯৯ - মৃত্যু: ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯) বাঙালি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও কবি। তিনি বনফুল ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। পেশায় চিকিৎসক।অবিভক্ত ভারতবর্ষের বিহার রাজ্যের মনিহারীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি।বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের পিতার নাম ডাঃ সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ও মাতা মৃণালিনী দেবী। তাদের আদি নিবাস হুগলী জেলা শিয়াখালা।কিন্তু তিনি বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অনুজ অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় খ্যাতনামা চিত্রপরিচালক।    শিক্ষা ও কর্মজীবন    প্রথমে মণিহারী স্কুলে এবং পরে সাহেবগঞ্জ জেলার সাহেবগঞ্জ উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে তিনি লেখাপড়া ...

।। বাংলা ভাষা ও কুড়মালীর ভাষিক যোগাযোগ : একটি বীক্ষণ ।।

        ভারতীয় আর্য ভাষার  উৎপত্তি ও বিকাশের ধারায় বিহারী ভাষার উপশাখা ও ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ অঞ্চলের উপভাষা রূপে কুড়মালী (ISO 639-3- kyw ; Glottolog- kudm1238) ভাষার পরিচয় সুবিদিত।মাগধী প্রাকৃতের পূর্বী শাখাদ্ভূত বিহারী-হিন্দী ভাষার ১৯ টি উপশাখা আছে।এদের মধ্যে অঙ্গিকা, মগহী, অবধী, মৈথিলী, কূড়মী অন্যতম। পঞ্চয়গণিয়া (ISO 639-3- tdb ; Glottolog- panc1238) নামে কূড়মালীর আবার সঙ্গী উপরূপ আছে।।কুড়মালী মূলতঃ কূরমীসম্প্রদায়ের মুখের ভাষা।ঝাড়খণ্ডে এদের পদবী মাহতা,মাহতো; পশ্চিমবঙ্গে মাহাত,মাহাতো ; ওড়িশায় মোহান্ত এবং অসমে কুরমী। আভিধানিক ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী ‘কূর্ম’ শব্দটি হীনার্থক (কু+ ঊর্মি = হীনগতি)।পুরাণ মতে ‘কূর্ম’ বলতে বিষ্ণুর দ্বিতীয় অবতার অর্থাৎ বরাহকে বোঝানো হয়েছে।সংস্কৃতে ‘কূর্ম’-এর অর্থ ‘কৃষিজীবী’।এই অর্থটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য।     গ্রীয়ারসন সাহেব কূড়মীদের মধ্যে দক্ষিণ ভারতীয় বৈশিষ্ট লক্ষ্য করেছেন। এইচ. এইচ. রীজ নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে কূড়মীদের দ্রাবিড় উপজাতি থেকে আগত বলে মনে করেছেন।নৃতাত্ত্বিকেরা ত্রিস্তরীয় স্থানান্তরণ লক্ষ্য করেছেন। দক্ষিণ ভারত থেকে ওড়িশা-ঝ...

গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে

ছবি
আমার ক্ষমতা, অধিকার, সীমা তথা আমি কে এ বোঝানোর জানানোর উপহার রূপে শুধু অশ্রুই যথেষ্ট তো? এ তুচ্ছ পাতার জীবনে তোমার রুচি নেই জানি। ধন্যবাদ তো বড়ই সাদামাটা বর্ণবোধ! বলো সৃজা, কী দিই তোমায়? জীবন নেবে না! অশ্রু, শুধু অশ্রুকুসুম?

চন্দ্রিমা চারণ কাব্য

ছবি
অযুত বর্ষ জুড়ে সিঁধ কেটে চলা তোমার মনের অতলে অচেনার উদয়ান্তে চেনা মুখেরা সরে সরে পথ করে দেয়.. তোমার আসার। তোমার কাছেকাছে আসার। ভালোবাসার। চাওয়া হয় কওয়া হয় ক'কথা না পাওয়া ছাড়া সব হয়ে রয় শুধু! কেমন আছো, কোথায় গ্যালে... এসব মিথ্যে মিথ্যে যাপণ শুধু। বেঁচেছি, বেসেছি একথা মেকি নয় কভু। দিগন্ত আমি আছিই শিমুল ফুলেদের গাছ। একা। একক ঝর্নন। গুণ্ঠনবতী চাঁদের জ্যোতি-বিস্তার নিরবধি ... ! 

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

ছবি
মেঘের ভাষা আছে হয়তো। হয়তো সে বলে - হেথা হোথা যত উড্ডীন আশা আছে, হত আশা আছে বাঁচা, না বাঁচা আছে রহ বা বিরহ আছে - সবের হাতে হাত জুড়িয়ে ঘনায়মান ঘন হবে শুধু। অঝোরে ঝরে যাওয়া,  শুধু কেঁদে যাওয়াও সাধ হতে পারে কিছু মেঘের ; যারা বোবা ; গর্জনে, গুঞ্জরে অক্ষম। ধন্যবাদ সেই ঈশ্বরকে যিনি কান্নার ঝর্ণা-মুখ উন্মুক্ত করেছেন। 

বোধি-বিন্দু ৫

ছবি
২৯ একটা ভালোবাসার পরিবার, দু'একটা সৎ বন্ধু , কিছু খাদ্যশস্য আর একচিলতে ছাউনি যদি থাকে তোমার মাথা ঢাকার। তাহলে তোমার কল্পনারও চেয়ে অনেক অধিক ধনী। তুমি। ৩০ যে তোমার নি:স্তব্ধতাকে বোঝে না ; সে খুব সম্ভবত: তোমার সব কথারই মর্মোদ্ধারে অক্ষম। একেবারে। ৩১ বলো তখনই যখন নিশ্চিত হতে পারবে - নি:স্তবদ্ধতার চেয়েও অনেক বেশি বোঝাতে পারো। ৩২ অল্পাতি অল্পের জন্ম হয় মতদ্বৈধে; প্রায় সর্বোতভাগ দ্বন্দ্ব জাগে বিরূপ বাগভঙ্গী হতে। ৩৩ ক্রূর, বক্র, জটিল, কলহী বাক্য বা ব্যক্তির প্রতি সাড়া রবে যত ক্ষীণ ; অনুচ্চ। শান্তির নৈকট্য নিবিড় হবে। তত।

অন্তর্ভেদী

ছবি
কিছুদিন হোলো এক নাছোড়বান্দা লোক জুটেছে যার একজোড়া চোখ থাকে দূর দিগন্তে, উত্তরণের পরে । আর এক জোড়া ভাঙাচোরা মুখের ভিতর থেকে চেয়ে থাকে নির্নিমেষ, যত দূরেই থাকি পারিনা এড়াতে । মনে হয় আরে লোকটা তাকিয়ে আছে কিছু বলার জন্য,তাকিয়ে আছে কিছু শোনার জন্য, না না শুধুই তাকিয়ে আছে আমি আছি, আমি আছি।