পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৫

ছবি
আলোর যাওয়া আসা নেই। সে কখনও চলে যায়না; তাই তার ফেরার ব্যাপারটা অবান্তর। সে অনন্ত দীপ্র, অশেষ ভাস্বর। যাকে আমরা একটা জীবন বলি; আসলে তোর কাছে আসলে তা একটা দিন মাত্র। এই দিন মাত্রই আমার সর্বৈব আয়ু। ভোরের নির্জ্ঞান আঁধার দিয়ে আমার জীবনের শুরু। ক্রমে তোর বদান্য দাক্ষিণ্যে দূরত্ব হারাতে হারাতে তোর আলোয় ভরে উঠলাম। সম্বিত হারিয়ে ভেবে ফেললাম তুই আমি সমান। ভালোবাসি পরস্পর। আবেগের বেগের দায় আলোর নয়; দায় আলোকিতের। একান্তই আমার ।                              সব সম্পর্কেই বিকেল আসে ; ক্রমে, সন্ধ্যে... রাত। আবার ভোর। ফের স্বস্থানে ফেরার স্বাভাবিক গড়ান গতি। হ্যাঁ রে, তোর কথাটাই ঠিক; এ বিশ্বটা গোলাকার! বৃত্তায়ত। এক পার অন্য পারে পৌঁছবেই। দেখা হবে। তুই চাস বা না চাস!                              দেখা হবেই জন্মের সাথে মৃত্যুর ; বিরহের সাথে মিলনের ; কান্নার সাথে হাসির ; অবহেলার সাথে যত্নের ; ঘৃণার সাথে প্রেমের। হোক না তা কিয়ৎকালের !     ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৪

ছবি
মেঘ ক্ষীনায়ু। স্বল্প জীবনের মধ্যে উন্মেষ, উদ্ভাস, যৌবনের আলোক স্পর্শ,  হাসি, কান্না সবটাই  ঘটে। অতি স্বল্পায়ু রঙে রঞ্জিত। তোর ইচ্ছের রঙে সদা রঞ্জিত এক মেঘ ।আমি। কখনও আশমানী, শুভ্র, নীল, কৃষ্ণীল, রজত বা কনকবরণ! যেমন সাজাস, তেমনই সাজি।                  তার তিরোধান কখনো বজ্রে, কখনো ঝঞ্ঝায় কখনো বা বর্ষণে। তুই অশেষ আকাশ। যত দিন বেঁচে থাকি, তোর আশ্রয়েই থাকি। মেঘে মেঘে কতো কথা, ছোট ছোট লড়াই। আড়ালে গিয়েও সদা স্বস্তিময়। তুই আছিস তাই।                  গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্য...  জ্যোতিষ্কলোক তোর আশ্বাসে, আশ্রয়ে সদা লালিত। মহাবিশ্ব আর মৃত্তিকার যতটা অসম্ভবতম যোগ কল্পনায় টিকে আছে ; তার কারণ তুই। ক্রন্দসী আর দিগন্তের প্রণয় তোর সহায়েই। তুই জীবিতের প্রাণবায়ুর প্রাঙ্গণ ; মৃতের অবলম্বন। তুই আশ্রয়, উদ্ধারক ; তুই পারাপার।                  আমি ঝরমান মেঘ।তুচ্ছ, বিকট, বিলীয়মান।  দেখতে দেখতে সব মেঘের মতো আমিও ঝরার পথে। শুধু শেষের অপেক্ষা ... ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৩

ছবি
    ।। তিন।। আজ তুই গাছ। তরুণী তরু। কায়ায় ছায়ায় মায়াময়।পান্থপাদপী। আদতে বনস্পতি। ঐতিহ্যময় বাওবাব।আস্থা, আশ্রয়, আস্বস্তির একচ্ছত্রবিগ্রহ। আমি তোর গায়ে একটা ছত্রাক ।তুচ্ছ, সামান্য।আগে স্রোতের শৈবাল ছিলাম। আটকে আটকে চলছিলাম। এখন এঁটুলির চেয়েও আঠালো। নাছোড়। গড্ডলিকায় চলছিলাম মরণের, মোহনার দিকে। ঈশ্বরী ,তুই দীঘল চোখে তাকালি। করুণার দীপ্তিতে রঞ্জিত হয়ে উঠলো তোর ওষ্ঠ-যুগল। বাহুদ্বয়ের পেলব বিস্তারে আমার পতন থমকে গ্যালো। তোর প্রশ্রয়ে নতুন শেকড়ের জন্ম হলো। কোলে তুলে নিয়ে ভাবলি ... স্বর্ণলতা করে রাখবি। জড়াতে দিবি সর্বাঙ্গে। আমি যেন তোর   প্রিয়তর কোনও এক  অতি আদুরে ভাগ্যবান শিশু সারমেয় !    উল্টে আঁচিলের মতো আটকে গেলাম তোর গায়ে। তুই ভাবছিলি একাই ঝরে যাবো। ওহে চিরলাবণ্যময়ী, গায়ে যে দাগ রয়ে যাবে!    আবার ঋতুরা হিমের পর বৃষ্টি আনবে। আনবে ঝড়ের ফুতকার। সব ক্ষত ,ধূলো, দাগ ঝরে পড়বে মৃত্তিকায়। জড়ে বিয়োজিত হবো। নিয়োজন... নির্বাণ...  ফের জন্মান্তরের চক্র। তোর প্রতি অনন্ত মহুটান ... বারবার... প্রতিবার।    ফের  জন্ম...  ফের তোকে কা...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ২

ছবি
অনেক দিন পর তোর সাথে দেখা।  তবে হঠাত নয়। প্রতিদিনের বাঁচার শক্তি। আমার সূর্য । তুই। তোকে অবমাননার চেষ্টা অসার, অবান্তর যেমনটা আদি হতেই জেনেছি। প্রমান হল কোনও কিছুই অনন্ত নয়।সবই গোলাকার, পূর্নায়ত। নিভন্ত অপেক্ষার ফুল। অতি কাছেই লুকিয়ে ছিলি। যেন নিজেরই কানের অতি কাছের দুল। এ মন যেন বিগ ব্যাংয়ের পর ঠিকরে পড়া তপ্ত জ্বলমান নক্ষত্র পিন্ড। বেখাপ্পা ।ক্রমে আকার পেয়েছে। জ্বালারা ক্রমে জুড়োচ্ছে। নক্রোধ, ন্যগ্রোধ! গায়ের ওপর গাছের জন্ম হচ্ছে। ওপরে বেঁচে চলার এক ছিট সাধ্যমত আকাশ। হৃদয়ের অতি গভীরে - অন্দরে কন্দরে বয়ে চলেছে মুঠায়মান লাভা আর জল। বাইরে আমি ক্রম প্রশান্ত।        নিজে গাছ, নদী, আকাশ ... হওয়া অসম্ভব মেনে আবর্তিত হয়ে চলেছি নিজেরই ক্রম ক্ষয়মাণ আয়ুর চারিপাশে... আড়ালে থাকা সূর্যের টানে - মাধ্যাকর্ষণে... অপ্রকাশ্য তোর অশেষ আলোয় বর্ষ বর্ষ কাটিয়ে পরিক্রমিত হয়ে চলেছি। যে আবশ্যিক টানে গ্রহেরা বাঁচে... সেই অমরণীয় আমরণ টিকে আছি।        তোর সাথে আজ বহু বহু দিন পরে দেখা হল। আসলে দেখা দিলি ... গ্রহ গ্রহণের তারিখপঞ্জি মেনে। আমি ভাবলাম দেখা করলাম।এ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন

ছবি
এখন দুপুর। বুড়োনো সকাল থেকে নীল পাহাড়ের কাছে  আছে পান্থ।  বুনোবাঁশ, আধ-কোমর সব গুল্মে চারপাশ ঘিরে আছে।রিনরিনে উদাসী হাওয়া ছাড়া শব্দ জাগাবার মতো কেউ নেই এখানে। পাখিরা   লেবুহীন কমলাগাছেদের নগ্নশাখা গুলো ছুঁয়ে ডানা ভাসাবার খেলায় মগ্ন।শীত চলে যাওয়ার পর ক্রমে ক্রমে নব বসন্তের রাংতা বিমুক্ত হচ্ছে।   বছরভর চেষ্টা করে এই পাহাড়ী উপত্যকাটায় নিজেকে নিয়ে আসতে।পান্থ। প্রায় সুষুম্ন পথ বেয়ে তার এই চূড়োর কাছে বেশ ভালো লাগে। পরম চড়াই। স্থানটা চূড়ান্ত শৃঙ্গ নয়। আরও কিছু পথ চরম দুর্গম ট্রেক করে পৌঁছলেই আকাশের উদার উদ্বাহু আশ্রয়ে মিশে যাওয়া যায়। যার পরে এ জন্মের তরে আর কোনও যাত্রা নেই। যেতে পারেই। তবু, এখান অবধি পৌঁছতে; থাকতে ।বাঁচতে, টিকে থাকতে তার বড় ভালো লাগে। এটুকুই টান...  মোহন মোহমাত্র তার। সে জানে এর পরই পরম শূণ্য ; শেষতম আশ্রয় এ প্রাণের।    আজও হয়তো হিয়ার আসা হয়ে উঠবে না ; তবু। একটা সময় অবধি। আসন্ন আকীর্ণ আঁধার অবধি সে এই নিবিড় নির্জনতম সঙ্ঘারামে মুহুর্ত গুলোকে...  তাদের গায়ে লেগে থাকা গ্লানি গুলোকে ঝরতে দিয়ে যাবে। যাবেই। হিয়া তার অজোড় হৃদয়ের একান্...

অসংযমী কথা-কাঠিরা

ছবি
জানো, আমি আর আমার গোপন সঞ্চয়, নিভৃত সৃজন, একান্তের আশ্রয়ের পানে... তাকাবার সাহস পাইনা।একবারও।   অসহ্য এক গহন টান সত্বেও  এভাবে নিজেকে নিজের  দু'পাটি ধারালো দাঁতের  মাঝে রেখে ... ঘর্ষণী মৃত্যু হতে বেঁচে বেঁচে রই। তোমার ফেলে দেওয়া খন্ড খন্ড হাসি, উদ্ভাস, রং, রূপমাধুরীর অপরূপ উল্লাস গুলোকে কুড়িয়ে বাঁচিয়ে বুকে করে রেখেছিলাম ... বেঁচে ছিলাম! নিজের একান্ত স্বর্গ গড়ছিলাম ... অবশ্য তোমার বিনা অনুমতিতে! তুমি আর তোমার প্রিয়েরা মিলে প্রায় জোর করে... অযাচিত ভাবে আমার ভান্ডারে, বিশ্ব সংসারে এক আঁজলা আগুন এনে ছড়িয়ে গেলে ...  জ্বালিয়ে দিলে... ছারখার করে দিলে  আমার এ একান্ত বাঁচার ভূমি! কিছুই তো চাইনি আমি ... তবু, অযাচিত এ্যাতো অসীম অনুগ্রহ? আমার অগ্নিজ্ঞান ছিলোনা... তুমিই মনস্ক করে, জাগিয়ে, জানিয়ে গেলে অগ্নিদাহ কী দুর্মর, দুঃসহ!দুর্বহ...! হয়তো খুব ভালোই করলে ; যে নীরব নিরন্ত নয়ননীরের দ্বার খুলে গেলে ... তার মূল্য কিভাবে মেটাবো? মরণে? যদিও তোমাকে, তোমার নিকটতরদের প্রশ্ন করার যোগ্যতা আমি ধরিনা! আমায় গুরু পাপে লঘু দন্ড দিয়ে ক...

বোধি-বিন্দু ১১

ছবি
বুদ্ধ হতে বোধ। বোধের জন্যেই বুদ্ধ প্রাসঙ্গিক। গোতমের জন্মের বহু আগেই...  'এ জীবন কী' ; 'এ জীবন লইয়া কী করিব! ', ' এ জীবন আরও ভালো যাপণ কিভাবে সম্ভব! '... ইত্যাদির দার্শনিক, সামাজিক আলোচনা স্রোতমান ছিলই। নিজের জীবন দেখে সঙ্গীদের প্রতি যে অনুভূতি গুলো প্রকাশ করেছেন...  তা-ই বুদ্ধবাণী বলে ধরে নেওয়া হয়।বলাবাহুল্য, তাঁর তিরোধানের সহস্রাধিক বছর পরেও বহুজনে, বহুমনে,  বহুমতে, বহুভাবে ভাষায় যে যাপণ-বাণী বহমান গুলোর অতি অল্পই সরাসরি বুদ্ধমুখনিঃসৃত। তবে,  বিস্তৃত ব্যাখা,ব্যাপ্ত চূয়মান ধারা গুলোকেও কোনও মতে বোধি-বিমুখ , বিরূদ্ধ  বা বিভ্রান্ত বলা চলে না।  ‌অন্যভাষায় প্রাপ্ত বাণী-বচনের অনুক্রমে নিবেদিত হলো একাদশতম কিস্তি। ৯৯ আবেগ, অনুভূতিরা এরা আদতে এক একজন দর্শনার্থী মাত্র। ওরা যেমন এসেছে, ঠিক তেমনি চলে যেতে দাও... ১০০ এ জীবনে কার দেখা পাবে, তা সময় নির্দিষ্ট করে! এ জীবনে তুমি ঠিক কাকে চাও, তা তোমার হৃদয় বলে দেয়। এ জীবনে কে তোমার আমৃত্যুসঙ্গী হবে, তোমার আচরণই তা সৃজন করে। ১০১ যা তুমি প্রাণপণে নিজের বলে আঁকড়ে প্রবলভাবে অধিকার বোঝাচ্ছো; ওটা ছ...