পোস্টগুলি

2020 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রাতের রাস্তার সহিত

ছবি
 যারা বাসো  দীর্ঘ শীত  রাত্রিটিরে ভালো ...  চলো ভয়েদের নিয়ে খেলি ছিনিমিনি... হিমেল মৃত্যুরা ঝরুক মরুক ... মাথা কুটুক আমাদের পায়ে; মাথায়, সর্বাঙ্গে ... পরতের  পর পরত পড়ুক।  গা'বো গান - রাত বাকি ,পথ বাকি ...  শিকারী মৃত্যু তাকিয়ে তাকিয়ে মরুক!

অথঃ অবজ্ঞা গাথা

ছবি
 প্রতিদিন প্রতিপলে  তােমার চলার পথে আছি    আমি চিরঞ্জীব অবহেলার মত।  এত অবজ্ঞা পাও কোথা হতে?   আমাকে মাড়িয়ে অভিসারীকা হও,    ফের ফিরে আসাে কোন মুখে?    বেদনার তো অভাব নেই জীবনে আমার!

অথ: বিফল মেঘ কুসুমম্

ছবি
মাটির কাছে মেঘের লিপি, সমুদ্দুরের হাতে নদীর চিঠি, বিলোল-বেণী মেঘদূতমের বিবশ গুঞ্জরণ ... মেঘ চলেছে রণে... ঘুচিয়ে দেবে পাহাড়,নদী সমতল,সমুদ্র, মালভূমির সঅব দূরত্ব ‌। অযুত উদ্বাহু উত্তাপ, শীতলান্ত আঁচল, অগনন ধুলো বালি,নুড়ি আর দীর্ঘশ্বাস ... মেঘের সুচলিত বন্ধন প্রণালী‌‌। আকুল মৃত্তিকার বুকে,মুখে  জল পড়ে ...  কথাদের মাথা হতে  ছত্র নড়ে না,  পত্র নড়ে না শুধু ‌। মেঘ-যত্নে অহরহ কত পত্র লেখাই হয়, পড়ে না কেউ! শুধু ‌।  বৃষ্টি শুধু পড়েই যায়  ... সমুখে কত শত অযত্ন লালিত নদী,নালা... অদূরে বন্যা-সম্ভাবনা! তবু, বৃষ্টি পড়েই চলেছে ... পত্র পড়ে না কেউ!

পিতৃপর্ব ৩

ছবি
।। পিতৃপর্ব ৩ ।। #শব্দজব্দ নিয়ম, নীতি, নির্দেশ, ন্যায়, নির্বাচন, নতুন ...  এদের মধ্যে বহু মিল  - সব গুলোই 'ন' দিয়ে শুরু ... এক্কেরে আজন্ম অবাধ্য 'রেগে বলে দন্ত্য ন যাব না তো কক্ষনো।' দেখতে ভালো । নতুন। চকচকে। ভাবগম্ভীর। অবশ্য শুনতেও ভালো! সবার মুখে মুখেই ঘোরে। যাঁরা রাঁধেন তাঁরাও মানেন না; চাখেন, ভাববাচ্যে বলেদেন হাবভাব কেমন হওয়া উচিৎ। যাদের জন্য সাধা, তারা আধা আধা ছুঁয়ে দাদা-টাদা ধরে বাইপাশে ছুঁইমুঁই খ্যালে ... অতঃপর যত দোষের ডাম্পার এই ছয়-ছয়টি ভায়ের ওপরই উপুড় হয়। স্বাভাবিক। তাই সব দায় গাছ, মাস্ক, ধুলো, হাওয়ার মোটেও বর্তায় না। যে পিতা নিজেই অবাধ্যতার সৃজক, অনুসারী ... আজ  হঠাৎ  এদের কঠোরভাবে  সম্মান করতে বল্লে ... আসল প্রণাম তো প্রহসনের পায়ে ঠেকবেই। তাই নিয়ম, নীতি, নির্দেশ, ন্যায়, নির্বাচন, নতুন ... এ গুলো কোনও সিরিয়াস বা নতুন শব্দ নয়। 'ন'রা গোড়া থেকেই 'না'ই বোঝায়। #মূল-ছবি - 'সহজপাঠ' প্রথম ভাগ।

অচিরায়মান চিঠি চতুষ্টয়

ছবি
১ আগামী সকাল গুলোকে বড্ড ভয় পেতে পেতে ঘুমোতে যাই ... প্রতিরাতে মাঝে ভোরের লাশ গুলো ঘুমের আচ্ছন্নতায় ডুবে থাকে; নিরীহ,নিষ্পাপ। জীবনে দিনের কোনও চিহ্ন নেই জেনেও! না আছে আগামীর উত্তর , না মূলের প্রতি যত্ন। তবু নঞ-জীবনটাকে তো বাঁচতে না বলিনি। বাসা। তাও আবার ভালো! অবান্তর নবাবিয়ানা। আকালে,অকালে  হ্যাঁ গরীবেরাই আগে ঝরছে। স্বতোপ্রণোদনে মরছে ... এ সময় আত্মহনন মুর্খেরাই করে! ২ যদি মৃত্যুকে ধোঁকা দিয়ে কষ্ট করে বেঁচে থাকি। তোমার সাথে দেখা হবে ।এ বিশ্বাসে অন্ধের মতো আঁধারের সাথে লড়ে যাই শুধু। জানি আর নতুন বা পুরাতন কিচ্ছু ঘটবে না। জেনেও তবুও বাঁচি। তাই কষ্ট করে মরা যাবে না। বেদনাই যখন সাধারণ পরিণতি, বাঁচার বেদনাতেই থাকি। ৩ অসময়ের দিনে সময়ের কোনও অভাবই নেই। একমাত্র। নিজের খুশিতে সুবিধা বুঝে... কারও সময়, শুশ্রূষা, সম্বিতকে গুলিয়ে দেওয়াটা ... মনে করিয়ে দেবার পর; নিজেকে স্বার্থান্ধই মানছি‌। এখন অসময় ঠিক, তবে দুঃসময় নয়। কথারা বরফে জমছে ... বরফ গলা জলের চিরহরিৎ নদীর জলাভাব রইবে নাকো রইবে না। বওয়া থামবে না। সব স...

প্রলাপ-পঞ্চক

ছবি
।।  ।। ১ #কম্পাস  আধাচাঁদা  রামধনুকটা সাজু-রুপাইয়ের গ্রাম-দুটোকে ছুঁয়ে আছে।আকাশ-পাতে কম্পাসের চক্র-স্বন।মেঘের কাঁধে মেঘ । বৃষ্টি এলো বলে! ধীরে ধীরে সঅব ভিজে যাবে।পরস্পরকে আঁকড়ে লয় আটকাবার চেষ্টারা ক্রমে  ঘনিষ্ঠ হবে আরও ... ২ #হাত_এবং_হাত স্বাধীনতা দিবসে শ্রীনৃপেন-এর দর্শন-দাদন নেওয়া আছে। হস্তপ্রক্ষালনী , স্পর্শ-প্রায়শ্চিত্তকের দহরমে রেখা প্রায় অগস্ত্য-যাত্রায় প্রস্তুত! আসন্ন অভিসারে কীভাবে যে হাত দেখাবো! ভাবছি ... ৩ #একবিংশ_শতাব্দী বাবা বললো যোগ করতে, জ্যাঠা বললো কোরোনা। প্রতিবেশীরা রাঁধছে ছ্যাঁচড়া, শিয়রে সূয্যি গ্রহণ... আমি ভাবছি, তাল খাবো না। বছরের দীর্ঘতম দিন। পৃথিবীও ধ্বংস হবে। সব একদিনে। এবার তাহলে বোঝো! ৪ #হাট দুটো ভুট্টার মাথায় পা রেখে, একটা ভুট্টাকে ঠুকরে ঠুকরে খাচ্ছে। একটা  সবুঝ পাখি। পেট কমলা; আর ঠোঁটটি লাল। বাগানে আপাততঃ আসন্ন আউশের আলাপন। দর্জির দরওয়াজায় 'মর্জিমতো পোষাক বানাও, বদলাও '  চিরকুট আঁটা। প্রাক্ নির্বাচনী #হাট। সগৌরবে জমিতেছে ... ৫ #ভুখাবুলারি কোয়ারান্টাইন, ...

আমার প্রিয় শত্রু, বা বন্ধুদের প্রতি

ছবি
।।।। এক হতে না পারা দু'টো মানুষ; কতো মানুষ যেখানে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছে; নিজের সাথে পরতের পর পরত জড়াতে জড়াতে আরও শক্ত, একরোখা হচ্ছে।  'আমার বেঁচে থাকার ওপর কারো দায়, দয়া, দায়িত্ব কিচ্ছু নেই! তো খামোখা কাকে দেখাতে, কেন আমি মরবো? ' নিজে হেরে কাকে জেতাবো? লোকলজ্জা, আভিযাত্য, সম্মান এগুলোকে আঁকড়ে ধরতে ধরতে তো একদিন বুড়ো, অথর্ব , অক্ষম হবোই। আর বন্ধুত্ব? মন খুলে কথা বলার মানুষ ? উন্মুক্ত উঠোন‌।  ক'জনের ভাগ্যে জোটে? বলাবাহুল্য, তালিকা তো দেখাবার দ্রব্য। ঈর্ষা, ট্রোলিং, কোমরে লুকোনো ছোরা ... প্রায় সবারই আছে। খাঁজে খাঁজে খঞ্জর লুকোনো!আমারও আছে। হাতহীন জগন্নাথী অজুহাত অশেষ। সময় থাকলে বরং ভাবো ঐ হতভাগ্যদের কথা; শত চেয়েও যারা বলে উঠতে পারলো না অযুত কথা ... কান্না হাসি, ঘৃণা, ভালো খারাপ, বিশ্বস্ত অবিশ্বাস, ভরসা বা ভরসাহীনতার কতো নুড়িকথা ... যে ধারা উজিয়ে এসে নদী হতে পারলো না; সে ব্যর্থদের কথাটা ভাবো। কতো একা মানুষ কাজের সাথে, অকাজের সাথে অসম্ভব সম্ভবের সাথে, ব্যর্থতাকে,বিহনতাকে নিজের কাঁচিতে কুচিয়ে কুচিয়ে কান্নাকে হাসি সহ...

অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের গল্প

ছবি
নদী নির্মর, সে শুধু ক্ষতিকর খাত বদলায়! খাঁ খাঁ পাড়, শূন্য গাত্রের নুড়ি , ধ্বসে পড়া ঘাট, আর হাল ভাঙা চুরমার নৌকোর ল্যান্ডস্কেপ তো নদী নয়। অতীতের কারুব্যথার চিহ্নমাত্র। কিছু কিছু মানুষ নুড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়েই কিভাবে জীবনের তীর খুঁজে পায়। নদীর যোগ্য ক'জনই বা হয়! বাঁকের বক্রতা বাড়লেই কানে আসবে আগুয়ান অশ্বক্ষুর-ধ্বনি। হয়তো হ্রদ জাগবে, কেটে যাবে হা-হুতাশি  পিপাসুদের কাল। নদী আর তার ফেলে যাওয়ার তান অফুরান অফুরান ...

কাঠের কন্ঠগীতি

ছবি
শুধু এক মুঠো অজুহাত জড়ো করতে পারলে ; ফিরে যাওয়া ফিঙেদের হয়ে ল্যাজের কাজলপাতিতে তোমার কানের লতিতে গান এঁকে দিতুম। ধুঁদুলের  নিরীহ বীজেদের মতো যদি টুপ করে ঝরে পড়া যেতো তোমার আঙুলের আলগোছে ... ধীরে ধীরে কচি কচি ডানা দুটি মেলে, তাকাতাম তোমার অঞ্জনে অর্চিত চোখ দুটোয় ... সব ভুলে করুণায় ভিজে যেতো চারপাশ! ধুয়ে যেতো আমার সঅব ভুল গুলো! ভাবলুম , হাহাকার করে কেঁদে উঠি, সব প্রার্থনা জড়ো করে তোমায় ফের বাঁধনে বাঁধনে বাঁধি! নদীকে মানাবার মতো কোনও বাঁশি, কোনও কথাকলি নাই আর আমার কাছে! নিজেই ছিঁড়েছি, ছুঁড়েছি নিগড়টাকে কৃষ্ণিম মাথুরে কোন্ সে অতল কৃষ্ণ গহ্বরে! নিঃস্বের বিশ্ব এতো নির্জনতর! হাতহীন এ জগন্নাথের বাকচাতুরীও আজ প্রলয়ের প্রস্তরে নত ... পরিনতি ! নুড়ি, ধূলিদেরও বেলা গড়ে যায় কোনও ভাবে ... ঝরে যাওয়ার মতো যদি  একটা জম্পেশ অজুহাত নাগালে থাকে তোমার দিও তো উড়ায়ে আমার পানে... ওগো যোধৃ, যুঝতে যুঝতে যদি এক কণা অবকাশ এসে তোমার বসে পাশে আর দয়ার চোখে হাসে। ঝড়, মেঘ ,বরিষণ তো ক্ষণায়ু ... বুদ্বুদ বীর। অক্ষমকে ক্ষমা অসম্ভব জানি! তাই ঘৃণাই যথার্থ। ...

সব দোষ কালের, বৈশাখী আঁচলের নয়

ছবি
বড় অস্থির, অসহনীয় এ সময়।চোরের মতো চুপি চুপি খিড়কে পথে নতুন বৈশাখ এসেছে। বর্ষ বলয়ে আর একটি নতুন পাকের শুরু। চলবার চাকা বিমূঢ় হয়ে স্তব্ধ । পথ পড়ে আছে। একা। কান্না, হাসি, প্রাপ্তি ,বিচ্ছেদের পথ। নির্জন নিভৃত অপেক্ষায় সে ক্লান্ত। ঘন ঘন ঘড়ি দেখা প্রেমিক যেন! পথে‌র তো কোথাও যাবার পথ নেই। শত নির্মম নিঃসঙ্গতা সত্ত্বেও প্রেমের তরে পড়ে তাকে পড়ে থাকতেই হবে। এ পর্বের ক্ষুদ্র কবিতা গুলি পথ ও প্রেমের প্রলাপনে মুখর ।বিরহ নয়, বিহানহীন বিহনের ব্যথিত লিপিরা। ১ যদি কখনও এক চিলতে ঘুম দয়া করে, তার ফিনফিনে আঁচল উড়ে গেলেই... শ‌েষের শুরুতে, বা শুরুর শেষেতে... তোমার খবরের তরেই ছটফটাই আবার ; বারবার... ২ আসলে কেউই পারে না সত্যকে বদলে দিতে ; সত্যই বদলেছে তোমাকে আমাকে - তুমি ভুলকে পেরেছো ভুলতে, আমি এখনো সত্য আঁকড়ে...! এই সত্য মাত্র। ৩ আচ্ছা, তুমি রাত্রিতে না রাতের ওপর দিয়ে হাঁটতে ভালোবাসো? আমি তোমার রাত হতে চেয়েছিলাম! ৪ কখনো কখনো বড় বিভ্রান্তিতে পড়ি... তোমার কাছে তো সবই ছিল, আছেও। তবু, কেন এলে? আবার ফিরেও গেলে! মেলাতে পারি না মেলাতে পারি না; জানো! ৫ তোমাকে অনলাই...

নিশার স্বপন মম

ছবি
তুমি তো আস্ত একটা দিন। রাতের বুকে ঘুমোতে আসো, কখনও একটু আগে, কখনওবা খুব দেরীতে! কর্মচঞ্চলা এক দিঘল নদী তুমি, মধ্যরাতেও তোমার নিরততার দ্রৌপদী আঁচল ক্ষীণায়মান ডানায় উড়তেই থাকে ... ভোরের ভয়ে ভীতু রাতটার কাঁধে চিবুক রেখে যখন তুমি বিভোর নেত্রে নিঝুম পৃথিবীটাকে দ্যাখো - সারাদিনের স্বেদ, ক্ষত, ক্ষয় গুলোকে প্রশমণের খেলায় মাতিয়ে দাও। দলা পাকানো বোবা কান্না গুলোকে বাহুলগ্ন আঁধারের গলায় মুছে মুছে মারতে থাকো... প্রতি পলের আদরের উদ্ভিদ গুলোকে তার গায়ে মাথায় বপিত করো ... কোথা থেকে এক অপরূপ কীলক এসে গেঁথে যেতে থাকে গহিন গভীরতর তোমাতে! তোমার পতনের পথ আটকে আনন্দেরা উৎসবে মাতে! অপূর্ব এক স্মিতাভ বিভা ঋণী হয়ে রয় ... তোমার ওষ্ঠে, অধরে, মুদিত নয়নে , কর্ণলতিতে, সুঘ্রাত ললাটে, অলকদামে... নিবিড় বাহুলতা, ললিত গ্রীবা প্রমুখেরা অধীর রাতটাকে তুষ্টতার গান শেখায়... বিবশ রাত তোমার কোলেই নিদ্রাবিভোর হয়, ভুলে যায় ভোরের, তোমার দৈনিক বিহনের ভয়! সবার প্রশান্তি নিশ্চিত করে শুধু জেগে রও তুমি। প্রবল একান্ত একাকী ... তোমারই হ্লাদিনী‌সত্ত্বা রাতটাও নিঃসঙ্গতা লেপে যায় সর্বাঙ্...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৫

ছবি
বিরহে ব্যাধিতে এবারের বসন্ত মুড়িয়ে এলো প্রায়। সব বোষ্ণব কবিতা আজ দেরাজের স্বতোসিদ্ধ আঁধারে স্নানরতা। মাঝে মধ্যে উঁকি দিচ্ছে... অপেক্ষার কান ঘেঁষে  কেউ উপশমী গান গেয়ে গেল কি! আজই কি উঠে যাচ্ছে তার এবং তার দয়িতের মাঝের পরদাটা? ফের সাজঘরায় নমোঃ!      নীরন্ধ্র ব্যস্ততায় তোমার নিজের সাথেই নিজের দেখা হচ্ছে না আজকাল। তারমাঝে উটকোদের হানা বড়ো বিব্রতির বিষয় বটে। এ কিস্তির কবিতা গুচ্ছে সম সময়ের অথিরতা অগোছালো ভাবেই এসে পড়েছে। হৃদয়-গাত্রে লেগে থাকা দুর্মর প্রেমচিহ্ন গুলোকে স্মৃতির তুলিতে তোলার চেষ্টা হয়েছে।সেই সঙ্গে দু'একটা খন্ড পংক্তিকে অনুবাদের আদর দেওয়া গেল! ৭২ বড় সম্পর্কের জন্ম অপ্রত্যাশিত ভাবেই হয় ; দমফাটা নিদাঘের বুকের ওপর হঠাৎ উড়ে এসে পড়া এক পশলা বারিধারার নীলরঙা খাম যেন ... ৭৩ সংবেদী সম্পর্কেরা অনেকটা ডানা ভাঙা পরীর মতো... ভালোবাসা ছাড়া উড়তেই পারে না। ৭৪ গতরাতে চাঁদের সাথে ভোর অবধি কতো কথা হলো... ও আমাকে সূর্যের গল্প শোনালো, আমি শোনালাম তোমার কথা তারপর চাঁদটা যে কোথায় তলিয়ে গেল!               ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন - ৭

ছবি
তুই সর্বংসহা।জানিস সৃজন ধর্ম; সংহার নয়।    তুই প্রকৃত। #প্রকৃতি। শত অপব্যবহারের শিকার হয়েও নীরবতায় নিবিষ্ট। স্বতোপূর্ণা। অবুঝেরা কত শত ক্ষতে ভরিয়ে দিলেও ; অযোগ্যেরা অযত্নে মেতে উঠলেও থামানোর কোনও আয়াসই নিস না। কারণ তুইই একমাত্র জানিস শেষ পরিণতিটা। খেলা দেখিস, কখনও প্রাঙ্গণ হয়ে প্রশ্রয় দিস। মহান স্রষ্টার কোনও সৃষ্টিকে কষ্টে যুতে দিস না। কষ্ট শুসে নেওয়া তোর স্বভাব।    নীলকণ্ঠ মহাদেব এক নিছক ব্যক্তিমাত্র; তুই তো আবিশ্বময়ী বিস্তার! বিবর্ধমান ক্লেশ-ক্লেদ-কষ্টের গরলকে তুই অমৃতে বদলে দিতে জানিস।সময় তোর দাসানুদাস ; সে যায়, আসে...   তাকে ভ্রুভঙ্গে নাচাস। হ্যাঁ তাকেও তুই বাঁচাস। তারও যে একটা জীবন আছে একমাত্র তুইই তাকে বোঝাস।    স্বার্থপরতার অন্ধত্বে এক একটা সভ্যতা  অসভ্যতার চূড়ান্তিতে ধ্বংসে ধূলিস্যাৎ হয়; তোরই চোখের সামনে। উল্লাসে না ফেটে পড়ে আবার নতুন করে মুঠো মূঠো সবুজকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনে নবীন আশার আলোয় আনন্দধাম গড়িস। গানে, গল্পে আনন্দে সব দুঃখেরা আয়ু হারাতে থাকে। সকাল ,সন্ধ্যায় আমার মতো তুচ্ছাতিতুচ্ছ জীবেদের সহাস্য পাঠপর্ব কাটাস। অযোগ্যক...

সদ্য আইসোলেটেট প্রনয়ীর লিপি

ছবি
আনশেভড গাল, চিবুক ছাড়া কাঁটাখোঁচার জন্ম এখন আর বিশেষ কোথাও নেই। নেই  পথ বুকে আগলাবার তোমার কোমল কোমলতর কত কিছু! বেকার ঝিমোতে থাকা কাঁধটা কারও তরে রিনরিনিয়ে কেঁদে যায় শুধু... পরম অযোগ্যতায় বর্ধিষ্ণু দূরত্ব ছাড়া আর আমার বেশী কি পাওয়ার থাকে? পাওয়ার থাকতে পারে! যে ভাঙে, সেই গড়ে ;কাছে আসতে পারে ... এ তত্ত্বদর্শন বস্তুর ক্ষেত্রে খাটে অবশ্য, মনের ক্ষেত্রে নয়! জুড়বার মতো প্রিয় বিষয়ের অভাব তোমার নেই এ সদাসত্য । তোমার সবকিছুর মতো আমিও আমার কাছে এখন আরও স্পষ্ট ; অবহেলা করতেই পারো ... তা ওপরে আর রক্তাক্ত করেনা! গাত্রহরিদ্রার আয়েশ জাগে না... আবিশ্বের শঙ্কারা আজ জোটবদ্ধ ; তবে ভালোবাসায় নয়। এ সত্য! 'মরিতে চাহেনা তারা এ সুন্দর ভুবনে... ' তাই ঝরতে তাদের হবেই! জানলা আমার খোলাই আছে, আঁধারের সাথে কত যে কথা আছে বাকী! আর আসার তো কেউ নেই বলে দরোজায় সজোর খিল আঁটা ... কলম আজ ক্রাচে পরিণত, যে ওষ্ঠেরা ছিল তোমার সঞ্জীবনী সুধা একদিন...! তাদেরই খুঁড়োবার ভার নিয়েছে সে কাঁধে। ভালো থাকার কলিরা, গানেরা স্বভাবতঃ আর আমার কথা আঁকেনা ! আকাশে উড্ডীন নীল খামের পত্রগীতিদের ...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৪

ছবি
বসন্তের সারা গা ভয়ের রক্তে ভেসে যাচ্ছে। অশনি সংকেত নীরবে শুষে নিচ্ছে পন্ড হয়ে যাওয়া ফাগ পরবের রঙ গুলোকে। ভয়ের বিপ্রতীপে আজ আর ভক্তি নেই। তিকোণ প্রেমের এক বাহু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। অবহেলার টিলা গুলোর মাথায় দু'এক মুঠো যত্ন-কুসুমের জন্ম হচ্ছে! এখনো কিছু চাঁদাখোর মজাকিয়া ইতিউতি পথের কাঁটা হয়ে বাঁচছে। আগাছারা গাছ নয় ; ওরা অনন্তও নয়। তাই তোমার অপেক্ষমান চোখ গুলোর সাথে দেখা হওয়া সময়ের সাজ-বিলম্ব মাত্র। তুমি ভাবছো, আমি ভাবছি, সবাই ভাবছে 'এত সময় নেওয়ার কি আছে! '       কিন্তু, যখন দেখা হবে বুঝবে কী সে সাজ, সৌন্দর্য, সৌরভ, সমৃদ্ধি ... !       ' উমত সবরো পাগল শবরো মা কর গুহাড়া গুলি।       তোহৌরী নিঅ ঘরিণী ণামে সহজ সুন্দারী।। '                                     (২৮ সংখ্যক চর্যাগীতি)        পূর্ব ক্রমণের নাম ছিল ' বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা' ; যেহেতু ঘৃণার বিপরীত টানের কথারা এ পর্বেও চিরঞ্জীব। ক'দিনে সময়ের তরঙ্গ কম্পন যথেষ্ট বেগালাম। তাছা...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৩

ছবি
বিরহ বলো কিম্বা মাথুর ; আসলে ওরা ভালোবাসাতেই বাঁচে। একজন শেষ করে গেলেও আসলে শেষ হয় কি! একা অন্যজন অনেক অনেক বেশি কাঁদা, হাসা, আশা, ভালো চাওয়ার সুযোগ পায়। আর যদি দুই তীরই বেমালুম সব ভুলে যেতে পারে; বন্ধু, ওটা অন্য কিছু ছিলো; প্রেম নয়। এ পর্বে কালোর গায়ে লেগে থাকা আলোক বিন্দুদের গ্রহমুক্তির একপ্রস্থ চেষ্টা করা গেল! ৪১ আমি শ্রেষ্ঠ নই। তবু যে আমার হাতে  হাত রেখেছো! এ ঋণ অশোধ্য। ৪২ তোমার সাথে থাকলে, আমি পঙ্খী না পতনশীল ... ঠিক বুঝে উঠতে পারি না! আমার পায়েরা তখন আর মাটি ছোঁয় না ; এতটুকু বুঝতে পারি শুধু ... ৪৩ শুদ্ধতর প্রার্থনা ব্যর্থ হলে, ভাগ্যহীন তুমি নও; সে! ৪৪ কখনও কখনও সব দুশ্চিন্তা গুলোকে প্রবল দুশ্চিন্তায় ফেলে ... চোখ বন্ধ করে হৃদয়ের পথে চলাই ভালো! ৪৫ আমৃত্যুর কথা জানি না। কখনো আমি ভালোবাসার অযোগ্য হয়ে পড়লে ... আমায় বলেই যাবে! কথা দাও। ৪৬ আমি ঈর্ষক আমি উন্মন আমি উন্মাদ আমি চিন্তাগ্রস্ত আমি জিজ্ঞাসু আমি প্রবল ভাবে শিশু হয়ে পড়ি কখনো কখনো ... তোমার জন্য! কি করি বলো তো! তোমার জানাশোনা কোনো হস্টেল জানা আছে? ঠিক চোখাচোখি তোমার বাড়...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ২

ছবি
মিলন আর বিচ্ছেদ দুই অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। একই শাড়ির দুই পাড়। এক মাটিতে উদ্ভিন্ন, একই স্রোতের স্নাতক। এ পর্বের কলি গুলোর বেশীর ভাগেরই অক্ষিকোণ ব্যথার বাদলে রঞ্জিত।আর কথাগুলো নিতান্তই ধূলি ধূসরিত এসময়ের। তুমি চাইলে ধূলো ঝেড়ে, তোমার কোলের,  কাছের করে নিতে পারো! তবে, এদের যোগ্যতাই বা আর কত! ৩১ জানি আমি বিরাট কিছু নই! আমাকে ফিরে যেতে দাও... বোঝো কি, আধ খানা ভালোবাসা কতটা জ্বালায়! ৩২ -'বাইক না গাড়ী? ' - 'চলো না, হাঁটি! ' মাখন-রঙা শমিত স্মিতি আলিঙ্গনে ঘিরে ফেললো চারপাশ! ৩৩ বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করলো, 'ভাই, জীবন কেমন চলছে? ' উত্তর এলো- 'ও তো খুব ভালো আছে! ' ৩৪ খুউব শক্ত করে ডানা গুলো মুচড়ে, চোখ, নাক, মুখ চেপে ধরো ... ও যে মারা পড়বে! কিম্বা, অবহেলার অভ্যেসে আলতো ধরে রাখো, ও তো পড়ে যাবে, উড়ে যাবেই! যদি যত্নে জড়িয়ে রাখো সম্মানে, শুশ্রূষায় বাঁধো ... পাখি হোক বা সম্পর্ক কখনো ছেড়ে যাবে নাকো। ৩৫ কিভাবে একা বাঁচতে হয় শুধু এটা শেখাতেই কিছু মানুষ জীবনে আসে।  ৩৬  এখন কিম্বা যখন হোক বুঝতেই হবে 'তুমি আসলে কেউ নও, কিস্যু নও!...

বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা

ছবি
এ লিপিকা-গুচ্ছ আজ ও অতীতের প্রেমিক-প্রেমিকাদের হয়ে লিখিত।সম সময়ের উতল  হাওয়ায় উল্টে পাল্টে যাওয়া সম্পর্কের রশি।থরো থরো কথালাপ। অসংহত, অসংযত এলোমেলো কলাপাতার কিনারার মত গতি এদের। বসন্তের গায়ে  বহুবর্ণ বসন এখন। সব ভাব ভাবনা শেষতঃ থিতোয় মধুরে, শমে। এ পর্ব অকপট আখরে লিখিত। ভালোবাসাহীনতার কলমে ভালোবাসার কথা। ১ এতটা ব্যস্ত রও যাতে দুঃখ স্মরণের সময়ও না থাকে! ২ সুমন সুমনারা অঙ্কে বড্ড কাঁচা হয়। ৩ জীবন আলোক প্লাবিত হোক এ আশায় তোমায় আশা করি না। আমি চাই তুমি অন্ধকারে আমার একান্ত পাশে থাকো। ৪ আমি কেন ফিরে এলাম? তুমি যে থাকতে বলো নি; একবারও! ৫ ভালো মানুষ সর্বদা স্মৃতিতে থাকেন দুর্দান্ত মানুষ সদা স্বপ্নে থাকেন আর দ্বায়িত্বপ্রবণ মানুষ? সর্বদা হৃদয়ে বাঁচেন। ৬ কোনো হৃদয়কে বুঝতে হলে - সে যে ঝড়ের ভেতর দিয়ে আসছে আগে তা অনুভব করা উচিত । ৭ যখন তুমি কারো হয়ে নির্নিমেষ প্রার্থনা করো ; আসলে তুমি তোমার খাঁটিতম ভালোবাসাটাই বাসছো! তখন। ৮ গতকালের ঝঞ্ঝা যদি আজকের সম্পর্কে দাগ না আনে... খুব দামী নিগড় এটা। ৯ ছেলেমানুষের মতো ডানা-ঝাপটানি, তোমাকে এ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৬

ছবি
অযুত আশা দুরাশাকে ঠেলে , ইচ্ছে করে যখন বেঁচে থাকবো ভাবি ; ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে ঠা ঠা মরুভূমি হয়ে উঠতে থাকি আর জীবনের রশি ও রাশটাকে অসহায় ভাবে আলগা করতে ক্রমশ দূরে সরে  যেতে থাকি। তখন তোকেই চাই। শুধু তোকে। তুইই একমাত্র পথ, উপায় ও সহায়!                        জল। তোর আনন্দে ঝরার দিনে...  তোতে ভেজার বেজায় আনন্দে মাতি; তুই যখন সহায়, সম্বিৎ, সীমা ছাড়িয়ে বন্য বন্যায় দুষ্টের সংহার-কল্পে দুর্দম গতিতে সর্বৈব ছাপিয়ে...  শাসন করতে করতে এগোতে থাকিস; কখন স্রোতের খড়কুটো কখনওবা সঙ্গী শৈবাল হয়ে অনন্তের ধ্যানে মাতি। কখনো কখনো তো বিষম অপহ্ণুতি! তোর পাশে নিজেকে নদ বলে ভাবতে শুরু করি! প্রখর প্রণয়ী যেন! অল্প পরেই তোর প্রবল এগিয়ে যাওয়ার পর...  মৃত্তিকার পদ লেহন!  পরজন্মের আশায় তথঃ বিয়োজন শরণম...!     পরম মমতায় সভ্যতার লালনেই তোর  পরিচয় ; বন্যা তোর শাসন আয়ুধ,  তোর সর্বসত্তা নয়। তোর কারণেই ধরিত্রী শস্যশ্যামলা, প্রাণময়। প্রতিটি জীবন, প্রতিটি আকাঙ্খা তোর নির্ভরেই লালিত। আমিও সবার মতো তোকে অর্থাৎ জীবনকে...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৫

ছবি
আলোর যাওয়া আসা নেই। সে কখনও চলে যায়না; তাই তার ফেরার ব্যাপারটা অবান্তর। সে অনন্ত দীপ্র, অশেষ ভাস্বর। যাকে আমরা একটা জীবন বলি; আসলে তোর কাছে আসলে তা একটা দিন মাত্র। এই দিন মাত্রই আমার সর্বৈব আয়ু। ভোরের নির্জ্ঞান আঁধার দিয়ে আমার জীবনের শুরু। ক্রমে তোর বদান্য দাক্ষিণ্যে দূরত্ব হারাতে হারাতে তোর আলোয় ভরে উঠলাম। সম্বিত হারিয়ে ভেবে ফেললাম তুই আমি সমান। ভালোবাসি পরস্পর। আবেগের বেগের দায় আলোর নয়; দায় আলোকিতের। একান্তই আমার ।                              সব সম্পর্কেই বিকেল আসে ; ক্রমে, সন্ধ্যে... রাত। আবার ভোর। ফের স্বস্থানে ফেরার স্বাভাবিক গড়ান গতি। হ্যাঁ রে, তোর কথাটাই ঠিক; এ বিশ্বটা গোলাকার! বৃত্তায়ত। এক পার অন্য পারে পৌঁছবেই। দেখা হবে। তুই চাস বা না চাস!                              দেখা হবেই জন্মের সাথে মৃত্যুর ; বিরহের সাথে মিলনের ; কান্নার সাথে হাসির ; অবহেলার সাথে যত্নের ; ঘৃণার সাথে প্রেমের। হোক না তা কিয়ৎকালের !     ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৪

ছবি
মেঘ ক্ষীনায়ু। স্বল্প জীবনের মধ্যে উন্মেষ, উদ্ভাস, যৌবনের আলোক স্পর্শ,  হাসি, কান্না সবটাই  ঘটে। অতি স্বল্পায়ু রঙে রঞ্জিত। তোর ইচ্ছের রঙে সদা রঞ্জিত এক মেঘ ।আমি। কখনও আশমানী, শুভ্র, নীল, কৃষ্ণীল, রজত বা কনকবরণ! যেমন সাজাস, তেমনই সাজি।                  তার তিরোধান কখনো বজ্রে, কখনো ঝঞ্ঝায় কখনো বা বর্ষণে। তুই অশেষ আকাশ। যত দিন বেঁচে থাকি, তোর আশ্রয়েই থাকি। মেঘে মেঘে কতো কথা, ছোট ছোট লড়াই। আড়ালে গিয়েও সদা স্বস্তিময়। তুই আছিস তাই।                  গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্য...  জ্যোতিষ্কলোক তোর আশ্বাসে, আশ্রয়ে সদা লালিত। মহাবিশ্ব আর মৃত্তিকার যতটা অসম্ভবতম যোগ কল্পনায় টিকে আছে ; তার কারণ তুই। ক্রন্দসী আর দিগন্তের প্রণয় তোর সহায়েই। তুই জীবিতের প্রাণবায়ুর প্রাঙ্গণ ; মৃতের অবলম্বন। তুই আশ্রয়, উদ্ধারক ; তুই পারাপার।                  আমি ঝরমান মেঘ।তুচ্ছ, বিকট, বিলীয়মান।  দেখতে দেখতে সব মেঘের মতো আমিও ঝরার পথে। শুধু শেষের অপেক্ষা ... ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ৩

ছবি
    ।। তিন।। আজ তুই গাছ। তরুণী তরু। কায়ায় ছায়ায় মায়াময়।পান্থপাদপী। আদতে বনস্পতি। ঐতিহ্যময় বাওবাব।আস্থা, আশ্রয়, আস্বস্তির একচ্ছত্রবিগ্রহ। আমি তোর গায়ে একটা ছত্রাক ।তুচ্ছ, সামান্য।আগে স্রোতের শৈবাল ছিলাম। আটকে আটকে চলছিলাম। এখন এঁটুলির চেয়েও আঠালো। নাছোড়। গড্ডলিকায় চলছিলাম মরণের, মোহনার দিকে। ঈশ্বরী ,তুই দীঘল চোখে তাকালি। করুণার দীপ্তিতে রঞ্জিত হয়ে উঠলো তোর ওষ্ঠ-যুগল। বাহুদ্বয়ের পেলব বিস্তারে আমার পতন থমকে গ্যালো। তোর প্রশ্রয়ে নতুন শেকড়ের জন্ম হলো। কোলে তুলে নিয়ে ভাবলি ... স্বর্ণলতা করে রাখবি। জড়াতে দিবি সর্বাঙ্গে। আমি যেন তোর   প্রিয়তর কোনও এক  অতি আদুরে ভাগ্যবান শিশু সারমেয় !    উল্টে আঁচিলের মতো আটকে গেলাম তোর গায়ে। তুই ভাবছিলি একাই ঝরে যাবো। ওহে চিরলাবণ্যময়ী, গায়ে যে দাগ রয়ে যাবে!    আবার ঋতুরা হিমের পর বৃষ্টি আনবে। আনবে ঝড়ের ফুতকার। সব ক্ষত ,ধূলো, দাগ ঝরে পড়বে মৃত্তিকায়। জড়ে বিয়োজিত হবো। নিয়োজন... নির্বাণ...  ফের জন্মান্তরের চক্র। তোর প্রতি অনন্ত মহুটান ... বারবার... প্রতিবার।    ফের  জন্ম...  ফের তোকে কা...

আত্ম ও আত্মার আলাপন ২

ছবি
অনেক দিন পর তোর সাথে দেখা।  তবে হঠাত নয়। প্রতিদিনের বাঁচার শক্তি। আমার সূর্য । তুই। তোকে অবমাননার চেষ্টা অসার, অবান্তর যেমনটা আদি হতেই জেনেছি। প্রমান হল কোনও কিছুই অনন্ত নয়।সবই গোলাকার, পূর্নায়ত। নিভন্ত অপেক্ষার ফুল। অতি কাছেই লুকিয়ে ছিলি। যেন নিজেরই কানের অতি কাছের দুল। এ মন যেন বিগ ব্যাংয়ের পর ঠিকরে পড়া তপ্ত জ্বলমান নক্ষত্র পিন্ড। বেখাপ্পা ।ক্রমে আকার পেয়েছে। জ্বালারা ক্রমে জুড়োচ্ছে। নক্রোধ, ন্যগ্রোধ! গায়ের ওপর গাছের জন্ম হচ্ছে। ওপরে বেঁচে চলার এক ছিট সাধ্যমত আকাশ। হৃদয়ের অতি গভীরে - অন্দরে কন্দরে বয়ে চলেছে মুঠায়মান লাভা আর জল। বাইরে আমি ক্রম প্রশান্ত।        নিজে গাছ, নদী, আকাশ ... হওয়া অসম্ভব মেনে আবর্তিত হয়ে চলেছি নিজেরই ক্রম ক্ষয়মাণ আয়ুর চারিপাশে... আড়ালে থাকা সূর্যের টানে - মাধ্যাকর্ষণে... অপ্রকাশ্য তোর অশেষ আলোয় বর্ষ বর্ষ কাটিয়ে পরিক্রমিত হয়ে চলেছি। যে আবশ্যিক টানে গ্রহেরা বাঁচে... সেই অমরণীয় আমরণ টিকে আছি।        তোর সাথে আজ বহু বহু দিন পরে দেখা হল। আসলে দেখা দিলি ... গ্রহ গ্রহণের তারিখপঞ্জি মেনে। আমি ভাবলাম দেখা করলাম।এ...

আত্ম ও আত্মার আলাপন

ছবি
এখন দুপুর। বুড়োনো সকাল থেকে নীল পাহাড়ের কাছে  আছে পান্থ।  বুনোবাঁশ, আধ-কোমর সব গুল্মে চারপাশ ঘিরে আছে।রিনরিনে উদাসী হাওয়া ছাড়া শব্দ জাগাবার মতো কেউ নেই এখানে। পাখিরা   লেবুহীন কমলাগাছেদের নগ্নশাখা গুলো ছুঁয়ে ডানা ভাসাবার খেলায় মগ্ন।শীত চলে যাওয়ার পর ক্রমে ক্রমে নব বসন্তের রাংতা বিমুক্ত হচ্ছে।   বছরভর চেষ্টা করে এই পাহাড়ী উপত্যকাটায় নিজেকে নিয়ে আসতে।পান্থ। প্রায় সুষুম্ন পথ বেয়ে তার এই চূড়োর কাছে বেশ ভালো লাগে। পরম চড়াই। স্থানটা চূড়ান্ত শৃঙ্গ নয়। আরও কিছু পথ চরম দুর্গম ট্রেক করে পৌঁছলেই আকাশের উদার উদ্বাহু আশ্রয়ে মিশে যাওয়া যায়। যার পরে এ জন্মের তরে আর কোনও যাত্রা নেই। যেতে পারেই। তবু, এখান অবধি পৌঁছতে; থাকতে ।বাঁচতে, টিকে থাকতে তার বড় ভালো লাগে। এটুকুই টান...  মোহন মোহমাত্র তার। সে জানে এর পরই পরম শূণ্য ; শেষতম আশ্রয় এ প্রাণের।    আজও হয়তো হিয়ার আসা হয়ে উঠবে না ; তবু। একটা সময় অবধি। আসন্ন আকীর্ণ আঁধার অবধি সে এই নিবিড় নির্জনতম সঙ্ঘারামে মুহুর্ত গুলোকে...  তাদের গায়ে লেগে থাকা গ্লানি গুলোকে ঝরতে দিয়ে যাবে। যাবেই। হিয়া তার অজোড় হৃদয়ের একান্...

অসংযমী কথা-কাঠিরা

ছবি
জানো, আমি আর আমার গোপন সঞ্চয়, নিভৃত সৃজন, একান্তের আশ্রয়ের পানে... তাকাবার সাহস পাইনা।একবারও।   অসহ্য এক গহন টান সত্বেও  এভাবে নিজেকে নিজের  দু'পাটি ধারালো দাঁতের  মাঝে রেখে ... ঘর্ষণী মৃত্যু হতে বেঁচে বেঁচে রই। তোমার ফেলে দেওয়া খন্ড খন্ড হাসি, উদ্ভাস, রং, রূপমাধুরীর অপরূপ উল্লাস গুলোকে কুড়িয়ে বাঁচিয়ে বুকে করে রেখেছিলাম ... বেঁচে ছিলাম! নিজের একান্ত স্বর্গ গড়ছিলাম ... অবশ্য তোমার বিনা অনুমতিতে! তুমি আর তোমার প্রিয়েরা মিলে প্রায় জোর করে... অযাচিত ভাবে আমার ভান্ডারে, বিশ্ব সংসারে এক আঁজলা আগুন এনে ছড়িয়ে গেলে ...  জ্বালিয়ে দিলে... ছারখার করে দিলে  আমার এ একান্ত বাঁচার ভূমি! কিছুই তো চাইনি আমি ... তবু, অযাচিত এ্যাতো অসীম অনুগ্রহ? আমার অগ্নিজ্ঞান ছিলোনা... তুমিই মনস্ক করে, জাগিয়ে, জানিয়ে গেলে অগ্নিদাহ কী দুর্মর, দুঃসহ!দুর্বহ...! হয়তো খুব ভালোই করলে ; যে নীরব নিরন্ত নয়ননীরের দ্বার খুলে গেলে ... তার মূল্য কিভাবে মেটাবো? মরণে? যদিও তোমাকে, তোমার নিকটতরদের প্রশ্ন করার যোগ্যতা আমি ধরিনা! আমায় গুরু পাপে লঘু দন্ড দিয়ে ক...

বোধি-বিন্দু ১১

ছবি
বুদ্ধ হতে বোধ। বোধের জন্যেই বুদ্ধ প্রাসঙ্গিক। গোতমের জন্মের বহু আগেই...  'এ জীবন কী' ; 'এ জীবন লইয়া কী করিব! ', ' এ জীবন আরও ভালো যাপণ কিভাবে সম্ভব! '... ইত্যাদির দার্শনিক, সামাজিক আলোচনা স্রোতমান ছিলই। নিজের জীবন দেখে সঙ্গীদের প্রতি যে অনুভূতি গুলো প্রকাশ করেছেন...  তা-ই বুদ্ধবাণী বলে ধরে নেওয়া হয়।বলাবাহুল্য, তাঁর তিরোধানের সহস্রাধিক বছর পরেও বহুজনে, বহুমনে,  বহুমতে, বহুভাবে ভাষায় যে যাপণ-বাণী বহমান গুলোর অতি অল্পই সরাসরি বুদ্ধমুখনিঃসৃত। তবে,  বিস্তৃত ব্যাখা,ব্যাপ্ত চূয়মান ধারা গুলোকেও কোনও মতে বোধি-বিমুখ , বিরূদ্ধ  বা বিভ্রান্ত বলা চলে না।  ‌অন্যভাষায় প্রাপ্ত বাণী-বচনের অনুক্রমে নিবেদিত হলো একাদশতম কিস্তি। ৯৯ আবেগ, অনুভূতিরা এরা আদতে এক একজন দর্শনার্থী মাত্র। ওরা যেমন এসেছে, ঠিক তেমনি চলে যেতে দাও... ১০০ এ জীবনে কার দেখা পাবে, তা সময় নির্দিষ্ট করে! এ জীবনে তুমি ঠিক কাকে চাও, তা তোমার হৃদয় বলে দেয়। এ জীবনে কে তোমার আমৃত্যুসঙ্গী হবে, তোমার আচরণই তা সৃজন করে। ১০১ যা তুমি প্রাণপণে নিজের বলে আঁকড়ে প্রবলভাবে অধিকার বোঝাচ্ছো; ওটা ছ...

দু'খন্ড অঙ্গার

ছবি
১ ।। বিড়ম্বক বানপ্রস্থিক ।। অভিমান, ছেলেমানুষী অসহ্য অসংযম, অন্ধত্ব নির্লজ্জ এঁটুলিপনা অভূত পরিমাণে এবং উত্তরোত্তর বাড়তে থাকলে... বুঝবে, তুমি আর প্রেমিক নেই! ভীমরতিতে প্রবেশ করেছো... যৌবনে নয়  আছো বার্ধক্যে । প্রেমের যোগ্যতা হারিয়েছো! মৃত্যু সামনে, তবু মানবে না। হয়েছো 'ডগ ইন ম্যনজার' এর অসার সারমেয় ... নিজের খাবার যোগ্য দাঁত খুইয়ে; জিভ আরও লোলুপ লোলচর্ম হয়েছে ...! তোমার। আর অন্যের উপভোগের পথে ঘ্যানঘ্যানে বাধা হচ্ছো। বাঁচছো দ্বিতীয় শৈশবের দয়ায় অতিরিক্ত অবুদ্ধ জীবন। মোহাকীর্ণ! প্রণয়ের নাম খারাপ করবে তবু ওর পথ হতে সরবে না! ভালোই তো ! প্রেমের জগতে তো শুধু তোমাকেই চাই ... দুনিয়া গুঁড়োতে নিউক্লিয়ার অস্ত্রের কোনও আর দরকার নেই! ২ ।। জ্ঞান পাপী ।। পরিপক্ক লোকেরা প্রেমিক হয়, অসংযমী, ছেলেমানুষেরা নয়। ব্যথা দেখিয়ে, ইনিয়ে বিনিয়ে কী পাও? বিব্রতী, বিরক্তি চেপে  সহ্য করে যাওয়াকে প্রেম মানছো? ওটা একটা অভূতপূর্ব অনুকম্পা বিশেষ। তোমার ব্যস্ততা নেই বলে , বিমুখ, ব্যস্তর কেন বাধা হওয়া! ঘৃণিত জেনেও। ছিতকারের অপব্যয় নিষ্প্রয়োজন।

মকর : নাম বৈচিত্র্য

ছবি
উত্তরায়ণ হল দক্ষিণ অয়নান্ত (২১/২২ ডিসেম্বর) থেকে উত্তর অয়নান্ত (২০/২১ জুন) পর্যন্ত সময়কাল। এসময় সূর্য আপাতদৃষ্টিতে উত্তরেদিকে গমন করে। উত্তরায়ণ শুরুর সময়কালকে লোকসংস্কৃতিতে মকরসংক্রান্তি বলে মান্য করা হয়।  (যা বর্তমানে ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়) থেকে আষাঢ় (সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জী অনুসারে) সংক্রান্তি (যা বর্তমানে ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়) পর্যন্ত সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।একইভাবে ২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে দক্ষিণায়ন বলা হয়ে থাকে। ভৌগলিক বিচারে ২২শে ডিসেম্বর থেকে ১৪ই জানুয়ারীর স্থানিক বিভেদ প্রচুর। উত্তরায়ণ শুরুর প্রথম সংক্রান্তি হিসাবে বিচার  করলে দ্বন্দ্ব নিরসন ও আনন্দ উদযাপণ সহজ হয়।        ভারতীয় উপমহাদেশে  সূর্যকেন্দ্রিক ও কৃষিভিত্তিক মাঘ সংক্রান্তির এই লোক উৎসবের বিপুল বর্ণবৈচিত্র্যময়তা আছে।       ১ । সুগ্গি হাব্বা বা সুজ্জি হব্বা, মকর সংক্রমণ, মকরসংক্রান্তি , পেড্ডা পান্ডুঅ : - অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ,মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ২। মকরসংক্রান্তি, মকর মেলা , মকর চৌল:- ওডিশা ৩। মকরসংক্রান্তি , মাঘী সংক্রান্ত , হল...

হিমান্তের সীমন্ত কলিতে ভরে যাক

ছবি
রাগ, অভিযোগ আর আহত অভিমান... ডালে ডালে গেয়ে গেছে আদরের গান! তুষারে তুষিত তান। অশ্রুকথারা হিমায়িত ;অমৃত। হে প্রেম, হে নৈশব্দ্য ... আমার হৃদয়ে কখন ঝরছো ?  তাহলে বলো? আমার পূর্ণ পাথর হবার আগে,  পারলে বলো ;  বলো ,আমার বুকে ঝরো  ... বও ; বাঁচো, নাচো নদী! শিলীভবনকে আলিঙ্গনে হত্যা করো। "এ নব যৌবন                    বিরহে গোঙায়ব           কি করব সো পিয়া-লেহে ||                     ... .... .... .... ... সিন্ধু নিকটে যদি                    কণ্ঠ শুকায়ব                  কো দূর করব পিয়াসা ||" #ছবি : from a  travellogue

গুলজারের গুলদাস্তাঁ

ছবি
গুলজার  ( জন্ম :  ১৮ আগস্ট ,  ১৯৩৪ ) । পূর্ণনাম সম্পূরণ  সিং কালরা।  হিন্দী ও উর্দু ভাষার প্রখ্যাত কবি, গীতিকার সুরকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। এ পর্বে  তাঁর কিছু হিন্দী কবিতার অনন্য পংক্তির অনুবাদের চেষ্টা নিলাম। শায়েরীর গড়নকে গদ্য কবিতার ছাঁচে ঢালতে গিয়ে ঈষৎ গলাতে হয়েছে। তবে তা মূল বক্তব্যকে কোনও ভাবে লঙ্ঘিত বা অবমানিত করে সাধিত হয় নি। ১ পুরোনো গল্প গুলোকে সেঁকে নিতে পেয়ালা হাতে বসেছিলাম ... চা গেল জুড়িয়ে, আর চোখের কোণ ভিজে গ্যালো! ২ কথা গুলো তো কোনো মতেই খাতার পাতায়, মুখে বসতেই চাইছে না! পঙ্খী প্রজাপতিদের মতো। যত্তোসব দুরন্তপনা! ৩ কখনো কখনো স্বপ্নেরাই আমায় চেঁচিয়ে, ঠেলে তুলে জাগায়। ৪ বলার লোকেদের আর কি যায় আসে! সওয়ার লোকেরই যতো জ্বালা। লোকেরা তো শুধু আঙুল তুলতেই জানে, ব্যথার বিধান কেই বা বোঝে! ৫ ওই জিনিসটা , আরে, যাকে 'মন' বলে ডাকে লোকে। আমি যে তাকে কোথায় রেখেছি, মনে আসছে না মোটে! ৬ আমি বলেছিলাম - ঠিকই আছি... ও বললো - ভালো! আমি তাহলে চললাম... সেদিনই বুঝলাম দূরত্ব কী বিষম বস্তু! ৭ বন্ধু, রিফু করে...

ছেলেমানুষের ফানুস কিম্বা অহং পর্ব

ছবি
আমাতে তাকাও, আমাকে দ্যাখো, আমাতে চোখ রাখো...  আমার জন্য ওষ্ঠ খোলো,  আমায় শুধু বলো ; আমায় লেখো, আমায় পড়ো ; আমায় আলতো করে ছোঁও। আমায় নিবিড় করে  , আমাকে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে ধরো ! তেমন মন হলে মগ্ন শিউলির মতো ঝরণাতলার নির্জনে কেবলই আমার কোলেই ঝরো। আমায় আরও আকুল করে, আমায় আরও কাঙাল করে আমায় আরও মাতাল করে আমায় আরও বাউল করে ... পুরোপুরি তোমার করো ধরো ছাড়ো মারো আরও, আরও ... পারলে একটা কণা হলেও শুধু আমার হয়ো। আমার এ অবাধ অবোধ অবাধ্য নির্বোধ ছেলেমানুষীর মৃত্যুর পূর্বাবধি! বললে বলো হিংসুটে ; আমি ঐ সুখেতেই রবো। 

এক অম্লান ধূপ জীবনের ঘ্রাণ

ছবি
তুমি অন্তরীপ ছেড়ে গ্যাছো ... যেভাবে স্বাভাবিক পরিক্রমণে সূর্য সুদূরে ফেলে সরে যায় ! তবু আমার কান্নার ফল্গু নিঃসঙ্গে নীরবে,  নির্জনে, নিমগ্ন বইছে... কিভাবে সইছি জানো, তোমারই দানে.. তুমিই শিখিয়েছো তোমার অতিক্রমে, তোমার উত্তরে কেমন বাঁচতে হয়! তাই মরা আর হয় নি, মরতে দাওনি বলে! নিজেকে নিংড়ে নিংড়ে যত বিন্দুতে বওয়া যায়, রওয়া যায়.. নীরবে রয়ে আছি তাই ... 

থমক লাগা নদী সমীপেষু

ছবি
দূরত্ব চাইছো নিজের মতো বইতে চাইছো , আরও বিস্তারিত হতে চাইছো! এবং আমাকে এ সবের বাধা বলে বিশ্বাস করছো! অসহ্য বলে মানছো। তবে কেন আলগোছে লেগে থাকা! ভদ্রতা ? নিয়ম রক্ষা? এ্যাতো ভাবলে প্রগতির গতি যে থমকে যাবে, বন্ধু! চলার পথের নুড়িকে কখনও স্নেহের, দয়ার আতিশয্যে কোলের যত্ন দেওয়া যায়ই... এ রত্নযাপন স্বল্পায়ু হওয়াই স্বাভাবিক! তোমার পরশে পাথর জীবন হতে মুক্ত হয়েছি ... নিজেকে জীবিত বুঝছি ! এ খুব কম পাওয়া কী? অভাবিতপূর্ব! চলো, চলো সামনে তাকিয়ে ... যেমন, যেথা ইচ্ছে এগিয়ে বও। নদীকে, স্রোতশীলাকে থামলে চলবে? এ নুড়িকে কোলচ্যূত করে ফেলে বয়ে চলো ... স্বাভাবিক ছন্দ- অলঙ্কারে! "ওগো নদী, আপন বেগে পাগল-পারা..."

পাহাড়ের চিত্রল প্রহরেরা

ছবি
 বাঙালি। বিশেষ করে কুয়ো জলে কুঁজো বাঙালীদের  পা-পিঠ সোজা করতে দীপুদাই  অন্ধের একমাত্র লাঠি। দীঘা, পুরীর সাথে বার কয়েকের পরিচয় থাকলেও দার্জিলিং এর সাথে প্রথম দেখা হল। পুরো পাহাড়ী জেলাটার সাথে পঞ্চদিনের পরিক্রমা সারার চেষ্টা করেছিলাম। পাহাড়ী রাজধানীতে শুধু নিশি আশ্রয়ের জন্য সারাদিনের শেষে ফিরে আসা। বিভাগের সহকর্মীবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে লটবহর হিসেবে যাওয়া। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার জীবনে ব্যস্ততার ব্যাগবন্দীর জীবনের সেলাইর ফাঁক দিয়ে কিছু চিত্রতাড়িত ঝলক বয়ে নিয়ে এলাম। সময় ও স্মৃতির দ্বৈরথের রথ কোন পথে কতদূর গড়াবে সে শুধু ভবিষ্যতই জানে।বহুবিচিত্র কাপড়ের টুকরোয় গড়া ফকিরের আলখাল্লার মতো কিছু নাছোড় ছবির নক্সীকাঁথা বোনার চেষ্টা নিলাম। যেখানে দেখাটা মুখ্য, ছবি গুলো অন্ধ অবলম্বন আর লেখাটা নিমিত্ত মাত্র। দিনগুলোকে পর্বে পর্বান্তরে কেটে কেটে এগোবো ; ঠিক যেমন করে মাঠের মুনিষেরা শস্য-কর্তনের পরে আর না পিছু তাকিয়ে ফেলে রেখে রেখে যায়। একটা দুটো পাঠকের মন যদি চায় মনে বেঁধে রাখতেই পারেন। মনের মানসী বিনুনী!                       ...