বোধি-বিন্দু ১০

কিস্তি ১০
 গৌতম বুদ্ধের জন্মের বহু আগে থেকেই বোধি-ভাবনার দার্শনিক চর্চার সূত্রপাত হয়েছিল । তাঁর জীবৎকালে বোধিতত্ত্ব এবং তার প্রয়োগ বৈপ্লবিক স্বরূপ ও ব্যাপ্তি লাভ করে। বুদ্ধ-তিরোধানের আড়াই হাজার বছর পরেও জীবনে-যাপণে তারঁ উপদেশ ও বাণী সমান উপযোগী।এখনও মূলতত্ত্ব বজায় রেখে সময় ও উপযোগীতা অনুযায়ী অযুত বাণী-বিস্তার ঘটে‌ চলেছে। যেগুলির সাথে গৌতম বুদ্ধের মূল উপদেশাবলীর সাথে প্রতক্ষ্য ভাষিক যোগ না থাকলেও  আস্বাদনে কোনও তারতম্য ঘটেনি ।ই-বুদ্ধইজমম্ নামক আধুনিকতম ধারায় সমকালীনতার প্রেক্ষাপটে বোধিতত্ত্বের আকর্ষণীয় প্রকাশ ঘটেছে। এই কিস্তিতে উক্ত ধারার অন্তর্গত বিভিন্ন  ভাষায় রচিত কিছু পংক্তির অনুবাদের আয়াস সাধিত হয়েছে।

 ৮৪
  এ বিশ্ব, সংসার
 ছেড়ে তুমি চাইলে পালাতে
 পারবে!

কিন্তু,
নিজেকে ছেড়ে
কতদূরই বা যাবে?

 ৮৫
 সময়
 নির্ধারণ করে এ জীবনে
  তুমি কার দেখা পাবে।

হৃদয়
নির্ধারণ করে তুমি এ জীবনে
কার সঙ্গ আশা করো।

তোমার আচরণ
নির্ধারণ করে আজীবন
কে তোমার পাশে থাকবে।

৮৬

অভিযোগ  অনুযোগ করে
আসলে নিজেরই
পীড়ন বাড়াও।

পারো যদি
পরিস্থিতিটা থেকে বেরিয়ে এসো,
নইলে ওকে বদলে দাও,
অথবা ওর বশ্যতা স্বীকার করো।

এ সব বাদে অন্য আচরণ
বিবশ উন্মত্ততা ছাড়া
আর কিছুই নয়।

৮৭
তোমার কর্মকীর্তির
যা কিছু মূল্যবান
সে সবই আসলে
তোমার হৃদয় দ্বারা নির্মিত।

৮৮
যখন তুমি খুব ব্যথিত,
ভগ্ন, আর্ত...

 সধৈর্য সহ্য করো।

জীবন আসলে তোমায়
নতুন কিছু শেখাতে চাইছে;
বোঝো।

৮৯
চন্দ্র সূর্যের মধ্যে তুলনা হয়না,
যে যার সময় ও সাধ্যমত
আলোক ছড়ায়।

অন্যের সাথে নিজের জীবনের
তুলনা কোরো না।

৯০
প্রতিটি মানুষই
তার নিজের
শুভান্তক বা দুঃখান্তক
 জীবনের রচয়িতা।

৯১
প্রত্যাশা ও বাস্তবের
মাঝের ব্যবধানই হল
দুশ্চিন্তা।

যত ব্যবধান তত দুশ্চিন্তা।

তাই প্রত্যাশী হয়ো না,
যে কোনও  পরিস্থিতিকে
আপন করে নাও।

৯২
প্রেমের ভিক্ষুক হয়ো না,
দাতা হও।

সব সুন্দর মানুষেরা
সর্বদা ভালো হতে পারে না;
ভালো মানুষেরা সর্বদাই
সুন্দর হন।

৯৩

মন
ক্রোধ ঘৃণা ঈর্ষার
কোনও আস্তাকুঁড় নয়।

এ হল আসলে
প্রীতি আনন্দ ও সুখস্মৃতিতে
পূর্ণ এক রত্নপেটিকা।

৯৪
সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার যদি
কোনও প্রিয়তরকে দিতে চাও...

তাহলে তাকে তোমার
সময়, ভালোবাসা আর
আগ্রহটাই দিও।

৯৫
জীবনে এমন মানুষের প্রার্থনা করো,
যে তোমাকে সর্বতোভাবে
গ্রহণ করবে।

তোমাকে সম্পূর্ণ করবে
এমন কারোর আশায় থেকো না।

৯৬
যে তোমার তরঙ্গ-হিল্লোলকে
উপভোগ  করে
তাকেই ভালোবেসো।

যে তোমায় সাধারণে
অবনমিত করতে অভিলাষী
তাকে আপন কোরো না।

৯৭

সংযোগহীন সম্পর্ক
শ্রদ্ধাহীন ভালোবাসা

আর বিশ্বাসহীন আচরণকে
বাড়তে না দেওয়াই শ্রেয়।

৯৮
অপূর্ণ মানুষেরা
তর্কে জিততে সম্পর্ককে
বলি দিতে পারে।

পূর্নজ্ঞান মানুষেরা
প্রয়োজনে ইচ্ছাকৃত পরাজয়ে
সম্পর্কটিকে আরও
দামী করে তোলে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক