নিশার স্বপন মম

তুমি তো আস্ত একটা দিন।

রাতের বুকে ঘুমোতে আসো,
কখনও একটু আগে,
কখনওবা খুব দেরীতে!
কর্মচঞ্চলা এক দিঘল নদী তুমি,
মধ্যরাতেও তোমার নিরততার
দ্রৌপদী আঁচল ক্ষীণায়মান
ডানায় উড়তেই থাকে ...

ভোরের ভয়ে ভীতু রাতটার
কাঁধে চিবুক রেখে
যখন তুমি বিভোর নেত্রে
নিঝুম পৃথিবীটাকে দ্যাখো -

সারাদিনের স্বেদ, ক্ষত, ক্ষয় গুলোকে
প্রশমণের খেলায় মাতিয়ে দাও।

দলা পাকানো বোবা কান্না গুলোকে
বাহুলগ্ন আঁধারের গলায় মুছে মুছে
মারতে থাকো...

প্রতি পলের আদরের উদ্ভিদ গুলোকে
তার গায়ে মাথায় বপিত করো ...
কোথা থেকে এক অপরূপ
কীলক এসে গেঁথে যেতে থাকে
গহিন গভীরতর তোমাতে!

তোমার পতনের পথ আটকে
আনন্দেরা উৎসবে মাতে!
অপূর্ব এক স্মিতাভ বিভা
ঋণী হয়ে রয় ...
তোমার ওষ্ঠে, অধরে,
মুদিত নয়নে , কর্ণলতিতে,
সুঘ্রাত ললাটে, অলকদামে...

নিবিড় বাহুলতা, ললিত গ্রীবা
প্রমুখেরা অধীর রাতটাকে
তুষ্টতার গান শেখায়...

বিবশ রাত তোমার কোলেই
নিদ্রাবিভোর হয়,
ভুলে যায় ভোরের,
তোমার দৈনিক বিহনের ভয়!

সবার প্রশান্তি নিশ্চিত করে
শুধু জেগে রও তুমি।
প্রবল একান্ত একাকী ...
তোমারই হ্লাদিনী‌সত্ত্বা রাতটাও
নিঃসঙ্গতা লেপে যায় সর্বাঙ্গে !
ঝড়, সমুদ্র, বজ্র ,প্রলয় ও মৃত্তিকা
তখন তোমার সেবায় মাতে...


আমি তোমার রাত হতে চাই।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০