বাসন্তী রঙা ছিন্ন পাতারা - ৫

বিরহে ব্যাধিতে এবারের বসন্ত মুড়িয়ে এলো প্রায়। সব বোষ্ণব কবিতা আজ দেরাজের স্বতোসিদ্ধ আঁধারে স্নানরতা। মাঝে মধ্যে উঁকি দিচ্ছে... অপেক্ষার কান ঘেঁষে  কেউ উপশমী গান গেয়ে গেল কি! আজই কি উঠে যাচ্ছে তার এবং তার দয়িতের মাঝের পরদাটা? ফের সাজঘরায় নমোঃ!
     নীরন্ধ্র ব্যস্ততায় তোমার নিজের সাথেই নিজের দেখা হচ্ছে না আজকাল। তারমাঝে উটকোদের হানা বড়ো বিব্রতির বিষয় বটে। এ কিস্তির কবিতা গুচ্ছে সম সময়ের অথিরতা অগোছালো ভাবেই এসে পড়েছে। হৃদয়-গাত্রে লেগে থাকা দুর্মর প্রেমচিহ্ন গুলোকে স্মৃতির তুলিতে তোলার চেষ্টা হয়েছে।সেই সঙ্গে দু'একটা খন্ড পংক্তিকে অনুবাদের আদর দেওয়া গেল!



৭২


বড় সম্পর্কের জন্ম
অপ্রত্যাশিত ভাবেই হয় ;

দমফাটা নিদাঘের বুকের ওপর
হঠাৎ
উড়ে এসে পড়া

এক পশলা বারিধারার
নীলরঙা খাম যেন ...

৭৩
সংবেদী সম্পর্কেরা অনেকটা
ডানা ভাঙা পরীর মতো...

ভালোবাসা ছাড়া
উড়তেই পারে না।

৭৪
গতরাতে চাঁদের সাথে
ভোর অবধি কতো কথা হলো...

ও আমাকে সূর্যের গল্প শোনালো,
আমি শোনালাম তোমার কথা

তারপর
চাঁদটা যে কোথায় তলিয়ে গেল!
       
                    - (এস .এল. গ্রে)
৭৫
সব পথিকেরই একই প্রার্থনা
কোন কিছু, কাউকে ভুলতে চাইছে...

আমি ভাবছি বাধার কথা,
আর তুমি ভাবছো আমাকে!

৭৬
সবাই সূর্য হতে চায়,
দিনের সুখের সহজ আলো!

কেন চাঁদ হতে চাওনা?
আঁধারেই তো ধরার মত হাতের
বড়ো দরকার !

৭৭
কারোর সাথে অসংখ্যবার
বারবার বিচ্ছেদ সেধেছো?
সেধে চলেছো...

বন্ধু, তুমি সঠিক হাতই পেয়েছো!

৭৮
হতে পারি নরকাগ্নি
বা অমৃতধারা...

তুমি কোনটা ভালোবাসো?
বলো!

৭৯
ও চাইছিল আমিই ডাকি,
আমি চাইছিলাম ওই প্রথম ডাকুক...

কারোরই ডাকা হল না,
ডাক আর এলো না ;

অহংয়ের পোষাক খুলতে খুলতে
বয়ে গেল বেলা!

৮০
পারলে একবার আমায় ছোঁও...

মনে করাও আমি কে?

আর ভুলে থেকোনা, দোহাই?

৮১
সৌন্দর্য, ঐশ্বর্য দেখে
ভালোবাসা জাগে কি?

এক অশ্রুতপূর্ব অভূতপূর্ব গান,
পৃথিবীর আর কেউ জানে না
যার মানে...

তুমিই কেবল নাচতে পারো
সে অনন্য তানে!

                     - (অস্কার ওয়াইল্ডি)
৮২
ব্যথার মনোযোগী শ্রোতা পেলেই

উপশমের শুরু হয় ...
                 
               -(শেরিল রিচার্ডসন)
৮৩

আমি সৈকতের বালুকা,
তুমি তরুণী তরঙ্গ..

পায়ে পায়ে কখন এগিয়ে এসে
আমায় ছুঁয়ে...

ছিনতাই করে পালালে!

৮৪
যখন আমার আলিঙ্গনে থাকো না,
এ হৃদয়ই তোমায় জড়িয়ে রাখে...

দোহাই, ওকে ভেঙো না!

৮৫
আবিশ্বে দু'জনকে কেউ
পুরোটা ভালবাসতে পারেনি
এখনও ...


এক হল সমুদ্র
আর অন্যটা তুমি!

আমার - তোমার দেখা হবার পর,
বেচারা সমুদ্রটা আরও একা হয়ে গেল।

৮৬
জানো,
আমার চোখ দুটো
তোমার চলে যাওয়াটাকে
কোনভাবেই সহ্য করতে পারছিলো না;

ভাগ্যিস কান্না এসে
সব কিছু ঝাপসা করে দিলো!


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০