কাঠের কন্ঠগীতি

শুধু এক মুঠো
অজুহাত জড়ো করতে পারলে ;

ফিরে যাওয়া ফিঙেদের হয়ে
ল্যাজের কাজলপাতিতে
তোমার কানের লতিতে
গান এঁকে দিতুম।


ধুঁদুলের  নিরীহ বীজেদের
মতো যদি টুপ করে
ঝরে পড়া যেতো
তোমার আঙুলের আলগোছে ...


ধীরে ধীরে কচি কচি ডানা দুটি মেলে,
তাকাতাম তোমার অঞ্জনে অর্চিত
চোখ দুটোয় ...

সব ভুলে করুণায় ভিজে যেতো চারপাশ!
ধুয়ে যেতো আমার সঅব ভুল গুলো!

ভাবলুম ,
হাহাকার করে কেঁদে উঠি,
সব প্রার্থনা জড়ো করে তোমায়
ফের বাঁধনে বাঁধনে বাঁধি!

নদীকে মানাবার মতো
কোনও বাঁশি, কোনও কথাকলি
নাই আর আমার কাছে!
নিজেই ছিঁড়েছি, ছুঁড়েছি
নিগড়টাকে কৃষ্ণিম মাথুরে
কোন্ সে অতল কৃষ্ণ গহ্বরে!

নিঃস্বের বিশ্ব এতো নির্জনতর!
হাতহীন এ জগন্নাথের বাকচাতুরীও
আজ প্রলয়ের প্রস্তরে নত ...
পরিনতি !

নুড়ি, ধূলিদেরও বেলা গড়ে যায়
কোনও ভাবে ...

ঝরে যাওয়ার মতো
যদি  একটা জম্পেশ অজুহাত
নাগালে থাকে তোমার
দিও তো উড়ায়ে আমার পানে...

ওগো যোধৃ,
যুঝতে যুঝতে
যদি এক কণা অবকাশ এসে
তোমার বসে পাশে
আর দয়ার চোখে হাসে।


ঝড়, মেঘ ,বরিষণ তো ক্ষণায়ু ...
বুদ্বুদ বীর।
অক্ষমকে ক্ষমা অসম্ভব জানি!
তাই ঘৃণাই যথার্থ।

তোমার পদতলে
কত কবুতরই তো ক্ষমা খুঁটে খায়।
রাজহংসী, তাকাও তোমার
উন্নত গ্রীবাভরে আবার ...

একটি পালক উড়ে যাক
আরও দূরে...
যেথা শ্মশান-চন্ডাল আর দাই মিলে
প্রেমে যাপণ সারে।

অপেক্ষার পেখম জড়ে আছে ,
ক্রম জড়ায়মান
জড়ের জঠরে।

আমার নিঃশ্বাস
তোমার দীর্ঘশ্বাসের সাথে
অনন্ত আঁধারে কী কথা কয়?

সব জানাটা যেহেতু
জরুরী নয়।

থোকা থোকা কুসুমেরা
বোবা হয়েই থাক।

ভালোবাসা ফিকে হওয়া সম্ভব ;
ঘৃণা নয়।
ঘৃণার চেয়ে অশেষ যত্ন
আর কীই বাআছে!


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০