তুমি নেই বলে ...

ব‍্যথাহীন মানুষ,

জীবিত নয় ; শব । 


ঘৃণা , ভালোবাসা বেদনার দুই অমোঘ রঙ।

আমি ঘৃণায় জীবিত। 

তুমি ভিনদেশী ঝর্ণা! 


আমি এখনোও ঝরে উঠতে পারি নি।

 আমি এখনোও মরে উঠতে পারি নি।


 আমার সব যত্ন,

যত গোপন সাধন,

 তোমার অবহেলার কাছে

 বেমালুম হেরে গ‍্যালো।


তুমি বিমুখ নদী, 

আমি শিলায়মান অশ্রু।


একই সম্পর্কের দুই তীর -

চলায় থামায় , বলা না বলায় ভিজে ...

যুগপৎ ! 


তুমি আর ভুল করো নি।

আমায় ভালোবাসো নি ;


এ আমার নতুন ভালোলাগা !



তোমার ঠোঁটে, চোখে  

জড়ে থাকা অবজ্ঞার স্মিতাভা ;


তোমাকে আরও সুন্দর করেছে। 


আমার অপরাধ আরও বাড়িয়ে,

তুমি সুন্দর 

তাই দেখে চলি  ...! 


৫ 


আমি যে কেউ নই । মানি।


তোমার কাছে

আমার বিকল্প, 

প্রতিষেধকে

তাই আর ঈর্ষা করি না। 


আমি নির্জন, 

আমি অন্ধ,  কবন্ধ ...


আমাকে পাথর করে

কোনও এক কসাই -

আমার ওপরে ,ভেতরে 

কতো ছিন্নভিন্ন রক্তপাত ঘটিয়ে চলে ...


কেন ? কার তরে 

কসাই কোনও কথা বলে না ! 


আমার এক পরিচিত 

পুরুষ আয়না  

আমায় বললো -


'হতাশা থেকে বেরিয়ে এসো'!


সেদিন থেকেই আমার ভেতরের হতাশাকে খুঁজে

চলেছি। পাইনি।


হয় আয়নাটা মিথ‍্যুক , নয়তো আমি আহাম্মক।


কলতলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উকিল গুনছি ... 


সারাদিন যেমন তেমন ,

বিকেল হলেই হৃদয়ে সিসমোগ্রাফি। 


সবাই বলছে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প!


তুমি তো ল‍্যাম্পলেডি। এগিয়ে গেলে ... 


আমি খুচরো কড়ি গুলো কুড়োচ্ছিলাম ...

পাওনা নিয়ে সবাই চলে গ‍্যালো।


সবার চরনধূলি ঝাঁটিয়ে জড়ো করে পাহাড় বানাচ্ছি।

নতুন প্রফেশন! 


৯ 

কথা বলার , হাত ধরার ,

ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে দেওয়ার 

পথ উবে গ‍্যাছে।

তোমার সাজানো বাগানের ঠিকানা,

আমার নাগাল হতে বহু দূরে। 


তার দীর্ঘায়ত ছায়ায়

আমার শিকড় , স্মৃতিরা

নিত‍্য খেলা করে। 


এখন 

বিরাট শুন‍্য এক প্রান্তর পড়ে আছে ; 

পথ নেই।


১০.

যোগাযোগ হীনতার গায়ে 

যতো সযত্ন অভিযোগ লেগে ছিল ... 

সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছো।


ওই ক্ষমাধন‍্য পিঁপড়ে গুলো

 এখন  আমার বিমূঢ় দেহটাকে

ঘিরে শ্মশানগীতি গাইছে। 

তোমারই একান্ত দয়ার্দ্র নির্দেশে ...


এক লক্ষ 'ভালো আছি' র বিজ্ঞাপন ছাপাবো

বলে ঋণের আবেদন করেছি। 

তোমার সস্বাক্ষর  দাক্ষিণ‍্যের তরে অপেক্ষমান। 


 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০