রুমি বাগিচায় পুনর্বার


 আবার রুমির রচনার সাজি হতে এক গুচ্ছ  প্রেম-গন্ধী গোলাপকে অনুবাদের চেষ্টা করলাম। রুমির কবিতায় ঈশ্বর বা প্রার্থিতের কাছে পৌ‍ঁছবার এক ও অনন‍্যমাত্র পথ হলো - প্রেম। 


বিশ্ববন্দিত পার্সি কবি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি (জন্ম ৩০ সেপ্টেম্বর ১২০৭, মৃত্যু ৩০ ডিসেম্বর ১২৭৩)। রুমি নামেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত। আইনবিদ‍্যা, ধর্মতত্ত্ব , সমাজবিদ‍্যা, শিক্ষা প্রভৃতি বিচিত্র বিষয়ে তাঁর অসীম অবদান থাকলেও, বিশ্ববাসী কবি হিসেবেই তাঁকে মনের মনিকোঠায় স্থান দিয়েছেন। রুমির কবিতার পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা অতীন্দ্রিয়বাদ , সুফীয়ানার শুভ্রতা ,অধ‍্যাত্ম দৃষ্টি এক অননুভূতপূর্ব প্রেমের নিগড়ে ঈশ্বর ও মনুষ‍্যকে অপরূপ বন্ধনে বাঁধে। অবলীলাক্রমে তিনি ঘুচিয়ে দিতে পারেন ঈশ্বর ও প্রেমিকের সব বিধুর দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব।


 এ অনুচিকীর্ষায় 

কোলম‍্যান বার্কস ও জন মোনের অনূদিত 'দ‍্য এসেনসিয়াল রুমি' , দীপক চোপড়া সম্পাদিত 'দ‍্য লাভ পোয়েমস্ অফ রুমি', কবীর হেলমেনস্কি সম্পাদিত 'দ‍্য রুমি কালেকশন'  প্রভৃতি গ্রন্থাদির ঋণ অপরিসীম।


১৬ 


'আমি তোমায় ভালোবাসি'

-এই কথা বলতে একটুও ভয় পাইনে। 


তুমি বলবে - 

'তুমি আমায় কতোটাইবা জানো, চেনো -

যে  ভালো বাসবে? ' 


তোমাকে আর চিনতে আমি চাইনে - 

চাইনে দিতে আমার প্রীতপ্রণয়ের প্রমাণ ; 

তোমায় ভালাবাসাটাই আমার কাছে

বড়ো আনন্দের ! 


তোমার প্রত‍্যাখ‍্যানে ভীত নই;

আমি তো আমার সর্বৈবকে 

অস্বীকার করতে পারিনে ! 

তুমি আমার সর্বৈব । 


এক সদাসিক্ত 

মন্ময় রম‍্যতায় বেঁচে থাকাই  -

আমার চর্যা , আমার গল্প ...।

আমার দিঠিতে ধরার প্রতিটি কণা 

 অপার অপরূপ রূপময়।


তোমায় ভালোবেসে বাঁচা,

আমার পুনর্জন্ম -

আবার নতুন করে বেঁচে ওঠা। 


প্রভু, 

তুমি আমায় 

ভালোবাসো, বা নাই বাসো। 


© অনুবাদ : Tinku Kumar Ghorai 



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০