ব্যর্থ কুসুমাবলী

শর্ত একটাই -
বাইরে কান্না একদমই নয়; 
ভেতরের অশ্রুর এক কণাও যেন 
বাইরে না পড়ে!

ভালোবাঁচার কড়া নিয়ম।


তোমার এ বিচিত্র নন্দিত এড়িয়ে চলার মুখে,
আমার  আগলে রাখার নিতিনিত‍্য বেড়া ; 
কী করুণ ! কী হাস‍্যকর ... 


একদিন আমার কাছ থেকে
 যা কিছু আশা করেছিলে,
সেগুলোর নতুন নামকরণ করেছো - 
'ছেলেমানুষী'। 
সঙ্গত বটে।

৪ 
তুমি কিছুই কেড়ে নাওনি ... 
শুধু আমার শুন‍্য স্লেটের ওপর
যা কিছু বাল‍্যখিল‍্য আঁকিবুকি ছিল ;

সব মুছে নিয়ে গেলে। 
সুকর্তব্যপরায়নী !

 অবহেলার
প্রত্যুত্তর অবহেলা হলে;
তাই যথাযথ।

অবহেলার উত্তর
যখন নীরব যত্ন হয়;
তা আরও স্বাদু। 
আরও দীর্ঘায়ু।

এক তীর অবহেলার তুচ্ছতায়
একা ছেড়ে গ্যালো;
আর একজন
পুরো একটা সমুদ্র আগলে
আমৃত্যু যাতনায় জেগে রয়ে গ্যালো ... 

বিচ্ছেদ 
সম্ভব তাই বলে ভালোবাঁচায় 
খিল দেবে ! আচ্ছা, মানলাম।

আটকে থাকা তো ভালোবাসার গান নয়। 
বাঁচো পঙ্খী , সচল ডানায় বাঁচো। 


নিষ্প্রাণ সম্পর্কের গায়ে 
তোমার যা কিছু
এখনও  জড়ে আছে,
তার সবটা তেড়ে , খুঁড়ে ,উপড়ে ... 
নিয়ে চলে যাও।
ঘৃণা, অপমান
যা ইচ্ছা করো;

অবহেলা কোরো না। কখনও। 

অবহেলার মহীরুহ বড়ো ভয়ঙ্কর!
ওরা সংগোপনে বহুগুনিত হয়ে
বাড়তেই থাকে ...
অবহেলন
তো দেখেও না দেখার ছাড়া 
আর কিছুই নয়।

এখন যাকে , যা কিছু  ভালবাসছো ...
এ অবহেলা তোমাদের সব কিছুতে 
ভাগ বসাবে।

ঈষহরিত পাতা, বিবর্ণ বাকল
কিম্বা ঝরমান কুসুম ছিঁড়ে কি লাভ ?

শিশুবৃক্ষকেই নিধন করো। 
অবহেলাকে আদর কোরো না।


যে দিকে তাকাই 
তুমি নেই।

তোমার শূন্যতায় ভরে আছে সর্বদিশ।
এ এক অপার পূর্ণতা ! 



আমার কথা শুনতে
তোমার কতো কষ্ট হয় ...

জনারণ্য হতে তুলে, 
সঅব কিছু ভুলে
আমায় শুনতে চাও!

কী সৌভাগ্য আমার! 

বহু সাধনা-সন্ধানের পর
বহুমূল্য এক শ্রুতিসম্পান 
পাওয়া গেল ... 

আজ তুমি নেই। 

জীবন সুসাধনা ছাড়া
আর কিছুই তো নয়। 

শুন্যতায় ভরে যাওয়া চারপাশ,
পূর্নতাই বটে।

পড়ে আছে প্রস্তুত  শ্রুতিসম্পান  ...  
স্মৃতির অশ্রুতে সিক্ত।  জীবিত। 

১০
এখন
দু'জনে আমরা একেবারে 
এক নই ... 

 প্রবল ব‍্যস্ততা সত্ত্বেও ,
বেখাপ্পা নাবালকপনার 
ওজর গুলোকে ... 
এক নন্দিত অবহেলায় 
সহ‍্য করার ভদ্রতা দেখিয়ে 
চলেছো ! তুমি।

তুমি তো সুভদ্রা,
এতে আর প্রমাণের কী আছে! 
তুমি সব পারো -
থামতে বা থামাতে। 

তবু কেন এ প্রবল অপচয় ! 
তোমাকে অল্প  হলেও অবিন‍্যস্ত দেখতে,
আমার কি একটুও ভালো লাগে ?
তোমার দয়া পাওয়ার অধিকার
অন্তত আমি রাখি না। 
তোমার এ ক্ষয় মোটেও যথার্থ নয়।


এখনের আমি আর 
প্রেমিক বা মানুষ - কিছুই নই।
এ আমি বড্ড শূন‍্য, ফাঁপা , অনুর্বর,
অসার,অকর্মণ্য , অকৃতজ্ঞ
এক শম্বুক পিন্ড। 

এ পর্বের তুমি ,
অনন্ত দিগন্তহীন 
সুকর্মচঞ্চল এক সত্ত্বা ... 

 আমার কষ্ট চাওনা জানি।
 এ কষ্টটা আমি বুঝি। 
 এবার তুমি বোঝো।


 ১১
 
ছেড়ে যাচ্ছো ;
সব দেখছি , বুঝছি ...  
স্রোতস্বিনীকে আটকানো যায় না,
আটকাচ্ছি না।

বিবশ বিবমিষা।
সত্য বিচ্ছেদ। 

তুমি সুস্মিতা, প্রোজ্জ্বল , স্বাভাবিক ‌।

আমি
সবটা মেনে নেওয়ার
 দুঃসহ সাধন সংগ্রামে রত। 
 আমায় 'বিদায়' বলবে না?
 এত অবহেলা !
 
 ১২
 
কিছু সুযাপন বিধির বিনিময়ে,
যা কিছু মান, সম্মান, অর্জন 
ছিল সব  কিছু নিয়ে গেলে ... 

উপহার গ্রহণ করার জন্য -
ধন‍্যবাদ। 


১৩

এখন
অযুত সংলাপের চেয়েও গভীর বাঙ্ময় - 
এক দীর্ঘতর নৈ:শব্দ্য বিনিময় করছি আমরা ...
অশেষ চুম্বন যেন !

'নতুন কোনো নীরবতা,
নতুন কোনো খবর নেই' 
- এটাই খবর এখন। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০