তোমাকে




১ 

'সকাল' তো একটা 
দূত-শব্দ মাত্র

তোমার বিভা বিনা
 রাত্রি মুক্তি পায় না।

তোমার আলোর তরে
 আঁচল পেতে থাকি ...
 তোমার ভালো থাকায় 
 দিন সুশুভ , সুস্থ থাকে। 

তোমার ভালো থাকা জরুরী।


তুমি আছো বলে, 
চারপাশ সবুজ রাখতে - 
সদাক্রিয়মান এক অলি
 আমি‌।

অম্লজান,
এ বাগবাঁকে 
এভাবে 
জীয়ন্ত ব্যস্ত রাখো, অম্লজান। 

যুগ যুগান্তের ক্ষয়িত,
 বিবিধ আবহে বিকৃত
বালুকাবেলা আমি।

আমায় ফেলা যাওয়া 
স্বাভাবিক,
তবু তোমার ঝিনুকের নুপুর পরা
ঈষসিক্ত  নগ্নপদেরা ...
আমার হৃদয়ের পাশে আজো দাঁড়িয়ে...

তোমার ধন্য করার ধরনই আলাদা !

এ পৃথিবীর প্রায় সবাই ফিরে গেল
যাবতীয় প্রেমণ শেষে ... 

আমার জীবিত হৃদয়ের গায়ে,
তুই আজও 
আদুরে এলানো ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ...

জীবনে এর চেয়ে বেশি 
ভাবিনি তো কখনো কিছু! 

অভাবনীয়া ! 


আঁধার
গাছ ,ফুল কিম্বা আঁখিকে 
আড়াল করতেই পারে,

আত্মা হতে প্রেম
মুছে নেওয়ার মতো
 আঁধার হয় না কখনো। 


আমাদের হাত গুলো মূকশিল্পী নয়;
গভীর বাঙ্ময়।
আমাদের ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে
কতো গোপন লিপি, মোহন গীতি লুকোনো।
ওদের খুঁজে নিতে, বুঝে নিতে দাও ...

নৈঃশব্দ্যের নিবিড় ঐকতান!



তোমার 
ননীনরম স্বর 
স্বপ্নের সাগর হতে ভেসে আসে ; 

তোমার 
মৃগশিশুনয়নের মায়াঘন দিঠি
পৃথিবীর সব দ্বিধা-দ্বন্দ্বকে 
প্রশান্তিতে বদলে দেয়। 

তরঙ্গিনী ,
হে  স্তরায়মান চূড়োর নির্মাতা -
প্রার্থিতের প্রেম গ্রহণ করো। 


তুমি
অসীম সমুদ্রজলরাশির
এক বিন্দুমাত্র নও;

বিন্দুতে সিন্ধু,
সসাগরা পৃথিবী -
তুমি !

 
প্রতিদিন এক চিলতে দেখা হোক।

আচ্ছা ,দেখা নয় 
একটু কথা হোক।

কথার কথা বাদ দাও,
এক বিন্দু সংকেত বার্তা। 

তাও যদি না হয় ,
ঘোষণা হোক বিরহব্রত ভঙ্গের
দিনক্ষন ... 

সে যতোই দীর্ঘ হোক।

চুপচাপ বুকে পাথর চেপে,
হাসিমুখে
অপেক্ষমাণ রবো। 

দেখা, কথা, চিঠি ...
কোনও কিছুর তরে 
ক্ষণে ক্ষণে রক্তাক্ত হবোনা আর। 

স্কুলবয়ের মতো 
বুড়ো বয়সে
এসব ভাবছি ...

১০
আমরা পরস্পরের কাছে
পরস্পর 
কে, কি, কেন ,কতটা... 

আমরা উভয়ত: কেউ জানি না। 

জনগণ জানে ...
ব‍্যঙ্গ, বিদ্রুপ, তামাশায় !

তাও জানি;
পরস্পরকে আরও অনেক 
নন্দিত শুদ্ধ ভাবে জানি
আমরা।

আমাতে তাকাও,
আমাকে দ্যাখো, 
আমাতে চোখ রাখো... 
 আমার জন্য ওষ্ঠ খোলো, 
 আমায় শুধু বলো ;

আমায় লেখো, 
আমায় পড়ো ;
আমায় আলতো করে, 
আমায় নিবিড় করে  ,
আমাকে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে ধরো !

তেমন মন হলে 
মগ্ন শিউলির মতো
ঝরণাতলার নির্জনে 
আমার কোলেই ঝরো।

আমায় আরও আকুল করে, 
আমায় আরও কাঙাল করে 
আমায় আরও মাতাল করে 
আমায় আরও বাউল করে ... 


পুরোপুরি তোমার করো 
ধরো 
ছাড়ো 
মারো 
আরও, আরও ...


আমার এ অবাধ 
অবোধ 
অবাধ্য 
নির্বোধ
ছেলেমানুষীর মৃত্যুর পূর্বাবধি! 

বললে বলো হিংসুটে ;
আমি ঐ সুখেতেই রবো। 

১০
খুব কাঁদতে চাই জানো
যতটা অশ্রুবানে দ্বন্দ্বেরা 
সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ।
যে অশ্রুতে নেই সংশয়,
নেই লজ্জা,ভয়। 

খুব কাঁদতে চাই
যতটা কাঁদতে পেলে ;
পোষবিড়ালীর মত বুকের ওমে 
বেশ গুটিসুটি থাকা যায়।

খুব  করে কাঁদতে, ঝরতে চাই
যতটা কান্নায় পৃথিবীকে তুচ্ছ মনে হয়।
কাঁদনের বাঁধনে..
 ডুবসাঁতার দিই খরস্রোতায়। 
 নীরবে রচয়মান গাথাকাব্য। 

তুমি আছো
তাই অন্তর আছে,
 অসীম গহিন আছে ...

তোমার কারণে বুঝেছি,
আমি স্রোতময়; অশুষ্ক। জীবিত ! 


১১
একটা গোটা দিন
হাতে হাতে ছুঁয়ে থাকা - 
সাত সমুদ্রের চেয়েও 
অসীম,অনন্ত ...

বেশীর ভাগ দিন গুলো
চেঁটে পুটে না খেতে পারা
 আহার্য্যের মতো,
 না ছুঁতে পারা হাতের মতো...

এক একটা সূর্যের ঘাড়ে
অন্য সূর্যের হুমড়ে পড়া
শুধুই ... 


১২

তোমায় প্রেমণের
তিলার্ধ যোগ্যও আমি নই। 

জীবাত্মা পরমাত্মার
তারতম্যে দাঁড়িয়ে ...
তবু
অযুত স্পর্ধায়
ভালোবেসে ভালোবেসে যাই 
আমি। 

অসীমের আনন্দ উদ্ভাস
অপূর্ব,অপরূপ ...

হে অনন্তা,
এ ধূলোকণাকে 
তোমার সুধাস্নাত করো।

১৩
একটা
অলস, ঢিঁট, গোঁয়ার,আনাড়ি ,
বদরাগি, হিংসুটের
পক্ষে প্রেমিক হওয়া
এ জন্মের মতো
অসম্ভবই রয়ে যেতো। 

যদি 
সব খুঁত মিলিয়ে দেওয়ার মতো
তুমি না থাকতে। 

১৪
পথের প্রান্তে
তুমি আছো  ...

অদৃশ্য , অস্পর্শ 
তুমি আছো বলে

আমার চলা সার্থক;
পথ সার্থক।

তুমি না থাকলে
পৃথিবীর সব সুসৃজন
বেমালুম মিথ্যে হয়ে যেতো।

১৫
 

পাতার পর পাতা  ভাঁজের পর ভাঁজ, 

গহিনতর এক ঠাঁয়ে উপ্ত আগুন,
অফুরান আলো ,
অসীম আশার খনি -
তুমি! 

নিশিদিনের তোমার তুমি
আর আমার তুমির মাঝে
বিস্তর পারাবার ... 

গোপন করা কঠিন 
এমন গোপনতর তুমি। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০