বোধি-বিন্দু ৩
মূলতঃ হিন্দী, ইংরেজী ও ভগ্ন-পালি প্রাকৃত ভাষা হতে অনুসৃত এই পর্যায়ের লেখা গুলি।আমার উৎস গুলির গৌতম বুদ্ধের উপদেশাবলীর সাথে সম্পূর্ণত: প্রত্যক্ষ যোগ থাকা অনিশ্চিত। বোধি ভাবনার শুরু কখনোই বুদ্ধ থেকে নয়। তিনি সম সময়ে এই ভাব-দর্শণকে বৃহৎ রূপ দান করেছিলেন। তত্ব-দার্শণিকতার চেয়ে জীবনাচরণে, সময়ের অসুখ সারানোয় গৌতম সর্বাধিক প্রয়োগ করেছিলেন। সেই বোধ ও বোধির স্রোতে পরে অযুত মত ও বাঁকের যোজনা ঘটেছে। ঘটে চলেছে।
আজ এই পর্বের কবিতার তৃতীয় কিস্তি। বলাবাহুল্য, সাহিত্যে-সৌকর্য বহু আগে বোধি- বচনের কাছে আত্মসমর্পণ করে আছে। যদি।
১৪
এই জিৎ
কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
সব জয়-যোগ্যকে তোমায় সমর্পণ করবে;
পৃথিবীর যাবৎ যুদ্ধ-জয়ের চেয়েও বৃহৎ!
যদি,
নিজেকে জয় করতে পারো।
১৫
শব্দ
যখন সত্য ও করুনারুণের
হৃদয়ের অতল হতে উত্থিত হয় -
পৃথিবী বদলে দিতে পারে !
হোক না তা প্রলয় বা প্রশমণের।
১৬
জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে নিয়ে ভাবছো -
অন্যকে ছারখার করবে!
আদতে জ্বালাবে তো নিজেকেই। শুধু।
যখন তুমি রাগে-ক্রোধে থাকো।
১৭
সত্য ভাষণ-মাত্রেই অতীতে
ঢুকে যায় ; চুকে যায় কথা-ভার।
অসত্য ভাষণ ভবিষ্যতের অশেষ
বিপর্যয়ের অংশ হয়ে পড়ে।
হিসেবে মেটে না ; আর।
১৮
ক্রোধ-বশ্যতা
নিজে বিষপান করে,
অন্যের মৃত্যুকামনার সমান!
১৯
একলা চলা অনেক শ্রেয়
অসৎ-সঙ্গের চেয়ে।
২০
ক্ষত-দুঃখ সবেরই আরোগ্য-সম্ভব।
সমব্যথার বোধে
তাকে ছুঁতে পারো
যদি।
২১
উদ্বিগ্নতা
আসে ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রনের চিন্তা থেকে;
ভবিষ্যতের তরে দুশ্চিন্তা থেকে নয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন