গুলজারের গুলদাস্তাঁ
গুলজার (জন্ম: ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪) । পূর্ণনাম সম্পূরণ সিং কালরা। হিন্দী ও উর্দু ভাষার প্রখ্যাত কবি, গীতিকার সুরকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। এ পর্বে তাঁর কিছু হিন্দী কবিতার অনন্য পংক্তির অনুবাদের চেষ্টা নিলাম। শায়েরীর গড়নকে গদ্য কবিতার ছাঁচে ঢালতে গিয়ে ঈষৎ গলাতে হয়েছে। তবে তা মূল বক্তব্যকে কোনও ভাবে লঙ্ঘিত বা অবমানিত করে সাধিত হয় নি।
১
পুরোনো গল্প গুলোকে
সেঁকে নিতে
পেয়ালা হাতে বসেছিলাম ...
পুরোনো গল্প গুলোকে
সেঁকে নিতে
পেয়ালা হাতে বসেছিলাম ...
চা গেল জুড়িয়ে,
আর চোখের কোণ
ভিজে গ্যালো!
আর চোখের কোণ
ভিজে গ্যালো!
২
কথা গুলো তো
কোনো মতেই খাতার পাতায়,
মুখে বসতেই চাইছে না!
কথা গুলো তো
কোনো মতেই খাতার পাতায়,
মুখে বসতেই চাইছে না!
পঙ্খী প্রজাপতিদের মতো।
যত্তোসব দুরন্তপনা!
যত্তোসব দুরন্তপনা!
৩
কখনো কখনো
স্বপ্নেরাই আমায়
চেঁচিয়ে, ঠেলে তুলে
কখনো কখনো
স্বপ্নেরাই আমায়
চেঁচিয়ে, ঠেলে তুলে
জাগায়।
৪
বলার লোকেদের আর
কি যায় আসে!
সওয়ার লোকেরই যতো জ্বালা।
বলার লোকেদের আর
কি যায় আসে!
সওয়ার লোকেরই যতো জ্বালা।
লোকেরা তো শুধু
আঙুল তুলতেই জানে,
ব্যথার বিধান কেই বা বোঝে!
আঙুল তুলতেই জানে,
ব্যথার বিধান কেই বা বোঝে!
৫
ওই জিনিসটা ,
আরে, যাকে 'মন' বলে ডাকে
লোকে।
আমি যে তাকে কোথায় রেখেছি,
মনে আসছে না মোটে!
মনে আসছে না মোটে!
৬
আমি বলেছিলাম - ঠিকই আছি...
আমি বলেছিলাম - ঠিকই আছি...
ও বললো - ভালো! আমি তাহলে চললাম...
সেদিনই বুঝলাম দূরত্ব কী বিষম বস্তু!
৭
বন্ধু, রিফু করে একটু দ্যাখোই না।
বন্ধু, রিফু করে একটু দ্যাখোই না।
এটা তো জীবন,
দেখবে কেমন নতুন নতুন দেখাবে ।
আবার ।
দেখবে কেমন নতুন নতুন দেখাবে ।
আবার ।
৮
এ লহমায় উদ্বাস্তু করলে ...
জানো,
এ লহমায় উদ্বাস্তু করলে ...
জানো,
যেখানে পৌঁছতে আমার
কত যুগই না লেগেছিল!
কত যুগই না লেগেছিল!
৯
চেয়ে চেয়ে দয়ায় পাওয়া দ্রব্য
ফেরত দিতেই হয়।একদিন।
চেয়ে চেয়ে দয়ায় পাওয়া দ্রব্য
ফেরত দিতেই হয়।একদিন।
আমি তোমায় অর্জন করতে চাই।
১০
বিচ্ছেদের পর
প্রলাপে কী লাভ!
বিচ্ছেদের পর
প্রলাপে কী লাভ!
সে তো তোমার নিজেরই
চয়িত কুসুম ;
চয়িত কুসুম ;
দোষ আর কার ঘাড়েই বা যাবে !
১১
উনি বললেন,
আরে, দু'জনায় কি করছো?
উনি বললেন,
আরে, দু'জনায় কি করছো?
মৃদু হেসে বললাম,
যে নদীতে সেতু নেই -
আমরা ওখানে নৌকা বাইছি ...
যে নদীতে সেতু নেই -
আমরা ওখানে নৌকা বাইছি ...
১২
তোমায় দেখেই
হাত পেতে দিয়েছি...
তোমায় দেখেই
হাত পেতে দিয়েছি...
জানি না আমি
কীই যে চাই! আদতে।
১৩
শত বার হৃদয়কে বলি,
এবার তো ওকে ভোলো।
সব ভুলে যাই চলো।
কীই যে চাই! আদতে।
১৩
শত বার হৃদয়কে বলি,
এবার তো ওকে ভোলো।
সব ভুলে যাই চলো।
ও বলে,
আগে তো তুমি মন থেকে চাও!
একেবারে। ভুলে যেতে!
বলো ...
১৪
অবশেষে সে একদিন
জিজ্ঞাসা করার অবসর অর্জন
করে বললো -
'তো এখন তাহলে কী চলছে ?'
আগে তো তুমি মন থেকে চাও!
একেবারে। ভুলে যেতে!
বলো ...
১৪
অবশেষে সে একদিন
জিজ্ঞাসা করার অবসর অর্জন
করে বললো -
'তো এখন তাহলে কী চলছে ?'
আগুপিছু বিবেচনা-রহিত ভাবে
বললাম -
নিঃশ্বাস! ...
বললাম -
নিঃশ্বাস! ...
১৫
দুঃখের তো অবসরের বড় শখ।
দুঃখের তো অবসরের বড় শখ।
খুশির কী আর সময়ের
খেয়াল থাকে!
খেয়াল থাকে!
১৬
আমি তো ঠিকঠাক
বলে উঠতেই পারি না।
আমি তো ঠিকঠাক
বলে উঠতেই পারি না।
এটা তুমি বুঝতে শুরু করো
এবার।
এবার।
১৭
কেউ তো আমার
ঝামেলা গুলোকে একটু ঘুম পাড়াও;
কেউ তো আমার
ঝামেলা গুলোকে একটু ঘুম পাড়াও;
আমার যে খুব খুশিতে
বাঁচতে ইচ্ছে করছে !
বাঁচতে ইচ্ছে করছে !
১৮
দুঃখ সঠিক লোকেরই
বরাতে জোটে।
দুঃখ সঠিক লোকেরই
বরাতে জোটে।
এলেবেলেকে ধাক্কা লাগলে তো ,
'দুঃখিত' বললেই চলে যায়!
দুঃখের হকদার তা হৃদয়ে
আগলে রাখে! বাঁচে।
'দুঃখিত' বললেই চলে যায়!
দুঃখের হকদার তা হৃদয়ে
আগলে রাখে! বাঁচে।
১৯
কে বলে
আমি মিথ্যে বলিনা!
কে বলে
আমি মিথ্যে বলিনা!
কেমন বেঁচে আছি,
একবার জিজ্ঞেস করেই তো দ্যাখো!
২০
প্রায়শই আমি
মাটিতে বসি, শুয়ে পড়ি...
একবার জিজ্ঞেস করেই তো দ্যাখো!
২০
প্রায়শই আমি
মাটিতে বসি, শুয়ে পড়ি...
আমার অধিকার , যোগ্যতা,
ও অবশেষকে
ছুঁতে বেশ ভালো লাগে।
ও অবশেষকে
ছুঁতে বেশ ভালো লাগে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন