বোধি-বিন্দু ১১

বুদ্ধ হতে বোধ। বোধের জন্যেই বুদ্ধ প্রাসঙ্গিক। গোতমের জন্মের বহু আগেই...  'এ জীবন কী' ; 'এ জীবন লইয়া কী করিব! ', ' এ জীবন আরও ভালো যাপণ কিভাবে সম্ভব! '... ইত্যাদির দার্শনিক, সামাজিক আলোচনা স্রোতমান ছিলই। নিজের জীবন দেখে সঙ্গীদের প্রতি যে অনুভূতি গুলো প্রকাশ করেছেন...  তা-ই বুদ্ধবাণী বলে ধরে নেওয়া হয়।বলাবাহুল্য, তাঁর তিরোধানের সহস্রাধিক বছর পরেও বহুজনে, বহুমনে,  বহুমতে, বহুভাবে ভাষায় যে যাপণ-বাণী বহমান গুলোর অতি অল্পই সরাসরি বুদ্ধমুখনিঃসৃত। তবে,  বিস্তৃত ব্যাখা,ব্যাপ্ত চূয়মান ধারা গুলোকেও কোনও মতে বোধি-বিমুখ , বিরূদ্ধ  বা বিভ্রান্ত বলা চলে না।  ‌অন্যভাষায় প্রাপ্ত বাণী-বচনের অনুক্রমে নিবেদিত হলো একাদশতম কিস্তি।
৯৯
আবেগ, অনুভূতিরা
এরা আদতে এক একজন
দর্শনার্থী মাত্র।

ওরা যেমন এসেছে,
ঠিক তেমনি
চলে যেতে দাও...

১০০
এ জীবনে
কার দেখা পাবে,
তা সময় নির্দিষ্ট করে!

এ জীবনে
তুমি ঠিক কাকে চাও,
তা তোমার হৃদয় বলে দেয়।

এ জীবনে
কে তোমার আমৃত্যুসঙ্গী হবে,
তোমার আচরণই তা সৃজন করে।

১০১
যা তুমি
প্রাণপণে নিজের বলে
আঁকড়ে প্রবলভাবে অধিকার বোঝাচ্ছো;

ওটা ছাড়া আর কিছুই
হারাবার নেই তোমার ।

১০২
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো -

তোমার কাছে ভাবার সময় আছে!

১০৩
তোমার ক্রোধের কারণে
কেউ তোমায় শাস্তি দেবে না।

তোমার ক্রোধই তোমায়
শাস্তি দেবে!

১০৪
খরবায়ুতেও
 দৃঢ়সন্নিবদ্ধ প্রস্তর যেমন অনড় থাকে।

তেমনি  যথার্থ জ্ঞানী
প্রসংসা বা নিন্দায় থাকেন অবিচল ।

১০৫
একটা ক্ষুদ্র দীপবর্তিকার আলোকেও
অস্বীকার করার মতো আঁধার
এ বিশ্বে নেই!

আলো জ্বালো।

 ১০৬
 কেউ তোমাকে
 সুখী বা দুঃখী করে দেবে ...

 ধারণাটা বেশ হাস্যকর বটে!

১০৭
সুখ
অনেক কিছু থাকায় নয়;

অনেককে, অনেক দিতে পারায়।
১০৮
ঘৃণার আগুনকে ঘৃণা নয়,
ভালোবাসাই নেভাতে পারে!
একমাত্র।

১০৯
যথার্থ শক্তিশালী
কখনো কাউকে অবনমিত করে না ...

অবনতকে উন্নত করে। উদ্ধার করে।

 ১১০
 এ বিশ্বকে তোমায় কঠোর বানাতে দিওনা।

 তোমার ক্ষুদ্রতাকে, বেদনাকে
 তোমায় ঘৃণিতের পরিচয়ী করতে দিওনা।

তিক্ততাকে তোমার মিষ্টতা চুরির
সুযোগ দিওনা ...

কোমল হও।

১১১
অতীতের দ্বারা বন্দী হয়ো না;

ওটা একটা পাঠমাত্র,
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভেবো না!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০