আত্ম ও আত্মার আলাপন
এখন দুপুর। বুড়োনো সকাল থেকে নীল পাহাড়ের কাছে আছে পান্থ। বুনোবাঁশ, আধ-কোমর সব গুল্মে চারপাশ ঘিরে আছে।রিনরিনে উদাসী হাওয়া ছাড়া শব্দ জাগাবার মতো কেউ নেই এখানে। পাখিরা লেবুহীন কমলাগাছেদের নগ্নশাখা গুলো ছুঁয়ে ডানা ভাসাবার খেলায় মগ্ন।শীত চলে যাওয়ার পর ক্রমে ক্রমে নব বসন্তের রাংতা বিমুক্ত হচ্ছে।
বছরভর চেষ্টা করে এই পাহাড়ী উপত্যকাটায় নিজেকে নিয়ে আসতে।পান্থ। প্রায় সুষুম্ন পথ বেয়ে তার এই চূড়োর কাছে বেশ ভালো লাগে। পরম চড়াই। স্থানটা চূড়ান্ত শৃঙ্গ নয়। আরও কিছু পথ চরম দুর্গম ট্রেক করে পৌঁছলেই আকাশের উদার উদ্বাহু আশ্রয়ে মিশে যাওয়া যায়। যার পরে এ জন্মের তরে আর কোনও যাত্রা নেই। যেতে পারেই। তবু, এখান অবধি পৌঁছতে; থাকতে ।বাঁচতে, টিকে থাকতে তার বড় ভালো লাগে। এটুকুই টান... মোহন মোহমাত্র তার। সে জানে এর পরই পরম শূণ্য ; শেষতম আশ্রয় এ প্রাণের।
আজও হয়তো হিয়ার আসা হয়ে উঠবে না ; তবু। একটা সময় অবধি। আসন্ন আকীর্ণ আঁধার অবধি সে এই নিবিড় নির্জনতম সঙ্ঘারামে মুহুর্ত গুলোকে... তাদের গায়ে লেগে থাকা গ্লানি গুলোকে ঝরতে দিয়ে যাবে। যাবেই। হিয়া তার অজোড় হৃদয়ের একান্ত জোড়। তার না আসাটাও আজ নিশ্চিত। হয়তো। তবু চরম শুণ্যে যাবে না। যাওয়া যাবে না।
এ উচ্চ আশ্রয় থেকে প্রায় বোঝা যায় হিয়া কোথায় আছে। রক্ত, মাংস, শিরায়, শ্বাসে, প্রশ্বাসে...! আছে। আজ দিন শেষে অসুষুম্ন উতরাইতে নেমে যাওয়ার পর দূরত্ব কমবে। আবার। জট বাড়বে। ও যখন আমার বুকের ওপর মুখ গুঁজে ক্রমে ক্রমে আরও গহীনে ডুবতে ডুবতে শূণ্য হবে। শুষে নেবে সঅব অস্থিরতা, আশ্লেষ। এক হয়ে যাবো। ক্রমে শূণ্য। আবার। বারবার। জন্ম, পুনর্জন্ম।
আবার ছাড়িয়ে আলাদা হয়ে। নবজন্ম। নবজাতক নিজেদের মতো বয়ে... এক একটা নদ-নদী হয়ে।সাগরে লীন হবো। আবার জন্ম। মৃত্যু এখানে চরম অসত্য।নিভে যাওয়া আছে। উবে যাওয়া নেই।... দুই, এক, শুণ্য ... আর শূণ্য... এক... দুই!
হিয়া, এখনও তুই কই?কোথায়? দুয়ের জীবন শেষে... নতুন পরিধান। একের, শূণ্যের। দ্বিচির এ জীবনে কোথায় ক্ষীণতর একটা জোড় জেগে আছে বুঝতে; প্রতি জনমের প্রথম বেলাটা কেটেই যায় ... । একত্বের জোড়, টান, মোহ। চেনার, জানার পর এখনও কোথায় তুই? নদী, আবার এক হবি।আবার শুণ্য...! আবার দুই। আমার তুই!
এখন দুপুর।মাথায় গনগনে সূর্য । অপর অহ্ন এগিয়ে আসছে। তোর আমার সন্ধে নেই, রাত নেই! ভোরাই হতে গোধূলী শুধু। অন্ধকারে বন্ধ দ্বারে শয়নলীলা।
আমাদের আঁধার নেই। আঁধারের আমরা আছি। ও বেচারা যে একা হয়ে পড়বে। তাই রাত আসে। অদূরের দূরত্ব আসেই।
হিয়া, একান্ত জীবনের নদী আমার ; জানি নুড়ি,পাথরের শুশ্রূষা করতে করতে আজ হয়তো আসা তোর আসা হবে না। আর। এ জীবনটাই বড় হবে ... মৃত্যু তো নয়। উদ্ধার করতে করতে এগিয়ে চলা নদী আমার ; আয় ধার বাড়িয়ে বাড়িয়ে আয়...
অন্তরের অন্তরতমে গহীনে আয়। আবার...
আয় রে নদী, আয় রে হিয়া...
আয় রে জন্ম, জন্মান্তর আমার।
কঠিন কঠোর তীরের, আঁচলে ঘেরা তরল কোমল হিয়ার নদী আমার!
সময়কে খেলতে দে ... ওই অনিত্য, ওই খেলনা... ওটা ওকে নিজেকেই বুঝতে দে।
ততক্ষণ সঙ্ঘারামের ঘন্টার গায়ে তোর কথা, তোর সংলাপই লিখে চলি ... তোর লিপি, তোর অলঙ্করণ! তোর বাহু, তোর ওষ্ঠ, তোর আলিঙ্গন ...
বছরভর চেষ্টা করে এই পাহাড়ী উপত্যকাটায় নিজেকে নিয়ে আসতে।পান্থ। প্রায় সুষুম্ন পথ বেয়ে তার এই চূড়োর কাছে বেশ ভালো লাগে। পরম চড়াই। স্থানটা চূড়ান্ত শৃঙ্গ নয়। আরও কিছু পথ চরম দুর্গম ট্রেক করে পৌঁছলেই আকাশের উদার উদ্বাহু আশ্রয়ে মিশে যাওয়া যায়। যার পরে এ জন্মের তরে আর কোনও যাত্রা নেই। যেতে পারেই। তবু, এখান অবধি পৌঁছতে; থাকতে ।বাঁচতে, টিকে থাকতে তার বড় ভালো লাগে। এটুকুই টান... মোহন মোহমাত্র তার। সে জানে এর পরই পরম শূণ্য ; শেষতম আশ্রয় এ প্রাণের।
আজও হয়তো হিয়ার আসা হয়ে উঠবে না ; তবু। একটা সময় অবধি। আসন্ন আকীর্ণ আঁধার অবধি সে এই নিবিড় নির্জনতম সঙ্ঘারামে মুহুর্ত গুলোকে... তাদের গায়ে লেগে থাকা গ্লানি গুলোকে ঝরতে দিয়ে যাবে। যাবেই। হিয়া তার অজোড় হৃদয়ের একান্ত জোড়। তার না আসাটাও আজ নিশ্চিত। হয়তো। তবু চরম শুণ্যে যাবে না। যাওয়া যাবে না।
এ উচ্চ আশ্রয় থেকে প্রায় বোঝা যায় হিয়া কোথায় আছে। রক্ত, মাংস, শিরায়, শ্বাসে, প্রশ্বাসে...! আছে। আজ দিন শেষে অসুষুম্ন উতরাইতে নেমে যাওয়ার পর দূরত্ব কমবে। আবার। জট বাড়বে। ও যখন আমার বুকের ওপর মুখ গুঁজে ক্রমে ক্রমে আরও গহীনে ডুবতে ডুবতে শূণ্য হবে। শুষে নেবে সঅব অস্থিরতা, আশ্লেষ। এক হয়ে যাবো। ক্রমে শূণ্য। আবার। বারবার। জন্ম, পুনর্জন্ম।
আবার ছাড়িয়ে আলাদা হয়ে। নবজন্ম। নবজাতক নিজেদের মতো বয়ে... এক একটা নদ-নদী হয়ে।সাগরে লীন হবো। আবার জন্ম। মৃত্যু এখানে চরম অসত্য।নিভে যাওয়া আছে। উবে যাওয়া নেই।... দুই, এক, শুণ্য ... আর শূণ্য... এক... দুই!
হিয়া, এখনও তুই কই?কোথায়? দুয়ের জীবন শেষে... নতুন পরিধান। একের, শূণ্যের। দ্বিচির এ জীবনে কোথায় ক্ষীণতর একটা জোড় জেগে আছে বুঝতে; প্রতি জনমের প্রথম বেলাটা কেটেই যায় ... । একত্বের জোড়, টান, মোহ। চেনার, জানার পর এখনও কোথায় তুই? নদী, আবার এক হবি।আবার শুণ্য...! আবার দুই। আমার তুই!
এখন দুপুর।মাথায় গনগনে সূর্য । অপর অহ্ন এগিয়ে আসছে। তোর আমার সন্ধে নেই, রাত নেই! ভোরাই হতে গোধূলী শুধু। অন্ধকারে বন্ধ দ্বারে শয়নলীলা।
আমাদের আঁধার নেই। আঁধারের আমরা আছি। ও বেচারা যে একা হয়ে পড়বে। তাই রাত আসে। অদূরের দূরত্ব আসেই।
হিয়া, একান্ত জীবনের নদী আমার ; জানি নুড়ি,পাথরের শুশ্রূষা করতে করতে আজ হয়তো আসা তোর আসা হবে না। আর। এ জীবনটাই বড় হবে ... মৃত্যু তো নয়। উদ্ধার করতে করতে এগিয়ে চলা নদী আমার ; আয় ধার বাড়িয়ে বাড়িয়ে আয়...
অন্তরের অন্তরতমে গহীনে আয়। আবার...
আয় রে নদী, আয় রে হিয়া...
আয় রে জন্ম, জন্মান্তর আমার।
কঠিন কঠোর তীরের, আঁচলে ঘেরা তরল কোমল হিয়ার নদী আমার!
সময়কে খেলতে দে ... ওই অনিত্য, ওই খেলনা... ওটা ওকে নিজেকেই বুঝতে দে।
ততক্ষণ সঙ্ঘারামের ঘন্টার গায়ে তোর কথা, তোর সংলাপই লিখে চলি ... তোর লিপি, তোর অলঙ্করণ! তোর বাহু, তোর ওষ্ঠ, তোর আলিঙ্গন ...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন