মেঘলা সপ্তক


নিজের কাছে ফেরার কোনও গল্প হয় না ;
এ ফেরা শোভাযাত্রাহীন। অগৌরব।
পাথরচাপা বোবা বেদন ছাড়া
আর কিচ্ছু থাকে না সঙ্গে ...!

 হেথা নিঃসঙ্গতাই বড় সঙ্গী।



এ এক অভূতপূর্ব
বিচ্ছেদ...
"দীর্ঘদিবস দীর্ঘরজনী' খুব কাছে থাকবো ;
তবু, একটুও পাশে থাকবো না!

না বিরহ, না মাথুর
কী মধুর এ আমৃত্যু দহন
ধূপের মতন ...

ভস্ম হতে পঞ্চভূতগামী
অন্তিম অমোঘ একান্ত আশ্রয়
ভালো এক বাসা আমার।



কিছু দুঃখ আছে
যা ছাড়া সত্যিই বাঁচা যায় না।
যার উদ্বোধন আছে নির্বাপন নেই।
 দুঃখ যদি না কাঁদায় ,
ভালো বাঁচতে না শেখায়
সে আর দুঃখ কিসের!
একে ছেড়ে কোথা যাই বলো তো!



''সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী; ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার ,"

আর ভার্চুয়াল দুঃখবিলাসের পোস্টার ।
আমার।


যে নিভৃত অশ্রুপাত
অন্য তীরে স্বর্গকে সত্যে সৃজন করে;
প্রভু, সে আনন্দধারায় ঝরাও
ঝরাও আমায় আমরণ!



আর কোনও কথা নেই
ভাব, ভাবনা কাজ নেই ...

নেই কোনও খেজুরে আলাপ ,
চাতকী-জীবন
বা গোরোমন্থন...

ভালো বাঁচা শুধু।
এ শুধু ডানার দিন,
এ লগন ডানা ভাসাবার,
তোমার।



শ্রীকৃষ্ণের মনোমন্থনের পর
পদাবলীর মৃত্যু হইয়াছে...।

ইহার অভিসার, বিরহ, মাথুর
মান,আক্ষেপানুরাগ, প্রেমবৈচিত্ত্য...
প্রায় কিছুই লেখাও ছিলনা...

অতএব এ মরণ শ্যামময়...
কোনও ক্ষতি বা খেদ নাই।

কেননা
 পুং বা পিতাকে কখনও কাঁদিতে নেই ;
 উহারা অক্ষম জন্তুই বটে।


ঝড়
কেউ আটকাতে, আগলাতে পারেনা
পারেনি কখনও।
ঝড়ের নিজেরও ক্ষমতা আছে কী!

যথাসাধ্য সহায়, সম্বিৎকে দূরে
রাখার চেষ্টা ছাড়া
খড়কুটো মানুষ আর কীইবা পারি?

ঝড়ের সামনে নিজেকে আগলাবার
একবিন্দুও চেষ্টা করিনি,

অসম্ভবের সাধনায় কী ফল!



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০