দেবীপক্ষ


যুগে যুগে কালে কালে
যতবার চাওয়ার সীমা লঙ্ঘন ...
ততবারই ক্লেদাক্ত কষ্টের জন্ম হয়েছে।

এবার অবশ্য একটু আলাদা
অবজ্ঞা যুক্ত হয়েছে। লটবহরে।

যে মানুষ অপমান বোঝে না...
তাকে নির্লজ্জ, বেহায়া বলে
কতটা বোঝানো যায়!

প্রখর অসংযমের দুর্দান্ত দান সব!



কতটা তুচ্ছ আমি।
সবচে' ভালো জানো তুমি ।
তবু কেন লেগে আছো
কিম্বা, নিজেকে ঝুলিয়ে রেখেছো
আলগোছে! মহুঁ পাত্র কিনারে।
নিজেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছো না কেন?
এ ভদ্রতা না ক্রীড়াচ্ছল?

নাকি ইচ্ছেবিলাস?
তোমার খুশিতে আমি খুশি
 নাহয়ে কী পারি!
খেলো ,খেলো প্রিয়ে খুশির খেলন!



অবশেষ পড়ে থাকে
বুকের ওপর দিয়ে
শেষের হেঁটে যাওয়ার পরেও ...

আজ কিছুই নেই । আর।
তবু সম্পর্কের শব আঁকড়ে
পড়ে থাকা মানুষটার
নাম কিছু ভেবে রেখেছো?

গাধা?
ভালো। রাধার সাথে
বেশ মেলে ভালো!


তুমি দেবী। এ মানি।
সারণীতে মাধুকরী পাত্র হাতে
আমাকে এক হতভাগ্য জনৈক সংখ্যা
বলার অবলীলা শক্তি
তোমার আছে।

সহ্যের অবাধ্য আঁচল
কেন যে বাগ মানে না...
ক্ষমো দেবী, ক্ষমো মোরে !


কতটা তোমার আমি?
জানার ইচ্ছে কখনোই ছিল না।
আজও নেই ...

কণামাত্রও ছুঁতে পারিনি
গহিনে তোমায়...
এ নিষ্ফল-পত্র হাতে
নির্জন দিগন্তে নিবদ্ধ আছি শুধু...

প্রলয় আসে নি এখনও।
এখনও বেঁচে আছি!


ঝড় ছাড়া ঝরে যাওয়ার
আর কোনও পথ থাকে না
কারও কারও।

পার্থিব যত বিপর্যয় ঘটে ঘটুক।
আলিঙ্গনের বদলে
 ঝড়ই আসুক...

জুড়ে থাকাই জীবন!
স্বেচ্ছামৃত্যু নাই বা চাইলাম।



কথা হচ্ছিল জ্যান্ত সব
গাছপালা, মাটি, আলুথালু বাতাস
আর অঞ্জলিকৃত জল নিয়ে!
তুমি আমি দুজনে ছিলাম
এ আলোক-চলনায়!

হঠাৎ দেখি অস্মিকৃত
চিত্রগত সব...
 হৃদয়ে প্রস্তর আগ্রাসন ধেয়ে আসছে ...
অশ্রুকে জীবন দেওয়ার মত
আর দ্রুপদী-আঁচল টিকে নেই ।

আকাশগঙ্গায় তোমার স্মিতির ঊষা!





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেমানুষ মেঘেদের স্তবগাথা

প্রলাপ-পঞ্চক

বোধি-বিন্দু ১০